বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

রূপসা নদীর তলদেশে ওয়াসার পাইপ স্থাপনে ক্ষতির মুখে অর্ধশত স্থাপনা

খুলনা অফিস: খুলনার রূপসা নদীর তলদেশে ওয়াসার পাইপ স্থাপনের সময় পূর্ব রূপসা রেলস্টেশন এলাকার অর্ধশত স্থাপনা। ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করছে। খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় মধুমতি নদী থেকে খুলনা শহরে পানি সরবরাহের জন্য রূপসা নদীর নীচ থেকে পাইপ বসানোর কাজ ১৯ মার্চ রাতে শেষ হয়েছে।
১৯৯৬ সালে রূপসা-বাগেরহাট রেল সার্ভিস চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এ রেল লাইন চলাচল কর্তৃপক্ষ বন্ধ ঘোষণার পর পূর্ব রূপসা রেলস্টেশন এলাকায় ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বসতি। অধিকাংশ পরিবারই রেলের কাছ থেকে জমি বন্দোবস্ত নিয়ে বসতঘর নির্মাণ করেন। বর্তমানে শতশত পরিবার এ এলাকায় বসবাস করছে।
এদিকে গত ১৯ মার্চ নদীর তলদেশ থেকে ওয়াসার পাইপ স্থাপনের কাজ শেষ হয়। পাইপ স্থাপনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেক বসতঘর ও দোকানপাট। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য খুলনা ওয়াসার কাছে লিখিত আবেদন করলে তাদের ক্ষতিপূরণের একটি কার্ড প্রদান করেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখনো পায়নি তাদের ক্ষতিপূরণ। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে আরও অনেক পরিবারও। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো-মো. বাবু, বাদল মোল্লা, ইদ্রিস, নূর ইসলাম, শাহিন, মফিজ, শাহাদাত, ইমান আলী, সুমন, হিরক, দেলোয়ার, কোহিনুর, সালমা, বাদশা, আব্দুস সালাম, জোহরা, জামিন, আল মামুন, কাশেম, বাবুল, ফারুক, ইলমি খাতুন, টুনটুনি, রাসেল, নাসির, আবুল, তাসলু, শোলু, আবুল কামেম, কুলসুমসহ অর্ধশত পরিবার। 
ক্ষতিগ্রস্ত মো. মোক্তারুজ্জামান বলেন, ওয়াসার পাইপ নদীর তলদেশ থেকে নেয়ার সময় তার দোকানে ফাটল ধরেছে। এতে চরম ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
গ্রাম্য চিকিৎসক আল মামুন বলেন, তার ফার্মেসীতে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। একইভাবে ইসমাইল হোসেন বাবু বলেন, অনেক দোকানপাট ও বসতঘরে ফাটল ধরেছে। অনেকের ঘর দেবে পুকুরের মত হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. হায়দার আলী খান বলেন, ওয়াসার পাইপ নদীর তলদেশে স্থাপনের সময় রেলস্টেশন এলাকার প্রায় অর্ধশত পরিবার ও দোকানপাট চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে অন্যত্র বসবাস করছে। ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে তাড়াতাড়ি ক্ষতিরপূরণ পেতে পারে তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।   
রামনগর এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম তোতা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যাতে তাড়াতাড়ি তাদের ক্ষতিপূরণ পেতে পারে এ ব্যাপারে তিনি ওয়াসা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নৈহাটী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বুলবুল বলেন, রূপসা নদীর তলদেশ থেকে ওয়াসার পাইপ স্থাপনের সময় পূর্ব রূপসা রেলস্টেশন বস্তি এলাকায় প্রায় অর্ধশত বসতবাড়ি ও দোকানপাটে ফাটল ধরেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার ইতোমধ্যে অন্যত্রে বসবাস করছে। অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র অন্যত্র রেখেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে শিগগিরই ক্ষতিপূরণ পেতে পারে এ জন্য তিনি ওয়াসা কর্তৃৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ পিইঞ্জ বলেন, ইতোমধ্যে ১৭ জনকে ক্ষতিপূরণের কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তাদের ক্ষতিপূরণে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া বাকি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ