মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

এক মিনিট আলো নিভিয়ে কালোরাত্রিকে স্মরণ করলো জাতি

স্টাফ রিপোর্টার : ১ মিনিট আলো নিভিয়ে ২৫ মার্চ কালোরাত্রিকে স্মরণ করলো জাতি। এদিন রাতেই নীলনকশা অনুযায়ী জেনারেল ইয়াহিয়া খানের রক্তপিপাসু সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’র নামে ইতিহাসের বর্বর ও কাপুরুষোচিত গণহত্যার ঘটনা ঘটায়। ভয়াল এই দিনটি তাই আমাদের জাতীয় জীবনে হাতেগোনা কয়েকটির একটি বেদনাঘন দিন। সেই বিভীষিকাময় ঘটনার কারণে পঁচিশে মার্চের রাতটি ‘কালরাত’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গণহত্যার দিনটি জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে দিবসটি ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।
রাত ৯টা থেকে ৯টা ১মিনিট পর্যন্ত একমিনিটের জন্য সব ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়ে এই রাত স্মরণ করার ঘোষণা দেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ও কেপিআই এই আয়োজনের বাইরে ছিল।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞকে স্মরণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কালরাতের সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আলো নিভিয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উদ্বুদ্ধ করছে মন্ত্রণালয়।
এ দিকে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত‘ রক্তাক্ত ২৫ মার্চ : গণহত্যার ইতিবৃত্ত’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গণহত্যার ওপর ৯ ডিসেম্বর একটি কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর তখন থেকেই ওই দিনটি আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে আসছে।
৯ ডিসেম্বর গণহত্যা দিবস পালনের কোন পটভূমি নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ৯ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের জন্য সরকারের পররাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়াদী উদ্যানের শিখা চিরন্তনের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ আলোচক ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন(অব.) এবি তাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, লে. জেনারেল(অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক ও ২৫মার্চ রাজারবাগের প্রতিরোধ যোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিয়া বক্তব্য রাখেন।
আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার জন্যই বঙ্গবন্ধু যে স্থানে দাঁড়িয়ে ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন সেই স্থানে শিশুপার্ক নির্মাণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, তিনি (জিয়া) মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এ হীন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। যা দেশের মানুষের কাছে এখন দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আরো বলেন, এই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন এবং পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এই ঐতিহাসিক উদ্যানেই আত্মসমর্পণ করেছিল। আর ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী এই ঐতিহাসিক উদ্যান থেকেই ভারতীয় সেনা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সোহরাওয়াদী উদ্যান হলো দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর শিশুরা দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস জানার জন্যই এই ঐতিহাসিক স্থানে আসবে।
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোকচিত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানার গণহত্যাসহ মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর চালানো বর্বর গণহত্যার বিভিন্ন ছবি স্থান পায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ