সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

কুমিল্লায় সড়ক, সেতু ও ওভারপাসসহ চারটি প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত Abdullah H.M. Al Mutairi ১৬ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে সে দেশের দাম্মামে আয়োজিতব্য যৌথ সামরিক মহড়া ‘‘Gulf Shield-1’’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য সৌদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজের পক্ষে আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন -পিআইডি

সংগ্রাম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুমিল্লায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের ৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পগুলো হচ্ছে- কোম্পানীগঞ্জ-মুরাদনগর- হোমনা মহাসড়ক ও গৌরীপুর-হোমনা সেতু, কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস এবং কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ওভারপাস।

একইসঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে ফোর-লেন প্রকল্পের শেষ অংশ হিসেবে ৩০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চার-লেনবিশিষ্ট কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধন করা হয়।

৩৪৪ দশমিক ১৭৫ মিটার দীর্ঘ এবং ২১ দশমিক ৬০ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট প্রকল্পটি সড়ক, পরিবহন ও জনপদ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড সম্পন্ন করেছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক ও জনপদ অধিদফতর ৬৩১ দশমিক ৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৮ দশমিক ৯ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাসটি নির্মাণ করা হয়েছে। যার নির্মাণ ব্যয় ৯৪ কোটি ৬ লাখ টাকা।

২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মুরাদনগর-হোমনা মহাসড়ক ও ১১২ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থ গৌরীপুর-হোমনা সেতুটি ৭৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপদ অধিদফতর নির্মাণ করেছে।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। আরো বক্তৃতা করেন- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন-চিফ মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম প্রকল্পগুলো সম্পর্কে অনুষ্ঠানে ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুমিল্লার প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী ৯টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে এই ৯টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামকে শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে বলেছেন, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের কাছে তুলে ধরতেই তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই শান্তি যেন বজায় থাকে সেইদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি।’

এইদেশে সকল ধর্মের মানুষ বাস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মের মানুষই এ দেশে স্বাধীনভাবে তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে। এটাই ছিল জাতির পিতার চেতনা এবং চিন্তা। তাই তিনি বলেছিলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, বরং ধর্ম পালনের স্বাধীনতা। যেটা ইসলামেরও মূল কথা। কারণ, ইসলাম ধর্ম সকল ধর্মকে সম্মান করে। বাংলাদেশ সেভাবেই একটি অসম্প্রতায়িক চেতনায় গড়ে উঠবে, আমরা সেটাই চাই।’

তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ৯টি জেলা-উপজেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রাথমিকভাবে- গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঝালকাঠি, খুলনা, বগুড়া, নোয়াখালি এবং রংপুরে এই মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিসুর রহমান প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ প্রান্ত থেকে এবং বাংলাদেশ ইমাম সমিতির সভাপতি কাজী শাকের আহমেদ চট্টগ্রাম প্রান্ত থেতে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তৃতা করেন। ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, মন্ত্রী পরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যগণ, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আলেম, ওলামা মাশায়েখ সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সৌদী যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ : সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ দেশটিতে চলমান যৌথ সামরিক মহড়া গাল্ফ শিল্ড-ওয়ানের সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমাদের সময়.কম

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

তিনি জানান, ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচএম আল মুতাইরি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সৌদি আরব ও বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানান ইহসানুল করিম। আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তরের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশসহ ২৩ দেশের অংশগ্রহণে গত ১৮ মার্চ সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে মাসব্যাপী যৌথ মহড়া গাল্ফ শিল্ড-ওয়ান শুরু হয়। আগামী ১৬ এপ্রিল দাম্মামে এর সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা এবং ব্যবহƒত সমরাস্ত্রের বিবেচনায় এ মহড়াকে উপসাগরীয় অঞ্চলে হওয়া অন্যতম বৃহৎ সামরিক মহড়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সৌদী যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ

সংগ্রাম ডেস্ক : সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ দেশটিতে চলমান যৌথ সামরিক মহড়া গাল্ফ শিল্ড-ওয়ানের সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমাদের সময়.কম

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

তিনি জানান, ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচএম আল মুতাইরি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সৌদি আরব ও বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানান ইহসানুল করিম। আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তরের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশসহ ২৩ দেশের অংশগ্রহণে গত ১৮ মার্চ সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে মাসব্যাপী যৌথ মহড়া গাল্ফ শিল্ড-ওয়ান শুরু হয়। আগামী ১৬ এপ্রিল দাম্মামে এর সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা এবং ব্যবহƒত সমরাস্ত্রের বিবেচনায় এ মহড়াকে উপসাগরীয় অঞ্চলে হওয়া অন্যতম বৃহৎ সামরিক মহড়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ