সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

আমরা গণতন্ত্রের লড়াই করছি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয় ----গয়েশ্বর

স্টাফ রিপোর্টার : সদ্য কারামুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে বন্দী করেছে সুতরাং রাজনৈতিকভাবেই তাকে মুক্ত করা আমাদের প্রয়োজন। আমরা বেশিদিন শুধু খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে আমাদের রাজনীতি সীমাবদ্ধ রাখবো না। সময় এসেছে আজকে এই সরকারের পতন নিশ্চিত করা। অন্যদিকে সদ্য কারা মুক্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই আমাদেরকে চূড়ান্ত বিজয়ের রাস্তা দেখাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক দৃটি স্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তারা এসব কথা বলেন। এরমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাবু গয়েশ্বর আর নিজ বাসায় কথা বলেন শামছুজ্জামান দুদু। 

বাবু গয়েশ্বর বলেন, এই সরকারের পতন হলে খালেদা জিয়াও মুক্তি পাবেন জনগণও মুক্তি পাবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং জনগণের মুক্তি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে  জড়িত। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবার আন্দোলন একই সূত্রে গাথা।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দী রাখা যাবে কিন্তু তিনি যে চেতনা লালন করেন সেই চেতনার কোনোদিন মৃত্যু হবে না। আমরা যারা খালেদা জিয়ার অনুসারী আছি দীর্ঘদিন তাঁর নেতৃত্বে পাশে আছি আমাদের মধ্যেও সেই চেতনাবোধ অঙ্গিকার প্রতিশ্রুতি আছে। আমরা গণতন্ত্রের লড়াই করছি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। সেই গণতান্ত্রিক লড়াইেেয় ক্ষেত্রে যারা বাধা তারা গণতন্ত্রের শত্রু। গণতন্ত্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আমাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই অধিকার আদায় করার ক্ষেত্রে অথবা সেই অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে আমরা অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হই কিন্তু এটাকে আমরা আবার অতিক্রমও করি, কারণ জনগণের সমর্থন আছে। জনগণের সমর্থন আছে এ কারণে জনগণ যা চায় বিএনপিও সেটাই চায়, জনগণ যা চায় সেটা খালেদা জিয়া চায়। খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে বা দলের কোনো স্বার্থে লড়াই করছেন না, সেই কারণে জনগণও ঐক্যবদ্ধ আছে।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে এতো হামলা মামলা, তারপরও কিন্তু তাদের একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করার সৎ সাহস নেই। তাদের অনেকেই হয়তো মনে করছে বিএনপি শেষ কিন্তু বিএনপি শেষ হতে পারে না। আওয়ামী লীগের অত্যাচার নির্যাতন, অগণতান্ত্রিক শক্তির নির্যাতন যতো বাড়বে ততো গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হবে এবং তাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে এটাই কিন্তু স্বাভাবিক।

গয়েশ্বর বলেন, কারাগারে বসে আমার সবচেয়ে যে বিষয়টি ভাল লেগেছে চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে আমাদের দলের যে ইউনিটি এটাই সফলতার পূর্ব লক্ষণ। আমরা সফল হবো কারণ আমাদের আন্দোলন বিএনপির স্বার্থের জন্য না। আমরা জানি বর্তমান সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের হতে দেবে না। আমি কথাটি স্পষ্ট বলছি সরকার আমাদের নেত্রীকে বের হতে দেবে না, কারণ এখানে আদালতের কিছু করার নাই। ইতোমধ্যে আদালত সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। 

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আমি সবচেয়ে বেশি মনে করি বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী, এটাই তার বড় পরিচয় নয়। তার পরিচয় একটা তিনি (খালেদা) একটা গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান এবং তার যাত্রা শুরু গণতন্ত্রের আন্দোলন দিয়ে। এখনও তিনি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য সংগ্রাম করছেন, যেখানে তিনি কখনও আপোস করেননি, সেই সাথে এটাও বিশ্বাস করি ভবিষ্যতেও তিনি আপোস করবেন না। সংজ্ঞত কারণেই তার এই আপোসহীন মনোভাবের সাথে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী একই চেতনা নিয়ে তারা রাজনীতি করছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করছে। তার এই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি বৈশিষ্ট তিনি সাচ্ছা জাতীয়তাবাদী দেশ প্রেমিক।

দেশের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি, দেশের স্বার্থ বিনষ্ট হোক এই বিষয়ের ওপর তিনি কখনই আপোস করেননি। তিনি দেশটাকেই বড় করে দেখেছেন এবং কখনও কখনও তিনি বিএনপির স্বার্থ না দেখে দেশের স্বার্থটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। সে কারণেই বলছি খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির একটা প্রতিষ্ঠান। জনগণ ভোট দিতে পারলে নৌকার মার্কা খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটা আমার চেয়ে ভাল জানে যিনি সরকার চালাচ্ছেন তিনি। 

এদিকে সদ্য কারামুক্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ মানুষ যে কতো বড় শক্তি সেটি ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৯০’র গণঅভ্যুত্থান এগুলো আমাদের ইতিহাসে জ্বল জ্বল করে আছে। গতকাল দুপুরে তার নিজ বাসায় নেতাকর্মীদের ফুলের শুভেচ্ছা পাওয়ার পর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন,শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সবকিছুরই প্রাথমিক পর্যায়। এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই আমাদেরকে চুড়ান্ত বিজয়ের রাস্তা দেখাবে এবং আমরা সফলতা পাব। অস্ত্র নিয়ে লড়াই করা খুব সহজ কিন্তু অস্ত্র ছাড়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন যতো কঠিনই হোক এটিই বাস্তবমুখী।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে জেলখানার বাইরে ও ভেতরের বাংলাদেশকে আলাদা করার খুব একটা সুযোগ আছে বলে মনে হয় না বরং জেলখানায় যারা আছে তারা নিরাপদে আছে। যারা রাস্তায় হাটে, অফিসে থাকে, শিক্ষাঙ্গনে থাকে, শিল্পাঞ্চলে থাকে তারা কতটুকু নিরাপদ? তারাই সেটা ভালো বলতে পারবে।

সদ্য কারামুক্ত এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ একটা যুদ্ধ করা জাতি। যে দেশে ৩০ লক্ষ লোক প্রাণ দিয়েছে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য, অধিকার পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য, সেই দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের জন্য জেল খাটতে হবে আমার মনে হয় যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে রক্ত দিয়েছেন তারা কেউ ভাবতে পারেনি। যারা ৭১’র রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে জীবন দিয়েছেন আমার মনে হয় তারা কখনও এ বিষয়টি ভাবতে পারেনি।

শাসক দলকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ, শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থেকে সরকার এবং বিরোধী দল মিলে কি করে আগামী দিনে একটি ফয়সালামুলক দিকে আগাতে পারি সে ভাবনাটা সরকারের ভাবা উচিত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা শরীফুল ইসলাম শরীফ, ফেরদৌস হাসান টিটো, গোলাম সরোয়ার সরকার প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ