মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

সুন্দরবনসহ দু’টি উপকূলীয় ব্যাটালিয়ন যুক্ত হচ্ছে র‌্যাবে

খুলনা অফিস : বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে এক সময় জলদস্যু-বনদস্যুসহ অপরাধীদের রামরাজত্ব ছিল। পর্যটক কিংবা জেলে, বাওয়ালি-মাওয়ালিদের হত্যা, অপহরণ-মুক্তিপণ আদায় ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এলিট ফোর্স র‌্যাব কয়েক বছরে ক্রমাগত অভিযান চালিয়ে সুন্দরবন থেকে দস্যু বা দুষ্কৃতিকারীদের অনেকটা নির্মূল করেছে। ফিরিয়ে এনেছে শান্তিশৃঙ্খলা। এবার বিশালায়তনের সুন্দরবনকে আরও নিরাপদ রাখতে সেখানে দুইটি বিশেষায়িত ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বঙ্গোপসাগরের কুলঘেঁষা সুন্দরবনসহ দেশের পুরো উপকূলীয় অঞ্চলকেই অপরাধীমুক্ত বা নিরাপদ রাখতে দুইটি ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনসহ সাগর তীরবর্তী চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে র‌্যাবের দু’টি বিশেষায়িত ব্যাটালিয়ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, সুন্দরবনসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে দু’টি ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা আকারে প্রয়োজনীয় সবকিছু জমা দেয়া হয়েছে। তাতে লোকবল, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরসহ আনুষঙ্গিক সবকিছুই উল্লেখ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এটি অনুমোদন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। র‌্যাব সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমোদন পেলে এ দুইটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের একটি হবে সুন্দরবনের ভেতরেই। অপরটি হবে চট্টগ্রাম কিংবা পটুয়াখালীতে। এই ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় থাকবে বেশ কয়েকটি কোম্পানি বা ক্যাম্প। যেহেতু উপকূলীয় পরিবেশ-পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হবে সে কারণে এ দুইটি ব্যাটালিয়ন হবে বিশেষায়িত।
কর্মকর্তারা আরও জানান, দস্যু-অপরাধীমুক্ত করে র‌্যাব এরই মধ্যে সুন্দরবনে শান্তি স্থাপন করেছে। এমনকি ভয়ঙ্কর দস্যুদের আত্মসমর্পণের অনেক নজিরও স্থাপন করেছে এ ফোর্স। এ অবস্থায় বিশেষভাবে কেবল সুন্দরবন এলাকা বা উপকূলের দায়িত্ব যখন র‌্যাব পালন করবে তখন সেখানকার পরিবেশ পরিস্থিতির আরও অনেক উন্নতি হবে। পর্যটক থেকে শুরু করে জেলে, মাওয়ালি-বাওয়ালিরা নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারবেন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এসব অঞ্চল ঘিরে পর্যটন শিল্পেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত, এলিট ফোর্স র‌্যাবের সদর দপ্তরের বাইরে সারা দেশে এখন পর্যন্ত মোট ১৪টি ব্যাটালিয়ন আছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন কয়েকটি জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে থাকে। উপকূলীয় অঞ্চলে এ দুইটি ব্যাটালিয়ন হলে র‌্যাবের সক্ষমতাও আরও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ