বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা রাখার জন্যই উন্নয়নের মিছিল করছে সরকার -আমির খসরু

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া আর কারো উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথা বলেন। জিয়া পরিষদের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স রুমে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজা এবং কারান্তরীণের প্রতিবাদে ‘অবরুদ্ধ গণতন্ত্র এবং বিপন্ন আইনের শাসন: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভা হয়।

আমির খসরু বলেন, আজকে দেশে উন্নয়নের মিছিল হচ্ছে। এটা কিসের মিছিল? এমন মিছিল অতীতে কেউ কখনো দেখেনি।

আমির খসরু আরো বলেন, মানুষের জীবনমান কমেছে। কর্মসংস্থান নেই। ব্যাংকের টাকা লুট হয়ে যায় কোনো বিচার নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। এই সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। এটা কী উন্নয়ন? কিসের উন্নয়ন হয়েছে? আসলে আবারো জনগণকে নির্বাচনের বাইরে রেখে এবং রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহর করে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্যই উন্নয়নের মিছিল করছে সরকার।

তিনি বলেন, এই সরকার আবারো ক্ষমতা দখল করার জন্যই বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের মালিকানা কেড়ে নেয়া হয়েছে।

আসলে খালেদা জিয়ার সাথে দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানুষের বাক স্বাধীনতা, জীবনের নিরাপত্তা সবকিছুই একাকার। আজকে দেশের মালিকানা ফিরে নেয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতেই হবে।

তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকে দেশে আওয়ামী লীগের নিরাপত্তা এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে যে, তাদেরকে উন্নয়নের মিছিল করতে হচ্ছে। অথচ দেশের সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও চালের মূল্য বেড়েছে কয়েক গুণ।

আমির খসরু বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একসাথে চলতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা নেই। তাহলে কিসের উন্নয়নের কথা বলছে? ৯ বছরে এই সরকার কি উন্নয়ন করলো? স্বৈরাচার এরশাদ সরকারও ৯ বছরে উন্নয়নের কথা বলেছিল। কিন্তু তার উন্নয়ন মানুষ গ্রহণ করেনি।

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দশ্যে বলেন, অনির্বাচিত সরকার ও সংসদ অবৈধ এবং অন্যায়ভাবে দেশ চালাচ্ছে।

আগামী দিনে বিএনপির সকল গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দেশের পট পরিবর্তন করতে হবে। যাতে করে দেশের মানুষ তাদের মালিকানা ফিরে পায়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে দেশ চালাতে না পারে। এক্ষেত্রে জিয়া পরিষদকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম হাসান তালুকদার।

জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহিল মাসুদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তৃতা দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ডা. আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, ড. জে কিউ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ