মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গাদের কানাডায় আশ্রয় দেওয়ার সুপারিশ

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করছেন কানাডার বিশেষ দূত বব রে

৩ এপ্রিল, সিটিভি, রয়টার্স, এএফপি : মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর শরণার্থীদের কানাডায় আশ্রয় দেওয়ার সুপারিশ করেছেন রোহিঙ্গা সংকটে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নিয়োগকৃত বিশেষ দূত বব রে। একইসঙ্গে তিনি চলমান মানবিক সংকটের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করেছেন। কানাডাভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, অল্প কয়েক ঘণ্টা পর প্রকাশ হতে যাওয়া গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে তিনি এসব সুপারিশ করেছেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অক্টোবরে টরেন্টোর সাবেক এমপি বব রে-কে মিয়ানমারের বিশেষ দূত নিয়োগ দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তদন্ত শেষে সংকট নিয়ে তিনি এরইমধ্যে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছেন। প্রতিবেদনটি দেখেছেন এমন কয়েকটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সিটিভি বলছে, বিশেষ দূতের এই প্রতিবেদনে মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘শক্তিশালী ইঙ্গিত’ দেওয়া হবে।

গত ডিসেম্বরে অন্তর্র্বতী প্রতিবেদনে বব রে লিখেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কী ধরনের মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সরাসরি গুলি ও সামরিক সহিংসতা ছাড়াও আমি যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছি। শরণার্থী শিবিরে আসার পথে শিশু ও বৃদ্ধদের মৃত্যুর কথাও শুনেছি। প্রথমদিকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট দেখার জন্য তাকে রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলেও গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেখানে যান।

প্রতিবেদন বলছে, বব রে’র চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কানাডাকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাগত জানানোর আগ্রহ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার সুপারিশ করা হবে। তবে সূত্রমতে, এমন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সমাধান আনবে না। এতে সহিংসভাবে বিতাড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মাতৃভূমিতে ফেরানোর ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের দায়িত্ব কমাবে না।

বব রে তার প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গকারী ব্যক্তি, সংগঠন ও কোম্পানির বিরুদ্ধে কানাডা ও এর মিত্র দেশগুলোকে সুর্নিদিষ্ট অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করবেন বলে আভাস দেওয়া হয়েছে সিটিভির প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটির সঙ্গে পরিচিতরা বলেছেন, বব রে মনে করেন মিয়ানমার ও বাংলাদেশে চলমান সংকটে কানাডার উদ্যোগ দেশটির পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি লিটমাস টেস্ট বা অগ্নিপরীক্ষা। সংকট নিরসনে চলতি মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকে আলোচনা তোলার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। মে মাসে কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য জি-সেভেন সম্মেলনেও রোহিঙ্গা সংকটকে প্রাধান্য দেওয়ার সুপারিশ করেছেন রে।

মিয়ানমার সরকার দেশটি থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের পুনর্বাসনের আগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী ও বৌদ্ধভিক্ষুদের হাতে বছরের পর বছর ধরে কৌশলগত সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মনে এমন পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে।

এসব শরণার্থীর অনেকে বর্তমানে অনেক কষ্টে বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে বাস করছেন। আগামী মে মাসে শুরু হতে যাওয়া বর্ষা মৌসুমে ভারি বৃষ্টি ও অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার হুমকি রয়েছে। কানাডার সরকার এই অঞ্চলে মানবিক সহায়তার জন্য ৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কানাডা। এরপর বর্ষাকালে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য গত ১৬ মার্চ আরও ৮১ লাখ ৫০ হাজার ডলার তহবিল জোগানের ঘোষণা দিয়েছে কানাডার সরকার।

ভাসমান নৌকায় থাকা ৫৬ রোহিঙ্গার জীবনশঙ্কা

উত্তাল সাগরে নৌকায় করে মালয়েশিয়ার পথে থাকা ৫৬ জন রোহিঙ্গার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত সোমবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ক্যারোলিন গ্লুক থাই-মালয়েশিয়া সীমান্তের পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় ভাসমান নৌকাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বিপদ সংকেত পাওয়ামাত্রই নৌকাটির আরোহীদের উদ্ধার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে তাদের তীরে ভিড়তে দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন গ্লুক।

মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের বড় অংশটি বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও কারও কারও প্রচেষ্টা থাকে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার। থাই উপকূলে মালয়েশিয়াগামী এমনই এক রোহিঙ্গাবাহী নৌকা শনাক্ত হওয়ার খবর জানায় ফরাসি বার্তা। সংশ্লিষ্ট এক থাই কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানায়, ক্রাবি প্রদেশের উপকূলে স্থানীয় গ্রামবাসী রোহিঙ্গাদের খাবার দিয়েছে এবং পরে নৌকাটি মালয়েশিয়ার দিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র ক্যারোলিন গ্লুক বলেন, গত সপ্তাহে নৌকাটি রাখাইন থেকে রওনা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার ধারণা, ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় নৌকাটি থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ এলাকায় ভিড়ানো হয়। রয়টার্সের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে গ্লুক বলেন, ‘বর্তমানে নৌকাটি বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে থাই-মালয়েশীয়া সীমান্তবর্তী পশ্চিম উপকূলে ভাসমান আছে। নৌকায় থাকা শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। যদি তাদের সংকটাপন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে আশা করি তাদেরকে উদ্ধার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নৌকাটি তীরে ভিড়ানোর অনুমতি দেওয়া হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ