শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কবিতা

মিছিলের আহবান-
মানসুরা আল আযাদ

একটি মিছিলের বড় বেশি প্রয়োজন আজ-
মিছিল হোক বন্ধ দুয়ারে হৃদয়ের,
মিছিল হোক বোবা বধির অন্ধের ষষ্ঠিতে,
মিছিল হোক সোডিয়াম বাতির সম্মিলনে।
মিছিল হোক পতঙ্গের ডানায়; মিছিল হোক গ্রামে গঞ্জে শহরে,
মিছিল হোক বিস্তীর্ণ ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত বৈরুতে,
মিছিল হোক পরিক্ষার্থীর ফাঁস হওয়া প্রশ্নে,
মিছিল হোক বারুদে;
মিছিল হোক উত্তপ্ত রাজপথে
রাজপথ খোলা পড়ে রয়েছে।
অগণন সময় অপেক্ষমান,
কালের তাত্রি ওরে কে কোথায় তোরা বাহুর বল কি ঘূণে খেয়েছে
        তোদের অপয়া অমাবস্যা?
এখানে এখন গভীর অন্ধকার জমাট শাসকের কাল সেলেটে,
এখানে এখন বার ভূঁইয়ার বিষাক্ত রক্তের হিমোগ্লোবিন।
এখানে বজ্র কণ্ঠ ঝুলে আছে ফাঁসির দঁড়িতে প্রস্তুত লৌহ গারদ!
এখানে এখন ভোরের মাঠে বুলেট ক্ষত অচেতন দেহ,
এখানে এখন স্বাধীনতা অসহায় গণতন্ত্রের যজ্ঞপুরীতে,
এখানে এখন মানবতা বন্দি রক্তচক্ষুদের ফ্রেমে।
প্রতিবাদ মিছিল ঘেরাও আন্দোলন যত স’ব তোদের
আজ ঘোমটা পরা বার বণিতা,
তবে কি ফের ফিরে ফিরে আসছে ঐ
শত শত বছরের গোলামী- জিঞ্জির?
তবে কি ফের বন্ধ হবে দ্বার,
কাগজ কলম বাক আজাদীর?
ফিরে আসছে কি সেই জাহেলী তমদ্দুর?
কালের তাত্রি ওরে কে কোথায় তোরা?
রাজপথ খোলা পড়ে রয়েছে
‘খালিদের প্রতিবাদী কণ্ঠ’ খালি পড়ে রয়েছে।
হাজার মজলুম জেগে উঠেছে যে কণ্ঠে,
ফিরুক সে কণ্ঠ তোদের কোন এক শ্লোগানে।
সালাউদ্দিন হুংকার নিয়ে তাকবীর ধ্বনীতে ফেটে পড়ুক রাজপথে,
পথের পাশে মুখোশ পড়া মানবতার ফেরিওয়ালাদের সেমিনারে উন্মোচিত হোক আসল রূপ,
শ্লোগান উঠুক;
মিছিল চলুক;
বজ্র নিনাদে কেঁপে কেঁপে ভাঙ্গুক শঠ তঞ্চকের প্রপঞ্চ মঞ্চ।
মিছিলের বড় প্রয়োজন আজ-
মিছিল হোক মানুষে মানুষে;
মিছিল হোক চেতনার বিষখালী চৈতন্যে,
মিছিল হোক প্রেরণার অনল প্রবাহে,
মিছিল হোক চেতনার নীল আকাশে,
মিছিল হোক আর একবার; মিছিল হোক দুর্নিবার
কালের তাত্রি ওরে কে কোথায় তোরা?
বাহুর বল কি ঘূণে খেয়েছে তোদের অপয়া অমাবস্যা....?


কি এপ্রিল
তাসলিমা কবির

আপন পেশীর খুনে আঁকি
আমার হাতের আল্পনা
এর চেয়ে আর চমকপ্রদ
নেই তো কোনো জল্পনা।
এপ্রিল এলেই ঘুম থাকে না
হবোই আমি ধোঁকাবাজ
নিজের নাকে বড়শি দিয়ে
ঘোরাই হলো আমার কাজ।

আশে পাশে যা দেখি তা
চর্চা করি খোশ মনে
বুঝি না তার মাশুল দিতে
হচ্ছে আমার কোন বনে।
আমার থেকেই নিচ্ছে তারা
আমায় মারার সমর্থন
পিপাসা তো বুঝছে আমার
এখন ডুবায় আকুন্ঠন।

সংস্কৃতির মহড়া তো
নিত্য আসে নিত্য যায়
আসল নকল চেনার বিবেক
সব কি বোঝা পরের দায়?
সবকিছুতে বাছাই যাদের
মান ভালো আর সেরাটা
জীবন চলে যার দমেতে
সেই খানেতেই  চেরাটা?
ফালতু এসব চর্চাগুলো
করলো শুরু কোন শহর
একটুও কি ভেবে দেখার
পাওনা তুমি অবসর?
নিজকে এরা বিশ্ব মাঝে
করবে ছোটো আর কতো
মানুষ নামের জাতটা গেলো
পশু হতেই শখ যতো।

হারিয়েছি অতীত সবই
গৌরবেরই যা ছিলো
অজ্ঞ দোষে নিজের বিবেক
দেখছি না তো কে নিলো!
এর খেসারত যাচ্ছি দিয়ে
সকাল দুপুর সন্ধ্যা রাত
তবু কেন শিক্ষা আমার
হয় না আজও অকস্মাৎ?


স্বাধীনতার গল্প
মোহছেনা পারভীন

একাত্তরে নীলাকাশে
উড়তো জঙ্গী বিমান
বাবা বলতেন প্রত্যয় নিয়ে
রাখো মনে ঈমান।

দেশটা এবার স্বাধীন হবেই
নিশ্চিত জেনে নিও
সবুজের বুকে লাল পতাকা
উড়িয়ে তুমি দিও।

বুলেটে বুলেটে ঝাঁঝরা হলো
আমার বাবার বুক
কেঁদে কেঁদে অন্ধ হলো
মায়ের দুটি চোখ।

যুদ্ধে গেল ভাইটি আমার
ফিরলো না আর ঘরে
হাসি মুখে রক্ত দিলো
জীবনটা ত্যাগ করে।

ঝলকানো এক স্বাধীন আলোয়
আধাঁর হলো দূর
ঘরের কোণে উঁকি দিলো
একটি মিষ্টি ভোর।

নোলক পরে বোনটি আমার
বানায় নকশি কাঁথা
কাঁথার ভাঁজে লেখা আছে
রঙিন স্বপ্নগাথা।

হারিয়ে পিতা ভায়ের স্নেহ
এবং মায়ের আদর
বেঁচে আছি জড়িয়ে ধরে
স্বাধীনতার চাদর।

সব হারিয়ে শূন্য ভিটায়
একলা বসে আমি
আমার কাছে মুক্ত স্বদেশ
হীরার চেয়েও দামি।

কষ্টে পাওয়া স্বাধীনতা
রক্ষা করবো আজ
হটাও যত দুর্নীতি আর
সমস্ত চালবাজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ