মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হবার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতি রয়েছে ---বাণিজ্যমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হবার সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে। বাঙ্গালি বীরের জাতি, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে জানে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল আয়োজিত ‘এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন এন্ড কমপেটেটিভনেস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে-২-এর  উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ সব কথা বলেন। বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসুর সভাপতিত্বে জাতিসংঘে নিযুক্ত এক্সক্লুসিভ সেক্রেটারিয়েট ফর ইআইএফ-এর নির্বাহী পরিচালক রতœাকর অধিকারী, বিএফটিআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব আলী আহমেদ, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভিসি বিজয় ভট্টাচার্য্য, এফবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমই-এর প্রেসিডেন্ট মো. সিদ্দিকুর রহমান,  ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. মুনীর চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

২৩টি দাতা দেশ, ৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ৪৭টি স্বল্পোন্নতদেশ নিয়ে ১৯৯৭ সালে এ অংশীদারীমূলক প্রোগ্রাম শুরু হয়। ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৩ লাখ মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু দুইটি উদ্দেশ্য নিয়ে সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন, একটি হলো- বাংলাদেশকে স্বাধীন করা, অপরটি হলো বাঙ্গালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্বাধীন করে গেছেন, আজ তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক মুক্তির পথে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবার একধাপ এগিয়ে যাওয়া তারই প্রমাণ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে তৈরি পোশাক শিল্পে শিশুশ্রম বন্ধ এবং রফতানিতে কোটা প্রথা বাতিল করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আজ পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের রফতানির সিংহ ভাগ আসে তৈরি পোশাক রফতানি করে। শুধু একটি পণ্যের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। রফতানি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। এ জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় দেশের রফতানি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণের ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের আইসিটি খাত, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, কৃষিপণ্য রফতানি, চামড়া জাত পণ্য রফতানির মতো বেশ কিছু রফতানি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করলেও আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত এলডিসি ভুক্ত দেশের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবার পরও ইউরোপিয়ন ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে জিএসপি প্লাস নামে বাণিজ্য সুবিধা পাওয়া যাবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ভিশন-২০২১ সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল মধ্য আয়ের দেশ। যারা একসময় বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলেছিল, বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দরিদ্র দেশের রোল মডেল। 

আজ ৪৬ বছর পর তারাই বলছে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করতে জাতিসংঘের দেয়া তিনটি শর্তই পূরণ করেছে, অর্থাৎ যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফলে বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে, মর্মে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায় অতিক্রম করবে ২০২৪ সালে। এরপরও তিন বছর অর্থাৎ ২০২৭ পর্যন্ত বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশের সকল বাণিজ্য সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ