শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

সুরক্ষা আইন শিথিলের প্রতিবাদে দলিতদের ভারত বনধ

২ এপ্রিল, পার্সটুডে : ভারতে দ্য শিডিউলড কাস্ট অ্যান্ড দ্য শিডিউলড ট্রাইবস প্রিভেনশন অব অ্যাট্রোসিটিজ অ্যাক্ট (তফশিলি জাতি-উপজাতি সংরক্ষণ আইন) শিথিল করার প্রতিবাদে দেশটির দলিত সংগঠনগুলোর ডাকে চলছে ভারত বনধ কর্মসূচি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, গতকাল সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ বনধকে কেন্দ্র করে দিল্লি, পাঞ্জাব, উড়িষ্যা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতাও। এরইমধ্যে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের মোরেনাতে কারফিউ জারি হয়েছে। উড়িষ্যার সম্বলপুর, বিহারের আরা, পাঞ্জাবের পাটিয়ালাসহ বিভিন্ন জায়গায় রেল অবরোধ করা হয়েছে। আটকে পড়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন। সহিংসতার আশঙ্কায় পাঞ্জাব সরকার সোমবার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবারই রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।  

গত ২০ মার্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের উপর অত্যাচার বন্ধের আইনের যথেচ্ছ অপব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এখন থেকে আর নিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এই আইনে কোনও সরকারি কর্মীকে গ্রেফতার করা যাবে না। তফশিলি জাতি-উপজাতির উপর অত্যাচারের কোনও মামলা দায়ের করার আগে সেই ঘটনা ডিএসপি পর্যায়ের কোনও কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। এছাড়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত কোনও সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। শীর্ষ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধেই ২ এপ্রিল ভারত বনধের ডাক দেয় পিস্যান্টস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স পার্টি, ভারিপ বহুজন মহাসঙ্ঘ, সিটু, জাতি অন্ত সংঘর্ষ সমিতি, রাষ্ট্রীয় সেবা দল, ন্যাশনাল দলিত মুভমেন্ট ফর জাস্টিসসহ বিভিন্ন দলিত সংগঠন। বনধকে সমর্থন জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া আদি ধর্ম মিশন এবং অল ইন্ডিয়া আদি ধর্ম সমাজ৷

ভারত বনধ-এর জেরে গতকাল সোমবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে৷ চন্ডিগড়, রাঁচি এবং বারমারসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা হয়েছে। মীরুটে বিক্ষোভকারীদেরকে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে দেখা গেছে। উড়িষ্যার সম্বলপুরে একটি সংগঠনের সদস্যরা রেল অবরোধ করেন। ফলে আটকা পঙে বেশ কয়েকটি ট্রেন। সহিংসতার আশঙ্কায় পাঞ্জাবে সিবিএসই-র দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ সোমবার পাঞ্জাবের সব স্কুল-কলেজ, ব্যাংক এবং যানবাহন পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে  ইন্টারনেট পরিষেবাও৷ সেনাবাহিনীকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

গত ২৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘একদিকে দলিতদের ওপর নৃশংসতার মাত্রা বাড়ছে, আর অন্যদিকে নৃশংসতার বিরুদ্ধে তাদের বড় অস্ত্রটিকে শিথিল করা হচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম বিলাস পাসোয়ান, থাওয়ার চন্দ গেহলত, জুয়াল ওরাম রামদাস আথাওয়ালে, অর্জুন রাম মেঘাওয়ালও আইনটি শিথিল করার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম বিলাস পাসোয়ানের নেতৃত্বে দলিত মন্ত্রীদের একটি দল ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। বিরোধী দলের অনেক নেতা এ ব্যাপারে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ