সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

রূপসা ঘাটে আলোহীন ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বহন

খুলনা অফিস : খুলনার রূপসা ঘাটে মাঝি ও ইজারাদারদের কাছে আবারও হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঘাটের ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, ব্যাগ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়, রাতে অন্ধকারাচ্ছন্ন ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, রূপসা ঘাটে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পারাপার চলে। এ সময়ের মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। ঘাট মাঝি, লেবার ও ইজারা কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ মানুষকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। যাত্রীরা নতুন কোন মালামাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী নিয়ে টোলঘর পার হতে চাইলে ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। অতিরিক্ত টাকা দিতে না চাইলে নাজেহাল হতে হয়। হয়রানির পরও যাত্রীদের অসহায়ভাবে সব অনিয়ম মেনে নিতে হয়। সরেজমিন দেখা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টায় মো. ওসমান নামে এক মাদুর বিক্রেতার কাছ থেকে ৫টি মাদুর বাবদ ১০ টাকা নেয়। তিনি বলেন, আমার কাছ থেকে টাকা নেয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের অকথ্য ভাষা প্রয়োগ করে এবং একই সাথে আমার সাথে থাকা এক মাদরাসা শিক্ষকের কাছ থেকে মাদরাসার চেক বাবদ ২০ টাকা নেয়। তিনি আরও বলেন, আমার কাছে ২০ টাকা চাইছিল। অনেক অনুরোধ করে ১০ টাকা দিয়েছি। ঘাটের ক্যাশিয়ার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা নির্দিষ্ট টাকার বাইরে কোন টাকা নেই না। মাদুর বিক্রেতার কাছ থেকে যে টাকা নেয়া হয়েছে-তা ওনার কাছে আগের পাওনা ছিল। ঘাট ম্যানেজার মোস্তাইন বিন ইদ্রিস বলেন, আমরা কেসিসির নির্ধারিত টাকার বাইরে কোন টাকা নেই না। বরং প্রশাসন, গরিব শ্রমিকসহ অনেকেই টাকা দেয় না। একই সাথে ট্রলারে ৩০ জন যাত্রী নেয়ার নিয়মের তোয়াক্কা না করে রীতিমত যাত্রী বোঝাইয়ের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন ট্রলার মাঝিরা। অধিকাংশ সময় তারা ৩০ জনের স্থলে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে পার হয়। অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ায় আতঙ্কের মধ্যে পার হতে হয় যাত্রীদের। উল্লেখ্য, গত নবেম্বর মাসে রূপসা ঘাটের ট্রলার থেকে পড়ে একজন মারা যায়। রাতে ট্রলারে আলো জ্বালানো বাধ্যতামূলক করা হলেও মাঝিরা মানছেন না। তারা কোন ধরনের লাইট কিংবা আলোর ব্যবস্থা করেন না। এছাড়া ট্রলারগুলোতে শিশু শ্রমিক ব্যবহার হচ্ছে। অধিকাংশ ট্রলারে হেল্পার হিসেবে থাকে শিশু শ্রমিকরা। কিছু কিছু ট্রলারে শিশুরা মাঝির দায়িত্ব পালন করে থাকে। মাঝি মো. মোফা বলেন, নিয়ম আছে ৩০ জন যাত্রী নেয়ার। অনেকে তাই নেয়। তবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অনেকেই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ