সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

শুভদের গাঁয়ে ফেরা

রুহুল আমিন রাকিব : তখন শীতকাল,স্কুলে পরীক্ষা শেষ। তাই শুভর মনে অনেক আনন্দ। অনেক দিন পরে গ্রামে বেড়াতে যাবে,

শুভরা শহরে থাকে, কাল সকালে গ্রামের বাড়িতে রওয়ানা করবে শুভ। শুভর সাথে তার ছোট্ট ভাই শান্ত যাবে গ্রামের বাড়িতে। শুভ এবার জে,এস,সি,পরিক্ষা দিলো,আর শান্ত পি,এস,সি,পরিক্ষা দিলো। কাল সকালে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাবে, এই কথা মনে করতেই খুশির আভা ঝিলিক খেলে যাচ্ছে শুভ আর শান্তর মনে। আহা! কত মজাই না হবে গ্রামের বাড়িতে, নানুবাড়ি, দাদু বাড়ি, দু'জাগাতেই এবার বেড়াতে যাবে ওরা। নানুবাড়িতে সেই যে কবে গিয়েছিলো শান্ত ঠিক যেন মনে করতে পারছে না। আচ্ছা নানুবাড়িতে সেই ছোট্ট কালো বিড়ালটা কি এখনো আছে?

বিড়ালের কথা মনে করতেই ঠোটের কোনে মিষ্টি হাসি খেলা করলো শুভর, আজ থেকে তিন বছর আগে যেদিন গ্রাম থেকে শহরে ফিরে আসছিলো শুভ, কালো বিড়াল টার সে কি কান্না, কিছুতেই শুভর পিছু ছাড়ছিলো না বিড়ালটা।

অল্প কয়েক দিনে অনেক আপন করে নিয়েছিল শুভকে। কিছুতেই যেন রাতটা কাটছে না শুভ আর শান্তর, বিছানার এপাশ ওপাশ করতে করতে এসে গেল সেই আনন্দময় মুহুর্ত, রবির আলো তখন পূর্ব আকাশে খেলা করতে শুরু করছে সবে মাত্র। শুভ আর শান্ত রেডি হয়ে নিচ্ছে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্য। ঘড়িতে তখন সকাল আটটা,এস আলম পরিবাহনে করে গ্রামের বাড়িতে চলছে শুভ আর শান্ত। মাঠ,ঘাট,সবুজ গাছ আর পিচঢালা রাস্তা পেড়িয়ে ছুটে চলছে শুভদের বাস।

পথের ধারে চোখে পড়ছে নানা রকম দৃশ্য! কৃষাণেরা মাঠে মাঠে ব্যাস্ত নানা রকম কাজে। কিছুটা দূরে কুয়াশার ঝাপসা আলোয় দেখা যাচ্ছে আঁকাবাঁকা নদী,সারি সারি সাদা বকের দলও উড়ে চলছে। শুভ আর শান্তর মতো ছোট্ট ছোট্ট ছেলেরা হাঁটু পানিতে মাছ ধরতে ভীষণ ব্যাস্ত। এই সব গ্রামের দৃশ্য দেখে বেশ ভালো লাগছে শুভ আর শান্তর।

দেখতে দেখতে বাস এসে দাড়ালো শুভ আর শান্তর নানুবাড়ির একটু দূরে, বড় রাস্তার পাশে, শুভ আর শান্তর জন্য আগে থেকে ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলো শুভ আর শান্তর মামাতো ভাই অনিক। বাস থেকে নেমে অটো ভাড়া করে সোজা নানুবাড়িতে চললো শুভ আর শান্ত। নাহ্ আগের মতো পরিবেশ আর নেই শুভর নানুবাড়িতে। এখন এই বাড়িতেও বিদ্যুৎ এসেছে, গাঁয়ের প্রতি ঘরে ঘরে কালার টিভিও আছে। শুভর প্রিয় সেই কালো বিড়ালটাও কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না শুভ,শুভর মামাতো ভাই বলছে বিড়ালটা না কি, কি এক অসুখে মারা গেছে। ভেবে মনটা খারাপ হয়ে গেল।

এর মাঝে সময় করে দাদু বাড়িতেও ঘুরে এলো শুভ আর শান্ত। দাদুবাড়িতে অবশ্য মাত্র একদিন একরাত ছিলো শুভ আর শান্ত। কারণ দাদুবাড়িতে একমাত্র দাদী আর একটা চাচাতো বোন ছাড়া আর কেউ থাকে না,দাদু অনেক আগে মারা গেছেন। আর, শুভ শান্তর আব্বুর মতো চাচারাও ওদের পরিবার নিয়ে শহরে থাকে। তাই দাদুবাড়িতে মন থাকেনা শুভ আর শান্তর। দেখতে দেখতে প্রায় এক মাসের মতো কেটে গেল,কখন যে সময় চলে গেল একটুও বুঝতে পারলো না শুভ আর শান্ত। আর কিছু দিন পড়ে পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে শুভ আর শান্তর। এবার শহরে ফেরার পালা, এই কয়েক দিনে,মামাতো ভাই আর বোনদের অনেক আপন করে নিয়েছে শুভ আর শান্ত। কিছুতেই ওদের ছেড়ে শহরে আসতে মন চাচ্ছে না। তবে সময়তো আর কারো জন্য অপেক্ষা করে না। দেখতে দেখতে এসে গেল সেই দিন, আজ রবিবার দু'দিন আগে শহর থেকে গ্রামে এসেছে শুভর বাবা, আজ শুভ আর শান্তকে নিয়ে আবার শহরে ফিরে যাবে। শুভ আর শান্তর মন খুব খারাপ, চোখ ছল-ছল করছে, শুভর মামাতো ভাই আর বোন বন্দর পর্যন্ত এসেছে শুভ আর শান্তকে বিদায় জানাতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ