রবিবার ২৯ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

জনতার জাগরণ সৃষ্টি হলে সকল স্বৈরশাসকের পতন অনিবার্য -ডা. জাফরুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার : বর্তমান সরকার ঘুষ দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে মন্তব্য করে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছন, শুধু ঘুষ দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। জনতার জাগরণ সৃষ্টি হলে সকল স্বৈরশাসকের পতন অনিবার্য। বর্তমান সরকার যত চেষ্টাই করুক না কেন তাদের অবৈধ ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারবে না। আওয়ামী লীগের চরম ব্যর্থতার কারণে আজকে দেশের মানুষ মুক্তি চায়।
গতকাল রোববার তোপখানাস্থ শিশুকল্যাণ মিলনায়তনে বিশিস্ট কমিউনিস্ট নেতা কমরেড আলাউদ্দিন আহমেদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বপন স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত “জনগণের মুক্তি : চলমান সংকট ও আলাউদ্দিন আহমেদ”-শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. শহীদুননবী ডাবলু'র সঞ্চালানায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রাষ্ট্রভাষা মতিনের সহধর্মীনি মিসেস মনিকা মতিন, পিডিবি মহাসচিব এহসানুল হক সেলিম, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, কমরেড আলাউদ্দিনের জেষ্ঠ্যকণ্যা কবি আফরোজা অদিতি, লেবার পার্টি মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, নাজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, কল্যাণ পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, ন্যাপ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, দেশবাঁচাও মানুষবাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, সাবেক ছাত্রনেতা এম.এন শাওন সাদেকী, ছাত্রনেতা কামরুল ইসলাম সুরুজ প্রমুখ।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, প্রতিমুহূর্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে মুখে ফেনা তুললেও মুক্তিযুদ্ধে চেতনা বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ। সরকার ৩০ লক্ষ শহীদের তালিকা করতে পারে নাই, রাজাকারের তালিকা করতে পারে নাই, এমনকি মুক্তিযুদ্ধাদেরও একটি সঠিক তালিকা তারা প্রণয়ন করতে পারে নাই। পারে নাই সু'শাসন প্রতিষ্ঠা করতে।
সরকারের এখন সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারি। স্বৈরাচারের তকমা সরকারের গায়ে লেগেছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে। অথচ সরকার এ নিয়ে কোন কথা বলছে না।
এ নিয়ে সরকারের অনুষ্ঠানিক কথা বলা উচিত যদি তারা গণতান্ত্রিক সরকার দাবি করে থাকে। তাদের আসলে এ ধরনের কোন প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই। আর এ কারণেই তারা জবাব দিতে পারছে না। এখনও সরকারের হাতে সময় আছে চাই ক্ষমতা চেয়ে বিদায় নিতে পারে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ২০ দলীয় জোট নেতাদের উদ্যেশে বলেন, বেগম জিয়ার জেলের সাথে নির্বাচনের সম্পর্ক নাই। বেগম জিয়াকে মুক্তি না দিলেও বিএনপি ও ২০ দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়া উচিত। মনে রাখতে হবে সরকার ভিতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে। জনতার জাগরণ সৃষ্টি হলে অমতল সমতল হয়ে যাবে। জনজোয়ারে কোন ষড়যন্ত্র টিকে থাকে না।
তিনি বলেন, আ.লীগ ও ভারতীয় 'র' বিএনপি ও ২০ দল যাতে নির্বাচনে না আসে সেই পথই সৃষ্টি করছে। সুতরাং আ.লীগের ছলনায় ধরা দেয়া যাবে না। আ.লীগ বা 'র' এর তৈরী পথে হাটলে সমূহ বিপদের সম্ভবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, কমরেড আলাউদ্দিন ছিলেন মাটি মানুষের নেতা। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে তিনি গণমানুষের মুক্তির জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। আমাদের স্বার্থে, আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই মওলানা ভাসানী-অলি আহাদ-ভাষা মতিন-কমরেড আলাউদ্দিনদের স্মরণ করতে হবে।
ভাষা মতিনের স্ত্রী মনিকা মতিন বলেন, বৈষম্যহীণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কমরেড আলাউদ্দিন সংগ্রম করেছেন। তার সেই সংগ্রামের পথ ধরেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, যাদের কারণে বাংলাদেশ আজ শাসকগোষ্ঠি ইতিহাস থেকে তাদের মুছে ফেলতে চাচ্ছে। মওলানা ভাসানী-কমরেড আলাউদ্দিনদের স্মরণ করতে হবে আগামী বাংলাদেশকে রক্ষার জন্যই। তাদের প্রদর্শিত পথে দেশের পতাকা-মানচিত্র রক্ষায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ