রবিবার ২৯ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

অস্ত্রোপচারে নবজাতক দ্বি-খণ্ডিত : চিকিৎসকদের হাইকোর্টে তলব

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারকালে প্রসূতির জরায়ু কেটে ফেলা ও গর্ভের সন্তানকে দ্বি-খণ্ডিত করার ঘটনায় জেলার সিভিল সার্জন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এবং অস্ত্রোপচারকারী পাঁচ চিকিৎসককে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৪ এপ্রিল তাদের আদালতে হাজির হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন আদালত। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
এ বিষয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর আমলে নিয়ে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশসহ এ রুল জারি করেন।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।
তলবকৃত কুমিল্লা মেডিকেলের পাঁচ চিকিৎসক হলেন- গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. করুণা রানী কর্মকার, ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন ও ডা. আয়েশা আফরোজ।
শুনানিতে আসাদুজ্জামানের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ, ফারহানা ইসলাম খান ও আনিসুল ইসলাম।
আদালতের আদেশের পর এডভোকেট আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দৈনিক জনকন্ঠ ও দৈনিক আমাদের সময়ে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা হয়।
আদালত এ ঘটনায় সাতজনকে ৪ এপ্রিল তলব করেছেন। জড়িতদের বিরুদ্ধে কেনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহারিচালক, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, কুমিল্লার সিভিল সার্জন, মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পরিচালক, অস্ত্রোপচারে নেতৃত্বদানকারী চিকিৎসক কুমিল্লা মেডিকেলের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান করুণা রানী কর্মকারসহ অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
দৈনিক আমাদের সময়ে প্রকাশিত ‘সিজারকালে ডাক্তার দুই খ- করলেন নবজাতককে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, কুমিল্লায় এবার প্রসূতির পেটে নবজাতকের মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই প্রসূতির জরায়ু কেটে অপারেশন করা হয়েছে।
জুলেখা বেগম নামের ওই নারী গত এক সপ্তাহ ধরে সন্তান ও নিজের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হারিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছেন বলে জানানো হয় ওই প্রতিবেদনে।
ঘটনার বিবরণে সেখানে বলা হয়, মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের সফিক কাজীর স্ত্রী জুলেখা বেগম (৩০) প্রসব বেদনা নিয়ে ১৭ মার্চ রাতে কুমিল্লা মেডিকেলে ভর্তি হন। পরদিন তার অস্ত্রোপচার হয়। তখন নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি জুলেখার জরায়ু কেটে ফেলা হয় বলে তার স্বামীর অভিযোগ।
সফিক কাজী আমাদের সময়কে বলেছেন, হাসপাতালের একজন দারোয়ান তার মৃত নবজাতককে মাটিচাপা দেয়ার জন্য ৫০০ টাকা চান। পরে তিনি ৩০০ টাকা দেন। ওই দারোয়ান মৃত শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পান, মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। মোবাইল ফোনে ওই ছবি তিনি তুলে রাখেন।
অপারেশনে অংশ নেয়া চিকিৎসকরা ওই পত্রিকার সাংবাদিককে বলেছেন, জুলেখার গর্ভেই শিশুটির মৃত্যু হয়। প্রসূতির জীবন বাঁচাতেই তারা নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন করে বের করার পাশাপাশি জরায়ু কেটে ফেলতে হয়। এতে ডাক্তারদের অবহেলা ছিল না।
এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুরের লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টাওে অস্ত্রোপচরের মাধ্যমে এক প্রসূতির একটি বাচ্চা বের করে আনার পর আরেকটি বাচ্চাকে টিউমার ভেবে সেলাই করে দেয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে পেটে থাকা মৃত সন্তানটি বের করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ