বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

সুনামগঞ্জ জামায়াতের সাবেক আমীর হাতিমুর রহমান আর নেই

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক আমীর হাতিমুর রহমান আর নেই। রোববার রাত সাড়ে ১১টায় সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তিনি স্ত্রী ফাতেমা তাজ দিলোয়ারাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের নামাজে জানাযা গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় শহরের ষোলঘরস্থ দ্বীনি সিনিয়র মাদরাসার উত্তর মাঠে  অনুষ্ঠিত হয় এবং ষোলঘর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
জানাযায় ইমামতি করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন। জানাযা পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুর রহমান, সিলেট মহানগরী আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা দক্ষিনের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ, সনামগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র নাদের বখত, সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান, জেলা সেক্রেটারি মোমতাজুল হাসান আবেদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মল্লিক মইনউদ্দিন সোহেল। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল কুদ্দুছ, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির শিহাব, জামায়াত নেতা ফখরুল ইসলাম, আব্দুস সালাম আল মাদানী, মরহুমের বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা মদরিছ আলী, শিবির নেতা নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
মরহুম হাতিমুর রহমান সুনামগঞ্জ শহরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আব্দুর রহমান এতদ: অঞ্চলের একজন ইসলামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন। ৫ ভাই  ৫ বোনের সংসারে তিনি ছিলেন ভাইদের মধ্যে সবার ছোট। হাতিমুর রহমান আশৈশব ইসলামী আন্দোলনের সহিত জড়িত ছিলেন। ১৯৮৪ সালে সুনামগঞ্জকে প্রশাসনিক জেলা ঘোষণা করাকালীন সময়ে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র জীবন শেষ করে গণআন্দোলনে শরিক হয়ে ২০০৫ইং থেকে ২০১৩ইং পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশার সহিত জড়িত ছিলেন। তিনি দৈনিক সংগ্রামের জেলা প্রতিনিধি ও সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধারে বিভিন্ন সামাজিক সংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিস্তারে অন্যান্য ভূমিকা পালন করেন। ক্ষণজন্মা এই দ্বায়িত্বশীলের মৃত্যুতে সুনামগঞ্জ শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সহকর্মী ও নেতাকর্মীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে সকাল থেকে বাড়িতে এসে জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তার জানাযার নামাজে ছিল বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের উপচে পড়া ভীড়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ