সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

আদালতে দুই আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

শরীয়তপুর সংবাদদাতা : প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই রিক্সাচালক সজিব সরদারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দুই আসামী পুলিশ ও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। আজ বুধবার বিকাল ৪টায় পালং মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এ কথা জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের উপরগাঁও গ্রামের মৃত সামসুদ্দিন বেপারীর ছেলে রেজাউল হক পেবারী (৪২) ও আ. খালেক দেওয়ানের ছেলে জাহাঙ্গীর দেওয়ান (৩০)। জবানবন্দী গ্রহণ শেষে আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পালং মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, ২১ মার্চ দিবাগত রাতে শরীয়তপুর পৌরসভার নীলকান্দি গ্রামের আঃ কুদ্দুছ সরদারের ছেলে রিক্সাচালক সজিব সরদার (১৭) কে কেবা কারা গলাকেটে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী উপরগাও এলাকার একটি ফসলি জমিতে ফেলে রেখে যায়। পর দিন ২২ মার্চ সকালে স্থানীয় লোকজন সজিবের লাশ দেখতে পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনার পর ২৩ মার্চ রাতে নিহতের বাবা কুদ্দুছ সরদার বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মুন্সিকে প্রধানসহ ১০জনকে সন্দেহ ভাজন আসামী করে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার বাদী কুদ্দুস সরদারের সাথে একই গ্রামের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মুন্সীর সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এ মামলার সূত্রধরে পালং মডেল থানার উপ-পরিদর্শক রুপুকর মামলটি তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে এজাহার নামীয় আসামীদের সাথে এ খুনের কোন যোগসাজস না পেয়ে পুলিশ ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে তদন্ত চালায়। আধুনিক প্রযুক্তি, মোবাইল নেটওয়ার্ক ট্রাকিং ও সোর্সের সহায়তায় পুলিশ সন্দেহভাজন পার্শ্ববর্তী উপরগাাঁও গ্রামের মোঃ রেজাউল করিম বেপারী ও মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন দেওয়ানকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা প্রতিপক্ষ ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মুন্সিকে ফাঁসানোর জন্যই পূর্বপরিকল্পিত ৫জনে মিলে ধারালো ছুরি দিয়ে সজিবকে গলাকেটে হত্যার দায় স্বীকার করে। পরে আসামীদের মঙ্গলবার শরীয়তপুর চিফজুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটে আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আসামীদের জবানবন্দী গ্রহন করেণ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মুক্তারানী ও কানিজ ফাতেমা রুপা। জবানবন্দী শেষে বিচারকগন আসামীদের জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রূপুকর বলেন, নীলকান্দি এলাকার মতিউর রহমান মুন্সীর সাথে মামলার বাদী কুদ্দুস সরদারের দ্বন্দ্ব ছিল। তাই মতিউর রহমান মুন্সীকে ফাঁসাতে আসামীরা সজিব সরদারকে হত্যা করে। প্রথমে সজিবের রিক্সায় যাত্রি হয়ে এক খুনী সজিবকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে একে একে সকল খুনীরা একত্রিত হয়। পরে সজিবকে গলা কেঁটে হত্যা করা হয়।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, দুইজন খুনীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে এবং আমাদের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের জন্য জোর চেষ্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ