রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১
Online Edition

১১ দিনেও রূপসা নদীতে জিপসামসহ কার্গো ডুবির উদ্ধার তৎপরতা নেই

খুলনা অফিস : খুলনার রূপসা নদীতে জিপসামসহ কার্গো (এমভিবিবি-১১৩৪) ডুবির ১১ দিনেও উদ্ধার তৎপরতায় কেউ এগিয়ে আসেনি। কার্গোটি উদ্ধার না হওয়ায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে নৌযান চলাচল। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে বিভিন্ন নৌযান। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এদিকে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের দাবি ডুবে যাওয়া কার্গোটি যেহেতু পাঁচ বছর আগে চুক্তিভিত্তিক ভাড়া দেয়া হয়েছে। সেহেতু কার্গোটি উদ্ধার করার দায়িত্ব তাদেরই।
সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী আলী হোসেন প্রায় পাঁচ বছর আগে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা জমা রেখে এ কার্গোটি চুক্তিভিত্তিক ভাড়া নেয়। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ বলেন, প্রতিমাসে তিনি ভাড়ার টাকা পরিশোধ করে আসছেন। গত ১৫ মার্চ আকস্মিকভাবে রূপসা নদীতে ডুবে যাওয়া কার্গোটি উদ্ধারে আলী হোসেন এখনো পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কার্গোটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ বলেছেন। 
এদিকে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য গত ১৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে রূপসার সিংহের চর থেকে আসা একটি ডুবুরি দল ডুবে যাওয়া কার্গোর আশপাশ এলাকায় বয়া ও লাল পতাকা নিশানা দিয়ে রাখে। কিন্তু এখনও কোনো উদ্ধার তৎপরতায় নেই।
তবে ডুবে যাওয়া এ কার্গোটি উদ্ধার করতে কমপক্ষে একমাস সময় লাগবে বলে জানিছেন কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তবে কার্গোটি উদ্ধারে  মালিক পক্ষ এখনও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
এদিকে রূপসা নদীতে জিপসামসহ কার্গো ডুবিতে পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে জিপসাম সার নদীর পানির সাথে মিশে যাওয়ায় কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে তা বেরিয়ে আসবে ল্যাবে পরীক্ষা করার পর। আর এ  ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে পরিবেশ অধিদফতর খুলনা ইতোমধ্যে পানি ল্যাবে নিয়ে গেছেন।
সেভেন রিংস সিমেন্ট কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার (লজিস্টিক এন্ড কমার্শিয়াল) মো. এনামুল হক এর আগে বলেছেন, কার্গোটি সেভেন রিংস সিমেন্ট কারখানার জেটিতে নোঙ্গর করা ছিল।
 তিনি বলেন, তাদের সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল এক হাজার ৩৫ মেট্রিক টন জিপসাম নিয়ে মংলা বন্দর থেকে খুলনায় আসে। দুপুর ২টার পর হঠাৎ তলা ফেটে বিকট শব্দে কার্গোটি তলিয়ে যায়। কার্গো মালিক নারায়ণগঞ্জের আলী হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে (০১৭১৩৪৫৪৫৯৭) একাধিকবার ফোন করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।  
অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক মহাসচিব এডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ডুবে যাওয়া কার্গোটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ক্রেন দ্বারা দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন। অন্যথায় যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, কার্গোটি উদ্ধার করার দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের। 
বিআইডব্লিউটিসি খুলনার এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বলেন, রূপসা নদীতে ডুবে যাওয়া কার্গোটি নারায়ণগঞ্জের এক ব্যক্তি পাঁচ বছর আগে চুক্তিভিত্তিক ভাড়া নেয়। কিন্তু এ কার্গোটি যিনি ভাড়া নিয়েছেন তিনি এখনো পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতায় এগিয়ে আসেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ