বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

শিক্ষাক্ষেত্রে সকল বৈষম্য ও অনিয়ম দূর করতে হবে -শিবির সভাপতি

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে বক্তব্য রাখেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত -সংগ্রাম

বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, শিক্ষা জাতির মৌলিক অধিকার। কিন্তু সরকারের নানা রকম অশুভ কর্মকান্ডে শিক্ষা ক্ষেত্রে  বৈষম্য ও অনিয়ম প্রকট আকার ধারণ করেছে। অবিলম্বে শিক্ষাক্ষেত্রে সকল বৈষম্য ও অনিয়ম দূর করতে হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, দাওয়া সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হকসহ সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  
শিবির সভাপতি বলেন, শিক্ষা একটি জাতির অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির হাতিয়ার। পৃথিবীর প্রায় সব দেশ এ খাতটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে তার উল্টো চিত্র দেখছে জনগণ। সরকারের একের পর এক শিক্ষা বিরোধী কার্যক্রমে শিক্ষাব্যবস্থা আজ ধ্বংসের সম্মুখ্যিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবীতে আন্দোলন করছে। গলায় সার্টিফিকেট ও হাতে ঝাড়ু নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের শোচণীয় অবস্থার প্রকাশ করছে। পুলিশ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলার স্বীকার হচ্ছে। কিন্তু সরকার কোন ভাবেই তাদের দাবীর প্রতি কর্ণপাত করছে না। যা দেশের লাখো শিক্ষার্থীকে হতাশ করছে। আর অনৈতিক প্রক্রিয়ায় মেধাবীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। চাকুরীর জন্য বিরাট অঙ্কের ঘুষ ও দলীয় বিবেচনা রীতিতে পরিণত করা হয়েছে। অন্যদিকে  কয়েক দিন পর পর বাড়ানো হচ্ছে শিক্ষা ব্যয়। উচ্চ শিক্ষাকে বাণিজ্যকরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভূলে ভরা পাঠ্যপুস্তক, সেকুলার পাঠ্যসূচি ও অস্বচ্ছ মেধা মূল্যায়ন পদ্ধতি শিক্ষাব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক সন্ত্রাস, নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের পুলিশের হয়রানি, অস্ত্রবাজী, এক শ্রেণীর শিক্ষকদের দলবাজিসহ নানা অপকর্মে ক্যাম্পাসগুলোর শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে। সর্বোপরি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে সরকার। সুকৌশলে বৈষম্য সৃষ্টি করে জনগণকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি জাতিকে সার্বিকভাবে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়াই যথেষ্ট। আর বাংলাদেশে তাই হতে চলেছে। এ অবস্থায় নীরব থাকা কাম্য নয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে হবে। কোটা পদ্ধতি সংস্কারের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে। শিক্ষা ব্যয় কমাতে হবে। কঠোর হাতে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে হবে। সেইসাথে সন্ত্রাস, মাদক ও অশ্লীলতা মুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ