শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মিয়ানমারে আটক সাংবাদিক বিশ্বাসঘাতকতা করিনি

৭ এপ্রিল, রয়টার্স : মিয়ানমারে বিচারাধীন রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের আইনজীবীরা আদালতকে বলেছেন, সরকারি নথি গোপনে হস্তগত করার যে অভিযোগ ওই দুই সাংবাদিকদ্বয়ের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তার সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। তাছাড়া পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপের প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ। তাই সাংবাদিকদ্বয়ের মুক্তি পাওয়া উচিত। শুনানি শেষে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের হয়ে কাজ করা মিয়ানমারের ওই দুই সাংবাদিক বলেছেন, তারা তাদের দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তারা সাংবাদিক হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র। ১০ রোহিঙ্গাকে গুলি করে মেরে ফেলার ঘটনা বিশ্ববাসীর নজরে আনার প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি নথি গোপনে হস্তগত করার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। 

আটক সাংবাদিকদ্বয়কে অভিযুক্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করা হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ইয়াঙ্গুনের একটি আদালতে গত জানুয়ারি মাসে প্রাথমিক শুনানি শুরু হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী ওয়া লোন এবং ২৮ বছর বয়সী কিয়াও সোয়ি উয়ের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক আমলের শত বছরের পুরাতন আইনে বিচার চলছে। ওই আইনে সরকারি তথ্য চুরির অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ১৪ বছরের কারাদ-ের কথা বলা আছে।

শুনানিতে বিচারক ইয়ে লুইনের আদালতে সাংবাদিকদের পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, সরকারি নথি গোপনে হস্তগত করার অভিযোগের সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারা, সাক্ষীদের দেওয়া সাক্ষ্যে গড়মিল থাকা, গ্রেফতার ও তল্লাসির ক্ষেত্রে যথাযথ বিধি না মানার মতো ঘটনা ঘটায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ নেই। তাই তাদের যেন মুক্তি দেওয়া হয়। আদালত বুধবারের মতো শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেছে। পরবর্তী শুনানির তারিখ ১১ এপ্রিল।

শুনানি শেষে বিবাদী আইনজীবী খিন মং জা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য পরীক্ষার পর এ পর্যায়ে এটা বলা যতে পারে, তাদের সাক্ষ্যে তেমন কোনও কিছুই পাওয়া যায়নি। সুতরাং ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন না করে তাদের মুক্তি দেওয়া উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ