শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

এবার পশ্চিম তীরে শুক্রবারের আজান নিষিদ্ধ করল হানাদার ইসরাইল!

১০ এপ্রিল, পার্সটুডে, মিডল ইস্ট আই : ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইব্রাহিমী মসজিদে শুক্রবারের আজান নিষিদ্ধ করেছে ইসরাইলি কতৃপক্ষ, এ খবর জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী ইউসুফ আদায়স। আদায়স এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তকে ‘একটি বিপজ্জনক উদাহরণ’ এবং ‘ইবাদতের স্বাধীনতার ওপরে কাপুরুষোচিত হস্তক্ষেপ’ বলে অবহিত করেছেন। মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘মসজিদটির বিরুদ্ধে ইসরাইলি দখলদার কতৃপক্ষ ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের এমন অব্যাহত আইন লংঘনের ঘটনা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তারা মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ওপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে, রমজান মাসের এক সকালে ২৯ জন ইবাদতরত মুসলমানকে গুলি করে হত্যা করে ইসরাইলি-আমেরিকান ইহুদি বারুক গোল্ডস্টেইন।

তখন থেকে, ইসরাইল মসজিদটিকে বিভক্ত করে রাখে। মসজিদের ৪৫ শতাংশ জায়গা মুসলমানদের জন্য রেখে ৫৫ শতাংশ জায়গা ইহুদিদের থাকার জন্য দখল করে নেয় ইসরাইল। বিশ্বাস করা হয় যে, এই মসজিদটি নবী হজরত ইব্রাহিম (আঃ) এর রওজা মোবারককে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে, ইহুদি ও ইসরাইলি সৈন্যরা মসজিদের মুসলিম অংশে সশস্ত্র অবস্থায় বুট পড়ে প্রবেশ করে।

ইব্রাহিমী মসজিদটি পুরাতন জেলা শহর হেব্রনে অবস্থিত, যেখানে প্রায় ৪০০ জন অবৈধ ইহুদি বাসিন্দা প্রায় দেড় হাজার জন ইসরাইলি সৈন্যের সুরক্ষায় বসবাস করছে।

অন্যদিকে গাজা উপত্যকার ওপর থেকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে গণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

গত সোমবার ইসরাইল সীমান্তে একটি প্রতিবাদ শিবিরে দেয়া বক্তৃতায় ইসমাইল হানিয়া এই ঘোষণা দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনে ফিরব, আমাদের গ্রাম ও বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে ফিরব।’ হামাস নেতা বলেন, ‘যদিও আমরা চলমান ‘মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচি নিয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহ পার করেছি এবং শান্তিপূর্ণ ও জনপ্রিয় এই আন্দোলনের অনেক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে তবু তা এখনো শুরুর পর্যায়ে রয়েছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘প্রয়োজন হলে হামাস আবার ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে প্রস্তুত রয়েছে।’

গত ৩০ মার্চ ফিলিস্তিনের ভূমি দিবস উপলক্ষে গাজা সীমান্তে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সেনারা গুলি চালালে ২০ জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি শহীদ হন। এরপর গত শুক্রবার একই ধরনের কর্মসূচিতে ইহুদিবাদী সেনারা গুলি চালিয়ে ১০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। এ নিয়ে সারা বিশ্বে ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে নানামুখী সমালোচনা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ