বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

শিরোপা জয়ের আরো কাছে মাশরাফির আবাহনী

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শিরোপা জয়ের আরো কাছে আবাহনী লি:। গতকাল খেলাঘর সমাজ কল্যাণকে হারিয়ে মাশরাফির আবাহনী সর্বোচ্চ ২২ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপায় একহাত দিয়ে রেখেছে । মিরপুর স্টেডিয়ামে আবাহনী ১২৭ রানের বিশাল ব্যবধানে খেলাঘর সমাজ কল্যাণকে হারিয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আবাহনী। এ জয়ে লিগ শিরোপা প্রায় নিশ্চিত করে ফেললো দলটি। কারণ ১৫ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে আবাহনী। শেষ ম্যাচে হারলেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা তাদেরই বেশি। রান রেটে বড় ব্যবধানে এগিয়ে দলটি। যদিও পয়েন্ট সমান হলে লিগের শিরোপা নির্ধারণ হবে হেড টু হেড নিয়মে। সেখানে দুই প্রতিদ্বন্ধী লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের সঙ্গে সমতা বিরাজ করছে। তাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এক পা দিয়ে রাখলো আবাহনী।

গতকাল আগে ব্যাট করে ৪৬.৩ ওভারে ২৪১ রানে অলআউট হয় আবাহনী। খেলাঘর মাত্র ২৭.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় ১১৪ রানে। ফলে ১২৭ রানে জয় পায় আবাহনী।  টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা পায় আবাহনী। ৬৪ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। বিজয়ের রান আউটে ভাঙে এ জুটি। এরপর  মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে স্কোরবোর্ডে ৩৬ রান যোগ করেন শান্ত। তবে এ জুটি ভাঙার পর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেসার হালিমের বোলিং তোপে পড়ে দলটি। দলীয় ১৫৬ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে।  ৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ১০ রানের খরচায় টপ অর্ডারের ৪টি উইকেট পেলেন হালিম। ফলে ১৫৬ রানেই নেই আবাহনী লিমিটেডের ৮ উইকেট। ২০০ রানের  স্কোর তখন দূরের বাতিঘর। তখন একের পর এক পার্ট টাইম বোলার দিয়ে বল করালেন খেলাঘরের অধিনায়ক নাজিমউদ্দিন। দুর্দান্ত  বোলিং করেও আর বোলিং পাননি হালিম।  এরপর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে দলের হাল ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

নবম উইকেটে ৪৯ রান  যোগ করেন এ দুই ব্যাটসম্যান। তাসকিন আউট হলে সন্দিপ রায়ের সঙ্গেও শেষ উইকেটে ৩৬ রান  যোগ করেন মিরাজ। ফলে ৪৬.৩ ওভারে অল আউট হওয়ার আগে ২৪১ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় আবাহনী। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন শান্ত। ৫৬ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। মিরাজ খেলেন ৫০ রানের ইনিংস। এছাড়া ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৬ রান করেন তাসকিন। েেখলাঘরের পক্ষে হালিম ৪টি, সাদিকুর ২টি ও আনজুম আহমেদ ২টি উইকেট পান। জয়ের জন্য ২৪২ রানে টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে গা ছাড়া ব্যাটিং খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে খেলাঘর। খেয়ালি শটে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রানেই অল আউট হয়ে যায় ক্লাবটি। সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন মাহিদুল ইসলাম অংকন। আবাহনীর পক্ষে ৩২ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট পান মাশরাফি। এবার লিগে তার উইকেট সংখ্যা হলো ৩৮। লিস্ট 'এ' ক্রিকেট হওয়ার পর এক মৌসুমে এটাই সর্বাধিক উইকেট  নেওয়ার রেকর্ড। মাশরাফি ছাড়িয়ে গেছেন গত মৌসুমে ৩৫ উইকেট নিয়ে  রেকর্ড গড়া আবু হায়াদার রনিকে। এছাড়া এই ম্যাচে ২টি করে উইকেট পান তাসকিন, নাসির হোসেন ও সন্দিপ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

আবাহনী লিমিটেড : ৪৬.৩ ওভারে ২৪১ (বিজয় ২৭, শান্ত ৫৪, মিঠুন ১৮, ইয়াশপাল ৫, নাসির ১৫,  মোসাদ্দেক ৪, সানজামুল ২৩, মিরাজ ৫০, মাশরাফি ০, তাসকিন ২৬, সন্দিপ ৪*; তানভীর ০/২৬, রবি ০/৪৫, ইরফান ১/৩৩, হালিম ৪/১০, ভদ্র ০/২৫, আনজুম ২/৫২, সাদিকুর ২/৪৬)।

খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি : ২৭.৩ ওভারে ১১৪ (রবি ২০, সাদিকুর ০, অংকন ২৭, সাব্বির ৩, আনজুম ২৪, নাজিমউদ্দিন ০, তানভীর ৬, মাসুম ২৩*, হালিম ০, ইরফান ১, ভদ্র ১; মাশরাফি ৩/৩২, মিরাজ ১/১০, সানজামুল ০/৩৪, তাসকিন ২/২৫, নাসির ২/৮, সন্দিপ ২/৫)।

ফলাফল : আবাহনী লিমিটেড ১২৭ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মেহেদী হাসান মিরাজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ