রবিবার ১৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

চলতি মওসুমে বোরোর রেকর্ড পরিমাণ আবাদ॥ বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা 

এফ.এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিগত কয়েক বছর পর চলতি বোরো মওসুমে রেকর্ড পরিমাণ ৩৮ হাজার ৪৩ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ৯৬৭ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের এবং ৪ হাজার ৭৬ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড জাতের ধান আবাদ হয়েছে। আবহাওয়াসহ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে কৃষি বিভাগ প্রত্যাশা করছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে- চলতি মওসুমে জেলার সদর উপজেলায় উফশী জাতের ৬ হাজার ৮৯০ এবং হাইব্রীড জাতের ৭৩০ হেক্টরসহ সর্বমোট ৭ হাজার ৬২০ হেক্টর জমি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় উফশী জাতের ১১ হাজার ৩৫২ এবং ৬৯৬ হেক্টর হাইব্রীডসহ সর্বমোট ১২ হাজার ৪৮ হেক্টর জমি, দামুড়হুদায় উপজেলায় উফশী জাতের ৯ হাজার ৫০ হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের ৬৫০ হেক্টরসহ সর্বমোট ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি এবং জীবননগর উপজেলায় উপসী জাতের ৬ হাজার ২২৫ হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের ১ হাজার হেক্টর জমিসহ  জেলাতে সর্বমোট ৩৮ হাজার ৪৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। 

চুয়াডাঙ্গা জেলাতে বেশ কয়েক বছর ধরে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করে একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি অপরদিকে ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে কাক্সিক্ষত বাজার দর না পেয়ে এ আবাদ থেকে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ভূট্টা,সবজিসহ নানা ফসলের আবাদে ঝুঁকে পড়েছিল। যে কারনে গত ২০১০-২০১১ থেকে শুরু করে বিগত মওসুম পর্যন্ত জেলায় ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও অর্জনের চিত্রে দেখা গেছে, সাত বছরে উপজেলায় ইরি-বোরোর আবাদ ক্রমশ কমেছে। কিন্তু গত বছর থেকে ধানের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষীরা নতুন করে আবার ইরি চাষে ঝুঁকে পড়েছে। চাষীরা জানিয়েছে, ইরি-বোরো আবাদে কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে সেচ, লাঙ্গলের খরচ ও শ্রমিকের মজুরী। ফলে এ আবাদ করে লাভবান না হতে পেরে ভূট্টা, সবজিসহ অন্যান্য ফসলের আবাদে তারা ফিরে গিয়েছিল। তারা আরোও জানান, বর্তমানে ভেজাল বীজ, সার ও কীটনাশকে এলাকার বাজার সয়লাব। এসব কৃষিপণ্য কিনে কৃষকরা প্রায়ই প্রতারিত হলেও এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগসহ সংশি¬ষ্টদের কোন মাথাব্যথা লক্ষ্য করা যায় না। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ