বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বজ্রপাতে আতংকিত না হয়ে আগে থেকেই সতর্কতা ব্যবস্থা নেয়া দরকার

জাফর ইকবাল: মার্চ থেকে মে এবং অক্টোবর থেকে নবেম্বরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বজ্রঝড় হয়ে থাকে। চলতি বছরে এখনো বড় ধরণের অঘটন না হলেও মার্চের শুরুতে হালকা বৃষ্টির সাথে ঝড়ো বাতাস লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই বলছেন, এটি বজ্রপাতের পূর্বাভাস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছরই এ নিয়ে নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বজ্রপাতের সময় পাকা বাড়ির নিচে আশ্রয় নিতে এবং উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এসময় জানালা থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলা, টিভি-ফ্রিজ না ধরা, গাড়ির ভেতর অবস্থান না করা এবং খালি পায়ে না থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকতে আরও অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখা দরকার।
ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই কখনো কখনো মনে খুব সাধ জাগে বৃষ্টিতে ভেজার। কিন্তু উপায় কী, বজ্রপাত কিংবা বিদ্যুৎ চমকানোর ভয়ে সেটা হয়তো প্রায় সময়ই সম্ভব হয় না। এর কবলে প্রাণীকুল তো পড়েই, উদ্ভিদেরও নিস্তার নেই। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে তাকে ভোগ করতে হয় এই দুর্যোগ। বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষাকালে বিকেল ও সন্ধ্যায় বেশি বজ্রপাত হয়। বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই আবিষ্কার করেছেন আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রপাতের কারণ। প্রকৃতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে বজ্রপাত খুব পরিচিত, সুন্দর, রহস্যময় এবং একই সাথে আতঙ্কের। বজ্রপাতের এই ভয়ঙ্কর সৌন্দর্যের সাথে সাথে আমাদের মনে বিজ্ঞানের আরেকটি চিরন্তন রহস্যের জন্ম দেয়, বজ্রপাতের কারণ কি? ছোটবেলায় এই প্রশ্নের কারণ খুঁজতে গিয়ে আমরা বেশির ভাগ সময় এ উত্তর পেয়েছি, মেঘে মেঘে সংঘর্ষ্রে ফলাফল হলো এই বজ্রপাত।  বজ্রপাত সংক্রান্ত যে প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘুরপাক খায়- (১) কেন বজ্রপাত হয়?, (২) বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ চমকায় কেন?, (৩) বজ্রপাতের সময় শব্দ উৎপন্ন হয় কেন? (৪) বজ্রপাতের সময় কি পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়?
কেন বজ্রপাত হয়?: জলীয়বাষ্প ঘণীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হওয়ার সময় এতে প্রচুর স্থির বৈদ্যুতিক চার্জ (বষবপঃৎড়ংঃধঃরপ পযধৎমব) জমা হয়। মেঘ কিভাবে চার্জিত হয় তা নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে বেশ মতভেদ থাকলেও সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত মতবাদ হচ্ছে, পানিচক্রে জলকণা যখন ক্রমশ উর্ধ্বাকাশে উঠতে থাকে তখন তারা মেঘের নিচের দিকের বেশি ঘনীভূত বৃষ্টি বা তুষার কণার সাথে সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়। যার ফলে উপরের দিকে উঠতে থাকা অনেক বাষ্প পরমাণু বেশ কিছু ইলেকট্রন হারায়। যে পরমাণু ইলেকট্রন হারায় তা পজিটিভ চার্জে এবং যে পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করে তা নেগেটিভ চার্জে চার্জিত হয়। অপেক্ষাকৃত হাল্কা পজিটিভ চার্জ থাকে মেঘের উপর পৃষ্ঠে এবং ভারী নেগেটিভ চার্জ থাকে নিচের পৃষ্ঠে। যথেষ্ট পরিমাণ পজিটিভ (+) ও নেগেটিভ (-) চার্জ জমা হওয়ার পর পজিটিভ ও নেগেটিভ চার্জ পরস্পরকে আকর্ষণের দরুণ বষবপঃৎড়ংঃধঃরপ ফরংপযধৎমব প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফরংপযধৎমব তিন ভাবে হতে পারে-
(ক) মেঘের নিজস্ব পজিটিভ (+) ও নেগেটিভ (-) চার্জের মধ্যে (একে বলা হয় রহঃৎধ পষড়ঁফ বা, ওঈ ফরংপযধৎমব) (খ) একটি মেঘের পজেটিভ (+) কিংবা নেগেটিভ (-) চার্জের সাথে অন্য মেঘের নেগেটিভ (-) কিংবা পজেটিভ (+) চার্জের সাথে (একে বলা হয় পষড়ঁফ ঃড় পষড়ঁফ বা, ঈঈ ফরংপযধৎমরহম)
(গ) মেঘের পজেটিভ (+) চার্জের সাথে ভূমির (একে বলা হয় পষড়ঁফ ঃড় মৎড়ঁহফ বা, ঈএ ফরংপযধৎমরহম) উরংপযধৎমব হওয়ার সময় পজেটিভ (+)  চার্জ থেকে নেগেটিভ (-)  চার্জের দিকে বাতাসের মধ্য দিয়ে স্পার্ক আকারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। এ ঘটনাই হল বজ্রপাত। বজ্রপাতের শাব্দিক অর্থ হলো “ভূমিতে বিদ্যুৎ পতিত হওয়া”। তবে সব বজ্রপাতে ভূমিতে বিদ্যুৎ বা চার্জ পতিত হয় না। শুধু মাত্র ঈএ ফরংপযধৎমরহম প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বজ্রপাতে ভূমিতে বৈদ্যুতিক চার্জ পতিত হয়।
বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ চমকায় কেন?: বজ্রপাতের সময় বাতাসের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। আমরা জানি বাতাস বিদ্যুৎ অপরিবাহী। কিন্তু মেঘে জমা হওয়া স্থির বিদ্যুৎ এত উচ্চ বিভব শক্তি (১০ মিলিয়ন ভোল্ট পর্যন্ত) উৎপন্ন করে যে, তা বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার জন্য বাতাসের একটা সরু চ্যানেলকে আয়নিত করে পরিবাহী পথ (পড়হফঁপঃরাব ঢ়ধঃয) তৈরি করা হয়। আয়নিত পরমাণু থেকে বিকীর্ণ শক্তি তিব্র আলোক ছটা তৈরি হয়।
বজ্রপাতের সময় শব্দ উৎপন্ন হয় কেন?: উরংপযধৎমব হওয়ার সময় বাতাসের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, একে বলা হয় ধরৎ নৎবধশফড়হি। এ সময় বাতাসের যে চ্যানেলের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তার তাপমাত্রা প্রায় ২৭০০০ ডিগ্রি সেঃ (যা সূর্যের তাপমাত্রা থেকে বেশি) এ উন্নীত হয় এবং বাতাসের চাপ স্বাভাবিক চাপ থেকে ১০ থেকে ১০০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ চাপ এবং তাপমাত্রায় পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র এক সেকেন্ডের কয়েক হাজার ভাগের এক ভাগ। এত কম সময়ে তাপমাত্রা ও চাপের এত ব্যাপক পরিবর্তন চারপাশের বায়ুম-লকে প্রচ- গতিতে (বিস্ফোরণের মত) সম্প্রসারিত করে। এ সময় যে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয় সেটাই আমরা শুনতে পাই।
বজ্রপাতের সময় কি পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়?: ভূমি থেকে ৩ মাইল দূরত্বের বজ্রপাত (ষরমযঃহরহম ংঃৎরশব) গড়ে এক বিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ন জুল শক্তি উৎপন্ন করে। একটি ১০০ ওয়াট বাল্ব ১ সেকেন্ড জ্বালাতে শক্তি খরচ হয় ১০০ জুল। সে হিসাবে, ১০ বিলিয়ন জুল শক্তি দিয়ে ওই বাল্বকে ১১৬০ দিন বা প্রায় ৩৯ মাস অবিরাম জ্বালানো যাবে। বৈদ্যুতিক শক্তি পরিমাপক একক “কিলোওয়াট-আওয়ার” হিসেবে এ শক্তি ২৭,৮৪০ কিলোওয়াট-আওয়ার। বাংলাদেশে একটি পরিবার গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০০- ১৫০ ইউনিট (কিলোওয়াট-আওয়ার) বিদ্যুৎ ব্যাবহার করে। তার মানে একটি বজ্রপাতের বিদ্যুৎ শক্তি জমা করতে পারলে একটি পরিবার ১৮৫ মাস বা, প্রায়  ১৫ বছর বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ ব্যাবহার করতে পারবেন। চাইলে আপনিও বজ্রপাতকে ট্র্যাপে ফেলে বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ ব্যাবহারের সুযোগ লুফে নিতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে বজ্রপাত ঘায়েল করতে আপনি সময় পাবেন এক সেকেন্ডেরও কম (কারণ বজ্রপাতের পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে)। থেমে নেই বিজ্ঞানীরা। বজ্রপাত থেকে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ তড়িৎ শক্তিকে ধারণ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের বিষয়ে বিজ্ঞানীরা উৎসাহী হয়ে উঠেছেন এবং তা বাস্তবায়িত করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাধারণত পৃথিবীর বায়ুম-লে যতই ওপরের দিকে যাওয়া হয় ততই এর তাপমাত্রা কমতে থাকে। সেজন্য বিজ্ঞানীরা বায়ুম-লকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছেন। তবে তাপমাত্রা কম থাকার কারণে অনেক সময় দেখা যায় নিচ দিকের মেঘ ওপরের দিকে উঠতে থাকে।
বাতাসের নিন্মাঞ্চলে থাকা এ ধরনের মেঘকে বাজ মেঘ কিংবা ‘থান্ডার ক্লাউড’ বলে। তবে এই মেঘ যতই ওপরে উঠতে থাকে ততই এতে পানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পানির পরিমাণ যখন প্রায় পাঁচ মিলিমিটার হয় তখন এটা বন্ধনমুক্ত হয়ে ধনাত্মক  আয়ন ও ঋণাত্মক আয়নে বিভক্ত হয়ে যায়। এদিকে পৃথিবী ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট হওয়ায় মেঘের ঋণাত্মক আয়নসমূহ নিচের দিকে অবস্থান নেয় এবং ভূমির দিকে আকৃষ্ট হতে থাকে। অধিকাংশ সময়ে ঋণাত্মক আয়নের মান বেশি হয়। এ কারণে ঋণাত্মক আয়নগুলো পৃথিবীর ধনাত্মক আয়নের আকর্ষণে যখন নিচে চলে আসে তখনই বজ্রপাত হয়। এ সময় ওপর হতে নিচের দিকে বৈদ্যুতিক আধানের নির্গমনের ফলে আমরা আলোর ঝলকানি দেখতে পাই। এ সময় বিকট শব্দ শোনা যায়, ফলে বজ্রপাত আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এই বিকট শব্দটি মূলত হয় বাতাসের কারণে। ঋণাত্মক আয়ন পৃথিবীতে নির্গমনের সময় ওই স্থানে বাতাসের একটি বিরাট এলাকা শূন্য হয়ে আয়নগুলোর নির্গমন ঘটে এবং নির্গমনের পরে সেই বাতাস আবার আগের স্থানে ফিরে আসে। অল্প সময়েই বাতাসের এই প্রসারণ এবং সঙ্কোচনের কারণে আমরা বিকট শব্দ শুনতে পাই। এই আয়ন নির্গমনের সময় যদিও বিদ্যুৎ ও শব্দ একসঙ্গেই উৎপন্ন হয় তবু বিদ্যুৎ আগে দেখা যায় এবং শব্দ পরে শোনা যায়। এর কারণ হল আলো ও শব্দের বেগ।  আলোর বেগ সেকেন্ডে তিন লাখ কিলোমিটার আর শব্দের বেগ সেকেন্ডে মাত্র ৩৪০ মিটার।  এ কারণে বিদ্যুতের ঝলক আগে দেখা যায় এবং শব্দ পরে শোনা যায়।
তবে বজ্রপাত ঘটতে গেলে বৈদ্যুতিক আধানের নির্গমন দুটি মেঘের মধ্যে অথবা একটি মেঘ এবং ভূমির মধ্যেও হতে পারে। ভূমিতে যদি আধানের নির্গমন ঘটে সেক্ষেত্রে আধানগুলো খুব দ্রুত ভূমিতে চলে আসার ক্ষেত্রে কোনো পরিবাহী পেলেই সেটাতে আকৃষ্ট হয়। যে কারণে বড় বড় গাছের মাথায় বেশি বজ্রপাত হয়। এই উপমহাদেশে নারিকেল গাছের নতুন কচি পাতা প্রায়ই দেখা যায় মাঝখানের দিকে সূচাল হয়ে থাকে। যার ফলে এখানে নারিকেল গাছে বেশি বজ্রপাত হয়। উচ্চ বৈদ্যুতিক আধানের ফলে পরিবাহী সব সময়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এ ক্ষেত্রে এই আধান নির্গমন যদি কোনো প্রাণীর মধ্য দিয়ে হয় তখন তার মৃত্যু ঘটে। এ কারণে খোলা মাঠে বিদ্যুৎ চমকালে শুয়ে পড়তে বলা হয়।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা যা নেবেন: বজ্রপাতের সময় কি করা উচিত, আর কি উচিত নয়- সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান জানান, মার্চ থেকে মে এবং অক্টোবর থেকে নবেম্বরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বজ্রঝড় হয়ে থাকে। বজ্রপাতের সময় পাকা বাড়ির নিচে আশ্রয় নিতে এবং উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এসময় জানালা থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলা, টিভি-ফ্রিজ না ধরা, গাড়ির ভেতর অবস্থান না করা এবং খালি পায়ে না থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকতে যেসব বিষয় মাথায় রাখা দরকার- ১. ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে খোলা বা উঁচু জায়গায় না থাকাই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোনো দালানের নিচে আশ্রয় নেয়া যায়। ২. বজ্রপাত হলে উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বিদ্যুৎস্পর্শের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই বজ ঝড়ের সময় গাছ বা খুঁটির কাছাকাছি থাকা নিরাপদ নয়। ফাঁকা জায়গায় যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অত্যন্ত বেশি। ৩. বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছে গিয়ে উঁকিঝুঁকি নিরাপদ নাও হতে পারে। এসময় জানালা বন্ধ রেখে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। ৪. বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করা ঠিক হবে না। এমনকি ল্যান্ড ফোন ব্যবহার না করতেও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বজ্রপাতের সময় এগুলোর সংস্পর্শ এসে অনেকে স্পৃষ্ট হন। ৫. বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব ধরনের যন্ত্রপাতি এড়িয়ে চলা উচিত। টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বন্ধ করা থাকলেও স্পর্শ করা ঠিক হবে না। বজ্রপাতের আভাস পেলে আগেই প্লাগ খুলে রাখা ভালো। ৬. বজ্রপাতের সময় রাস্তায় গাড়িতে থাকলে যত দ্রুতসম্ভব বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করতে বলেছেন আবহাওয়াবিদরা। যদি তখন প্রচ- বজ্রপাত ও বৃষ্টি হয়, তাহলে গাড়ি কোনো বারান্দা বা পাকা ছাউনির নিচে রাখা যেতে পারে। ওই সময় গাড়ির কাচে হাত দেয়াও বিপজ্জনক হতে পারে। ৭. বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমতে পারে। অনেক সময় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে সেই পানিতে পড়ে হতে পারে দুর্ঘটনার কারণ। কাছে কোথাও বাজ পড়লেও সেই পানি হয়ে উঠতে পারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের কারণ। ৮. বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। যদি একান্ত বের হতেই হয়, পা ঢাকা জুতো ব্যবহার করা ভালো। রাবারের গামবুট এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কাজ করবে। ৯. বজ্রপাতের সময় রাস্তায় চলাচলেও খেয়াল রাখতে হবে। কেউ আহত হয়ে থাকলে দেরি না করে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে। তবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কাউকে ঘটনার সময় খালি হাতে স্পর্শ করলে নিজেও ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
বিলুপ্ত সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক সুজিত কুমার দেবশর্মা বলেছেন, কালবৈশাখীর মৌসুমে বজ ঝড় বেশি হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে গড়ে দুই থেকে তিনশ’ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তিনি আরও বলেন, ‘যখন কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি হয়, তখনই বজ্র ঝড় হয়ে থাকে। কিউমুলোনিম্বাস মেঘ হচ্ছে খাঁড়াভাবে সৃষ্টি হওয়া বিশাল আকৃতির পরিচালন মেঘ; যা থেকে শুধু বিদ্যুৎ চমকানো নয়, বজ্রপাত-ভারি বর্ষণ-শিলাবৃষ্টি-দমকা-ঝড়ো হাওয়া এমনকি টর্নেডোও সৃষ্টি হতে পারে।’ বায়ুম-লে বাতাসের তাপমাত্রা ভূ-ভাগের উপরিভাগের তুলনায় কম থাকে। এ অবস্থায় বেশ গরম আবহাওয়া দ্রুত উপরে উঠে গেলে আর্দ্র বায়ুর সংস্পর্শ পায়। তখন গরম আবহাওয়া দ্রুত ঠা-া হওয়ায় প্রক্রিয়ার মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে বজ্র মেঘের সৃষ্টি হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ