সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

৪ বছর পর আব্দুল্লাহ হত্যার রহস্য উন্মোচন করলো পিবিআই

বগুড়া অফিস : বগুড়ায় হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর গাবতলীর আব্দুল্লাহ মন্ডল হত্যার রহস্য উন্মোচন করলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার মূলহোতা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চক সেকেন্দার গ্রামের শরিফুল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩২) কে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার সাগরপাড়া দক্ষিণ হালিশহর থেকে গ্রেফতার করার পর হত্যার রহস্য উম্মোচিত হয়।
জানা যায়, উক্ত রুবেলের কাছ থেকে ব্যবসাসহ বিভিন্ন সময়ে নানা কথা বলে প্রতিবেশী নিহত আব্দুল্লাহ মন্ডলের (৫৫) বড় ছেলে আলী হাসান প্রায় ১০ লাখ টাকা ধার নেয়। এই পাওনা টাকা চাইতে গেলে আলী হাসান তালবাহানা করে এবং তার পিতা আব্দুল্লাহ মন্ডলও খারাপ ব্যবহার করেন। আলী হাসান ব্যবসার নামে সেই টাকাগুলো আত্মসাৎ করতে নিজ স্ত্রীকে দিয়ে রুবেলের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর মামলা করে। টাকা ফেরত না পাওয়ায় গ্রেফতারকৃত রুবেল অনার্সে ভর্তি হতে পারেনি এবং মায়ের চিকিৎসা করতে না পারার কারণে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। এরপর হত্যার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আকতার হোসেন জানান, জমি বিক্রি করে দেয়া টাকা ফেরত না পাওয়ার কারণে হতাশায় ভুগতে থাকে গ্রেফতারকৃত রুবেল। রুবেল ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল বগুড়া শহরের চেলোপাড়া থেকে মোটর সাইকেলের ক্লাচের তার কেনে।
এরপর ২৭ এপ্রিল মধ্যরাতে আব্দুল্লাহ মন্ডল তার ঘরে একা থাকার সুযোগে খুন হয়। এ ঘটনায় গাবতলী থানা পুলিশ তদন্ত করে এজাহারনামীয় ৩ জনসহ মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে (রুবেলসহ) অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর মামলার বাদীর নারাজীর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই বগুড়াকে নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তে নামার পর পিবিআই সদস্যরা ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করে এবং ২৭ মার্চ সে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কামরুজ্জামানের আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। পরে তাকে আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ