শুক্রবার ১৭ জুলাই ২০২০
Online Edition

প্রাইম দোলেশ্বরকে হারিয়ে টিকে থাকলো শেখ জামাল

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের সুপার লিগ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে জয় পেল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। গতকাল বিকেএসপিতে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে অতিনাটকীয় ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ১০ রানে জয় পায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। আর এই জয়ে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকলো দলটি। যদিও হিসেব অনেক কঠিন। কারণ শেষ ম্যাচে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির সঙ্গে জিততে হবে বড় ব্যবধানে। পাশাপাশি অন্য দলগুলোর ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। সুপার লিগের খেলায় পাওয়া এই জয়ে ১৫ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে শেখ জামাল। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে তাদের ওপরে আছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। 

শীর্ষে থাকা আবাহনীর পয়েন্ট ২২। আগের ম্যাচেই শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে পরা দোলেশ্বরের জন্য ছিল স্থান নির্ধারণের লড়াই। সে লড়াইয়েও পিছিয়ে পড়েছে দলটি। ১৫ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে তারা। গতকাল শেখ জামালের দেয়া ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি দোলেশ্বর। দলীয় ২২ রানেই দুই ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন তান্না ও লিটন দাসকে হারায় দলটি। তৃতীয় উইকেটে আগের ম্যাচের দুই সেঞ্চুরিয়ান ফজলে মাহমুদ ও মার্শাল আইয়ুব দলের হাল ধরেন। ৪৮ রানে জুটি গড়েন তারা। কিন্তু এ জুটি ভাঙতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।  স্কোরবোর্ডে ৩৪ রান যোগ করতেই আউট হন ৭ জন ব্যাটসম্যান। আর ১০৬ রানে ছিল না দলের ৯ উইকেট। কতো বড় ব্যবধানে হারে দলটি সেটাই ছিল দেখার বিষয়। কিন্তু সেখান থেকে ৬৭ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়েন প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের শেষ দুই ব্যাটসম্যান আরাফাত সানী ও সালাহউদ্দিন শাকিল। শেষ ১১ বলে যখন প্রয়োজন ১১ রান তখন রবিউলের হকের বলে আউট হন শাকিল। শেষ দিকে আরাফাত সানী ও শাকিল জুটি  কেবল আক্ষেপ বাড়িয়েছে দলের। তাতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য নিয়েও। শেষ দিকে যেভাবে এ দুই বোলার ব্যাটিং করেছেন তাতে লজ্জাই জুটেছে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের। ৩৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন আরাফাত সানী। ৫২ বলে ১টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। আর শেষ উইকেট জুটিতে তার সঙ্গী শাকিল ৪১ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় করেন ৩১ রান। এছাড়া ফজলে মাহমুদ করেন ৩৫ রান। শেখ জামালের পক্ষে ৩১ রানের খরচায় ৪টি উইকেট পান তানবীর হায়দার। এছাড়া ২টি উইকেট নাজমুল ইসলাম অপুর। এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে শেখ জামাল। ছোট ছোট জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকে দলটি। পঞ্চম উইকেটে জিয়াউর রহমান ও তানবীর হায়দারের ৫৮ রানে জুটিটিই ছিল সর্বোচ্চ। এ জুটি ভাঙার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শেখ জামালের ব্যাটিং লাইন আপ। শেষ ৬টি উইকেট তারা হারায় মাত্র ২৩ রান যোগ করতেই। ফলে ৩৮ ওভারে ১৮৩ রানে অল আউট হয়ে যায় দলটি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রানের ইনিংস খলেন তানবীর। ৭০ বলে ৩টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ২৯ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ঝড়ো ৩৯ রান করেন জিয়া। এছাড়া উম্মুক্ত চাঁদ ২৭ ও পিনাক ঘোষ ২৪ রান করেন। প্রাইম দোলেশ্বরের পক্ষে ১০ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন জাকারিয়া মাসুদ। এছাড়া ফরহাদ রেজা ও শরীফুল্লাহ ২টি করে উইকেট পান। তানবীর হায়দার ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ