বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

কেশবপুরে ভুয়া মুয়াল্লেম সেজে হজ্ব যাত্রীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের কেশবপুরে ভুয়া মুয়াল্লেম সেজে এক প্রতারক ৮০ জন হজ্ব যাত্রীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কন্দর্পপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান গাজী ২০১৬ সালে পবিত্র হজ্বব্রত পালনের জন্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৮০ জন হজ্ব যাত্রীর কাছ থেকে হজ্ব এজেন্সির চুক্তি মোতাবেক ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁর অবহেলার কারণে ওই বছর হজ্ব যাত্রীরা হজ্বব্রত পালন করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে তিনি ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছাড়াও প্রতিজন হজ্ব যাত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেন। এ উপলক্ষে আব্দুল মান্নান গাজী কেশবপুর শাহী মসজিদে সকল হজ্বযাত্রীদের অংশগ্রহণে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেন। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন পবিত্র হজ্ব পালনের সুবিধার্তে মক্কার ফেতরা বাসার পরিবর্তে  হেরেম শরীফ থেকে ৭/৮‘শ মিটারের মধ্যে একটি স্থায়ী বাসায় হজ্বযাত্রীদের রাখা হবে। এ জন্য তিনি প্রতিজন হজ্বযাত্রীর কাছ থেকে আরও ২০ হাজার টাকা করে গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট আরবিতে লেখা একটি চিঠি প্রদর্শন করে সৌদিতে মোয়াল্লেম ফিস বেড়েছে বলে দাবি করে প্রতিজন হজ্বযাত্রীর কাছ থেকে আরও ১০ হাজার টাকা করে গ্রহণ করেন। এভাবে তিনি হজ্বযাত্রীর কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ। কিন্তু তিনি এ চুক্তি ভঙ্গ করে হেরেম শরীফ থেকে ৭/৮‘শ মিটারের মধ্যে স্থায়ী বাসার পরিবর্তে হজ্বযাত্রীদের ১২ কিলোমিটার দূরে আজিজিয়া জুনুবিয়াতে একটি নি¤œমানের বাসায় রাখেন। ফলে হজ্বযাত্রীদের কাবা শরীফে ইবাদত করা ব্যাহত হয়। এছাড়া কাবা শরীফে ৮ দিন ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের প্রচলন থাকলেও সেখানে ৬ দিন রাখা হয়েছে বলে হ্জ্বযাত্রীদের অভিযোগ। এ কারণে হজ্বব্রত পালন শেষে হাজিরা ওই দুর্নীতিবাজ প্রতারক মোয়াল্লেমের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা ফেরতের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগটি দাখিল করেছেন।
এ ব্যাপারে মোয়াল্লেম আব্দুল মান্নান গাজী জানান, হজ্ব এজেন্সির ত্রুটির কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি হজ্বযাত্রীদের সাথে বসে নিরসন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া জেন্য কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে অভিযোগটি রেফার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ