মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গাজা হত্যাকা- পরিকল্পিত-এইচআরডব্লিউ

গাজায় বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনীরা

অব্যাহত বিক্ষোভে ইসরাইলীদের হামলায় ১২ ফিলিস্তিনী আহত

৩ এপ্রিল, আনাদোলু এজেন্সি : ফিলিস্তিনীদের চতুর্থদিনের বিক্ষোভে গুলী চালিয়ে অন্তত ১২ সাধারণ নাগরিককে আহত করেছে ইসরাইলি সেনারা। ৩০মার্চ ভূমি দিবস উপলক্ষে ইসরাইলি সীমান্ত বরাবর বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনীরা। গত সোমবার অবরুদ্ধ গাজা অংশের সীমান্ত বরাবর ইসরাইলী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলী চালালে তারা আহত হয় বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ফিলিস্তিনী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা হাসপাতালের ডাক্তারদের বরাতে জানিয়েছেন, আহতরা সবাই গুলিবিদ্ধ হলেও গুরুতর নয়। আরো অন্তত ১২জনকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার জন্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে যারা দখলদার ইসরায়েলের বর্বর সেনাদের টিয়ার গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ফিলিস্তিনিদের নিজেদের জমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ভূমি দিবসের আন্দোলনে ইসরায়েলি বর্বর সেনাদের গুলি, বোমা ও টিয়ার গ্যাস হামলায় এপর্যন্ত অন্তত ১৮জন নিহত হয়েছে। 

গাজা উপত্যকার পশ্চিম সীমান্তে বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে ১৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, পাথর ছোড়া কিংবা অন্য কোনো সহিংসতা সেনাসদস্যের জীবন হুমকিতে ফেলেছে বলে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি ইসরাইলি সরকার।

ইসরাইলের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের দিকে ইঙ্গিত করে সংস্থাটি বলেছে, বিক্ষোভের আগে কিংবা পরে তাজা গুলির ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। তারা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সহিংসতায় জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি না হলে সেনাসদস্যদের প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারের অনুমোদন অবৈধ। এতে ব্যাপকসংখ্যক লোক নিহত ও আহত হবে বলে আগেই অনুমান করা যায়।

১৯৪৮ সালে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারের দাবিতে শুক্রবারের বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে ১৭ জনকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

এতে প্রায় দেড় হাজার লোক আহত হয়েছেন। চিকিৎসার অভাব ও মারাত্মক জখমের কারণে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরাইলি বাহিনী স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথ অবরুদ্ধ করে রাখায় গাজা উপত্যকায় কোনো চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছাতে পারছে না। বিক্ষোভের আগে ইসরাইল সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, তারা সরাসরি গুলি করার ক্ষমতা দিয়ে সীমান্তে একশ স্নাইপার মোতায়েন করেছে।

গাজা সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনের নিরস্ত্র বেসামরিক লোকজনকে হত্যার জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আরব লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। আরব লীগের মহাসচিব আহমদ আবুল গেইতের সঙ্গে গতকাল (সোমবার) ফোনালাপে হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া এ আহ্বান জানান। ইস্যুটি জাতিসংঘে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। ইসরাইলি হত্যাকা-ের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য আরব লীগ আজ জরুরি বৈঠকে বসবে।

আরব লীগে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত দিয়াব আল-লুহ জানিয়েছেন, তার দেশ আরব লীগে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। এতে স্থায়ী প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকে বসার আহ্বান জানানো হয়। আরব লীগের ফিলিস্তিন বিষয়ক সহকারী মহাসচিব সাঈদ আবু আলী জানিয়েছেন, সৌদি আরব জরুরি এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবে। ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক আজকাল অনেকটা ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি সরকার হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে। ফলে এ বৈঠক থেকে কতটা কার্যকরী সিদ্ধান্ত আসে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। গত শুক্রবার ফিলিস্তিনের ভূমি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সেনারা গুলি চালালে ২০ জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি শহীদ হন। এ নিয়ে সারা বিশ্বে নানামুখী আলোচনা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ