সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে ৬০ লক্ষ নগরবাসীকে মুক্তি দিন

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বহদ্দারহাট এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে চাক্তাই খাল পাড়ে চট্টগ্রাম গণ-অধিকার ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ৩ ঘণ্টাব্যাপী এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

 উক্ত কর্মসূচিতে চগঅফো’র কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ জাহঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে যুগ্ম সম্পাদক জাফর আহমদ ও দিদারুল আলম দিদারের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজিএমই ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চগঅফো’র কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব সাবেক ছাত্রনেতা রাজনীতিবিদ এম.এ.হাশেম রাজু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চগঅফো’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ আবু মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবু জাফর চৌধুরী। 

বক্তব্য রাখেন, চগঅফো’র কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য আলহাজ্ব এস.এম. আবদুল মাবুদ, আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ, বাকলিয়াবাসীর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর দোস্ত মোহাম্মদ, এস.এম. নুরুল আলম, জানে আলম, পশ্চিম বাকলিয়া ও পূর্বষোলশহরের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন হাজী আবুল বশর, সমাজসেবক মোহাম্মদ ইউসুফ, নুরুন্নবী, চান্দগাঁও ওয়ার্ডের পক্ষ থেকে যুবসমাজের পক্ষ থেকে যুবনেতা ওমর ফারুক, শাহেদুল আলম শাহেদ, এস.এম. মামুন, মোহাম্মদ শাহজাহান, মোঃ জয়নাল, ইলিয়াছ বাবুল প্রমুখ।

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ এরশাদ উল¬াহ বলেন, জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে ৬০ লক্ষ নগরবাসীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের কাজগুলো আপনি নিজ হাতে পরিচালনা করে মুক্তি দিন। প্রভাবশালীদের দখলে থাকা চাক্তাই খালসহ ছোট-বড় ৫৭টি খাল বর্ষার আগে উদ্ধার করে দ্রুত গতিতে মাস্টারপ্লান অনুসরণ করে খনন করা হলেই হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা পাবে এবং দুর্নীতিও বন্ধ হবে। 

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চগঅফো’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব এম এ হাশেম রাজু বলেন, ইতিপূর্বে (চসিক) অপরিকল্পিতভাবে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে যে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, তা যদি মাস্টারপ্লানে করা হতো তাহলে সেইদিন অল্প বৃষ্টিতেই জনসাধারণের চলাচলের অযোগ্য হত না। সারাবছর জোয়ারের পানিতে হালিশহর আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকার জনসাধারণ ময়লা নর্দমায় বসবাস করে আসছে। অথচ সিডিএ’র চেয়ারম্যান ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয় চোখে না দেখার ভান করে বছরের পর বছর নিরব থাকেন। নগরবাসীর ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন। জনগণকে বিস্ফোরণমুখী করবেন না। সভাপতির বক্তব্যে চগঅফো’র কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান প্রাবীণ রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ জাহঙ্গীর আলম বলেন, সময় বেশি দিন নেই, বিগত এক বছর ধরে সরকার বাহাদুর ও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের নিকট আমরা চট্টগ্রাম নগরবাসীর বসবাসের উপযোগী সুন্দর নগরী গড়ে তোলার জন্য বহু আবেদন নিবেদন করেছি, কিন্তু এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মহোদয়ের কানে পানি যায় নাই। একে অপরকে দোষারূপের রাজনীতি বন্ধ করুন। দয়াকরে আর সময় ক্ষেপণ করবেন না। নগরবাসীর সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন তা পূরণ করুন। অন্যথায় স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে উচিত জবাব দেবে। নগরপিতা নির্বাচনী ইতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলেন দায়িত্ব পাইলে হ্যালদী সিটি, মেগা সিটি, গ্রীন সিটি উপহার দেবেন। তিন বছর চলে গেলে অথচ প্রাচ্যেররাণী বন্দর নগরী চট্টগ্রাম আজ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আজ ধূলি বালি মশার কামড়ে নগরবাসী অতিষ্ঠ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ