বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

বদরগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিসে গ্রাহক ভোগান্তি চরমে 

 

রংপুর অফিস: রংপুরের বদরগঞ্জের সেটেলমেন্ট অফিসে গ্রাহক হয়রানী চরমে পৌঁেছছে। শুধু হয়রানিই নয়, সেখানকারকার পেশকারসহ অন্যান্য কর্মচারী ও দালালদের হাতে প্রতিনিয়তই গ্রাহকদের লাঞ্ছিত করাও হচ্ছে। এ ধরনের বেশ কিছু বিষয় নিয়ে ভুক্তভোগিরা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এদিকে একজন প্রধান শিক্ষককে পেশকার কর্তৃক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে দেয়ার ১০ দিনেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। 

 রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া লিখিত অভিযোগ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল হক লোহানী তার নিজ নামীয় ৮৫১ খতিয়ানে ৯ একর ৭৬ শতক জমির চূড়ান্ত প্রিন্ট পর্চা সরবরাহ করেন উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত পেশকার আইয়ুব আলী সরকার। অপরদিকে ওই একই জমির দাগ ঠিক রেখে নতুন খতিয়ান খুলে জমির মূল মালিক নূরুল হক লোহানীর ৯ একর ৭৬ শতক জমির মধ্যে এক একর ৮৫ শতক জমি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রতিবেশী নূরুল হুদা লোহানীর নামে রেকর্ড করে পর্চা সরবরাহ করেন পেশকার আইয়ুব আলী। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে গত ১৭ মার্চ জমির মালিক প্রধান শিক্ষক নূরুল হক লোহানী সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার বিশ^জিৎ কুমার কু-ুর কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ দায়েরের অপরাধে ওই অফিসেই সেটেলমেন্ট অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার কুন্ডের উপস্থিতিতে পেশকার আইয়ুব আলী, তার স্ত্রী হ্যাপী, দালাল পৌর আওয়ামীলীগের নেতা বাদশাহ লোহানীসহ অন্যররা ওই প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন। তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন। এসময় প্রধান শিক্ষকের সাথে ছিলেন লোহানী পাড়া ইউনিয়নের২ নং ওয়ার্ডের সদস্য শামীম লোহানী ও আইনজীবি মোস্তফা বাবু। এ ঘটনায় তারা হতবাক হয়ে যান। 

 ভুক্তভোগি প্রধান শিক্ষক নুরুল হক লোহানী জানান, ভারপ্রাপ্ত পেশকার আ্ইয়ুব আলী আমাকে সেদিন যেভাবে লাঞ্ছিত করেছেন তা সভ্য সমাজে হতে পারে না। শুধু তাই নয়, আইয়ুব আলীর দালাল বাদশাহ লোহানী আমাকে পুলিশে দেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। ঘটনার পরের দিনই ১৮ মার্চ জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারকে লিখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু ১০ দিনেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। তিনি বলেন, আইয়ুব আলী এখানে প্রায় দুই যুগ ধরে চাকুরি করছেন। তিনি এখানে ধরাকে সরা জ্ঞান করে অফিস চালাচ্ছেন। দুর্নীতি অনিয়মের কারনে এখানে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ওনার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত লোহানী পাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য শামীম লোহানী  জানান, সেদিন পেশকার আইয়ুব যেভাবে একজন শিক্ষককে তার অফিসারের সামনে আমাদের সামনে হামলা ও গালমন্দ করেছে তা খুবই দু:খজনক। পেশকার আইয়ুব আলী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই এ ধরনের আচরণ করেন তিনি। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না। এতে সাধারণ মানুষের হয়রানি যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনি ওই অফিস সম্পর্কে মানুষের খারাপ ধারনাও বাড়ছে। এ ব্যাপারে কয়েকজন দলিল লেখক জানান, চাকরীবিধি উপেক্ষা করে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে তিনি এখানে চাকরি করায় তিনি কাউকেই মুল্য দেন না। দলিল লেখকদের সাথেও তিনি সব সময় খারাপ আচরণ করেন। এ ব্যপারে সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত পেশকার আইয়ুব আলী সরকার জানান, প্রধান শিক্ষক সাহেব যে অভিযোগ করেছে তার সাথে আমি জড়িত নই। এটা তদন্ত হবে, তারপর দেখা যাবে কি হয়। এছাড়া সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের উপস্থিতিতে ওই কক্ষে তাকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। একই জায়গায় দীর্ঘ দিন চাকরীর বিষয়ে তিনি জানান, আমার স্ত্রী ওখানে চাকরি করে। সেই সুবাদে আমি ওখানে বসবাস করি। কিন্তু আমি বিভিন্ন জায়গায় চাকরী করেছি। এব্যপারে সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা বিশ^ঞ্জিৎ কুমার কু-’র বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে(০১৭২৪১৬১৩৮৪) একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায় নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ