সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

জনগণের মালিকানা ক্ষমতাশালীরা দখল করে রেখেছে -কাদের সিদ্দিকী

গাজীপুর সংবাদদাতা : কৃষক-শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের মালিকানা মানুষের একথা লেখা থাকলেও ভূমিদস্যু ও লুটেরারা যেভাবে অন্যের জমি দখল করে রাখে, সেভাবে বাংলাদেশের জনগণের মালিকানা ক্ষমতাশালীরা দখল করে রেখেছে। সরকারি অফিস আদালতে গেলেই টের পাওয়া যায় দেশের মালিক কারা।
তিনি বলেন, ভোট ছাড়া যারা সরকারে থাকে, আমি সেই দল করি না, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করি। যৌবনে আমার প্রেম হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে, এই দেশের সঙ্গে।
বুধবার সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ইকবাল সিদ্দিকী কলেজের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এসব কথা বলেন।
ভারতের আসামের এক বিধায়কের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, এখন কি হবে তা জানি না, তবে ৭১-এ ভারতের এমন কোনো ক্ষমতা ছিলনা যে তারা বাংলাদেশ দখল করে নেবে। যে বাঙালিকে পিন্ডি বাগে আনতে পারেনি, দিল্লির পক্ষে তাদের পদানত করা সম্ভব ছিলো না।
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দীন আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গতাজ তাজ উদ্দীনের নাতিকে যেদিন গুলশান থানায় নির্যাতন করা হয়েছে সেদিন প্রকারন্তরে গোটা মুক্তিযুদ্ধকে ও মুক্তিযোদ্ধাদেরকে এমনকি আমাকেও নির্যাতন করা হয়েছে, অথচ তার কোনো বিচার হয়নি। আমরা নিজের মানুষকে, নিজের ঘরের মানুষকে সম্মান করতে শিখি নাই, সম্মান দিতেও জানি না।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ. কে. এম. বদরুল আলম লিটন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ ছবদের হাসান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম হেলাল, মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ ফিরোজ মিয়া, ইকবাল সিদ্দিকী কলেজের ম্যানিজিং কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান, ব্রাইট মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফজালুল হক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল আলম প্রমুখ।
কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি গাজীপুরে গড়ে উঠা এ প্রতিষ্ঠান হবে মানবের, দানবের হবে না। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাহসী হবে, দরিদ্রকে ভালোবাসতে শিখবে, আবার অত্যাচারীর সামনে সিনা টান করে দাঁড়াবে, একদিন এই কলেজ দেশের এক নম্বর কলেজ হবে। আর সেটাই হবে এই প্রতিষ্ঠানের সার্থকতা। এই প্রতিষ্ঠানে যারা পড়ালেখা করবে তারা যেন মানুষ হয়, তারা যেন অমানুষ না হয়, কারণ আমাদের দেশে মানুষের বড় অভাব।
সভাপতির বক্তব্যে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, একাত্তরে দেশ মাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করতে যে হাত হানাদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্রের ট্রিগারে ছিলো, যে হাত বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ও প্রতিরোধ করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে ছিল মুষ্টিবদ্ধ, যে হাত পাকিস্তানী জেনারেল নিয়াজীর সম্প্রসারিত হাতকে প্রত্যাখ্যান করেছিল ঘৃণাভরে, সেই হাতের ছোঁয়া আজ আমাদের প্রতিষ্ঠান পেয়েছে এবং সে কারণে আজকে আমরা আনন্দে উদ্বেলিত, উজ্জীবিত ও শিহরিত।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি কলেজ ক্যাম্পাসে গাছের চারা রোপন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ