বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

চলনবিলে রসুনের ফলন বিপর্যয় : দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা 

ঋণ পরিশোধে কাঁচা রসুন বিক্রি

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ চলনবিলে এ  বছর রসুনের  ফলন বিপর্যয় হয়েছে।  দামকম হওয়ায়  কৃষকরা  দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিলের পর বিল রসুনের আবাদ। এ মৌসুমেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। অন্তত সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে এই আবাদ হয়েছে। কেবল উৎপাদন আর দামেই দেখা দিয়েছে সংকট। বিঘায় উত্পাদন হয়েছে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ মণ হারে। যার বর্তমান বাজার মূল্য মণপ্রতি ৪শ’ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা। রসুনের ফলন বিপর্যয়ের এ মৌসুমে দাম কম হওয়ায় রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র-প্রান্তিক চাষিরা। অনেক কৃষক শুধু রসুন আবাদের জন্যই চড়া মূল্যে জমি বর্গা (লিজ) নিয়ে আবাদ করেছেন। রসুুনের প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেসব চাষি নিঃস্বপ্রায় হয়ে পড়েছেন।

কৃষকরা জানান, কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায়, বেড়েছে উত্পাদন খরচ। খরচের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শ্রমিকের মজুরি। কেবল বাড়েনি কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলের মূল্য। এ মৌসুমে বীজ বাবদ ৯-১০ হাজার, সার-কীটনাশক বাবদ ৫ হাজার, নিড়ানী বাবদ ২ হাজার, সেচ বাবদ দুই হাজার টাকা এবং রসুন উঠানো বাবদ শ্রমিক খরচ হয়েছে চার হাজার টাকাসহ কৃষকের সার্বিক ব্যয় হয়েছে ১৮-২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষিদের একবিঘা জমিতে (বর্গা) লিজ বাবদ ১৪ হাজার টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে। এতে প্রতি বিঘায় সার্বিক ২৫-৩৩ হাজার টাকা ব্যয়ে রসুন উৎপাদন হয়েছে ১০-২৫ মণ হারে। অধিক খরচে রসুন আবাদ করেও আশানুরূপ ফলন হয়নি।

সরেজমিনে উপজেলার চাঁচকৈড়, নয়াবাজার ও নাজিরপুরসহ আশপাশের অন্তত ১০টি হাট ঘুরে দেখা গেছে, দাম কম হওয়া সত্ত্বেও বহু কৃষক তাদের উত্পাদিত রসুন নিয়ে হাটে এসেছেন। কৃষকরা কেউ কেউ রসুন বিক্রির টাকায় শ্রমিকের মজুরি দেবেন। আবার অনেক কৃষক ঋণ পরিশোধসহ প্রয়োজনের তাগিদে লোকসান মেনে নিয়েই কাঁচা ভেজা রসুন বিক্রি করছেন। কৃষকদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির ব্যবসায়ী কম দামে রসুন কিনে তা মজুত করছেন। গত এক সপ্তাহে উপজেলার চাঁচকৈড়, নয়াবাজার, নাজিরপুর, কাছিকাটা, বড়াইগ্রামের মৌখারা, মানিকপুরসহ বেশ কয়েকটি হাট পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে এসব হাটে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা দরে রসুন বিক্রি করেছেন কৃষক।

কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে নাটোরের সাতটি উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অধিক রসুন চাষ করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ফলন কম দেখা যাচ্ছে। বর্ষার পানি দেরিতে নামায় কৃষকের রসুন চাষে কিছুটা বিলম্ব হয়। সে সময় বৃষ্টিপাতের কারণে রসুনের ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। 

তা ছাড়া কাঁচা ভেজা রসুন বিক্রির ফলে বর্তমান সময়ে রসুনের দাম কম যাচ্ছে। দাম না বাড়লে কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ