মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাপাহারে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে কর্ম সংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে

সাপাহার (নওগাঁ) সংবাদদাতা : বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক দেশের প্রতিটি জেলায় কর্মসংস্থানের লক্ষে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য নওগাঁ-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি, সাপাহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুল আলম শাহ চৌধুরী, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহাদ পারভেজ বসুনীয়া ও বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরী সম্মিলিত ভাবে নওগাঁ জেলার সীমান্তবর্তী সাপাহার উপজেলাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দানের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে  জোর সুপারিশ পাঠিয়েছে। সে লক্ষ্যে নির্বাহী অফিসার ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় উপজেলা সদরের অদুরে খেড়ুন্দা মৌজায় সাপাহার-খঞ্জনপুর বিওপি ক্যাম্প রাস্তার উত্তর পার্শ্বে জাতীয় সড়ক, নদী, আকাশ পথ, বিদ্যুত ব্যাবস্থা সহ যাবতীয় অবকাঠামোগত সুবিধাদির প্রতি লক্ষ রেখে ২৫৫.১৫ একর সম্পত্তির প্রস্তাব জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। 

জানা গেছে, ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে এই উপজেলা গঠিত। বৃটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে উপজেলাটি পোরশা থানার অর্ন্তভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৯ সালের অক্টোবর মাসে পোরশা থানা হতে পৃথক হয়ে সাপাহার থানায় রূপান্তরিত হয়। স্বাধীনতাপরবর্তী থানা হলেও বর্তমানে এই উপজেলায় প্রায় ২ লক্ষ মানুষের বসবাস। ভৌগলিক দিক দিয়ে সাপাহার উপজেলা একটি বরেন্দ্র এলাকা এখনার কার প্রধান অর্থকরি ফসল ধান, গম ও আম। সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা হলেও ইতোমধ্যে সাপাহার উপজেলা শিক্ষা, উন্নয়ন ও শিল্পের দিক দিয়ে দেশের বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। উপজেলা সদরে অনার্স মাস্টার্সসহ ১টি সরকারি ডিগ্রি কলেজ, অনার্সসহ একটি মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সুনামধন্য ঐতিহ্যবাহী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আল-হেলাল একাডেমি এন্ড কলেজসহ অসংখ্য মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সদরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বেশ কয়েকবার বিভাগীয় পর্যায়ে শিক্ষার দিক দিয়ে ১ম স্থান অধিকার করেছে। বর্তমানে জেলার মধ্যে সাপাহার উপজেলা একটি শিক্ষা নগরী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।  সাপাহার উপজেলার সাথে দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যাবস্থা যথেষ্ট উন্নত। ইতোমধ্যেই সাপাহার উপজেলার সীমান্তে খঞ্জনপুর বিওপি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় ভারতের সাথে ব্যাবসা ভিত্তিক স্থল বন্দর প্রতিষ্ঠার লক্ষে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ স্থানটি পরিদর্শন করেছে। এই উপজেলায় স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে এই উপজেলায় একটি স্থলবন্দর ও একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে এক দিকে যেমন সরকারের সমতাভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরণ হবে, অন্য দিকে উপজেলার হাজার হাজার খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের দ্বার উম্মোচিত হবে সে সাথে এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকা- উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। উপজেলাবাসী অনতি বিলম্বে নওগাঁ জেলার সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় একটি স্থলবন্দর ও কৃষি ভিত্তিক অথবা মিশ্র অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর/বিভাগের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ