শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঢাকেশ্বরী মন্দির কর্তৃপক্ষ মুসলমানদের সম্পত্তি দখল করতে চায় -ওলামা লীগ

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকেশ্বরী মন্দির কর্তৃপক্ষ বাবরী মসজিদ স্টাইলে মুসলমানদের সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী ওলামা লীগ। প্রতিবাদে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩ দল। মানববন্ধনে আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা মুহম্মদ আখতার হোসেন বুখারী বলেন, ভারতে দেবোত্তর সম্পত্তি, মন্দিরের সম্পত্তি ইত্যাদি বিভিন্ন নামে বাবরী মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ যেভাবে ভেঙে দখল করে একই  স্টাইলে বাংলাদেশে মসজিদ মাদরাসা ও মুসলমানের সম্পতি দখলের কূটচাল শুরু করেছে। গেন্ডারিয়ায় মুসলমানদের মসজিদকে দেবোত্তর সম্পত্তির নামে দখলের অপতৎপরতা চালানোর পর এবার কথিত দেবোত্তর সম্পত্তির নামে মিথ্যাচার করে ঢাকেশ্বরী মুন্দিরের আশেপাশের মুসলমানদের জমি দখলের পাঁয়তারা করছে।
তিনি বলেন, মসজিদের জায়গায় মন্দির থাকার নামে যেভাবে বাবরী মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিলো সে একই স্টাইলে সব মামলায় বারবার হেরে যাওয়ার পর এখন মুসলমানদের সেই সম্পতিকে দেবোত্তর সম্পত্তির ঢেকুর তুলেছে ঢাকেশ্বরী কর্তৃপক্ষ। তারা নালিশী জায়গাকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলে দাবি করে জোরপূর্বক দখল ও সম্প্রদায়িক শক্তি প্রদর্শন, হুমকি দেয়ার মাধ্যমে ভক্ত এবং প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে সাম্পদায়িক সন্ত্রাস চালাচ্ছে। অথচ মামলার শুনানিতে কখনো দেবোত্তর নাম মুখেও উচ্চারণ করেনি। তাই মুসলমানদের নিজ দেশে পরবাসী করার ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং সকল মুসলিমদের সতর্ক থাকতে হবে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মোঃ আব্দুস সাত্তারসহ ১৩ সংঠনের অন্যান্য নেতা।
মানববন্ধনে বক্তারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে আরও বলেন, ভারতের মৌলবাদী হিন্দু সংগঠন কর্তৃক বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। অথচ উগ্র হিন্দুত্ববাদকে এ দেশে লালন করা হচ্ছে। প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে তাদের বসানো হচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বে এসব সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করছে। এর প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে পারে। তাই সরকারকে এ বিষয়গুলো দৃষ্টিতে রাখার আহ্বান করেন তারা।
বক্তারা বলেন, প্রশ্ন ফাঁস রোধে ব্যর্থতা, সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী  শিক্ষামন্ত্রীকে প্রত্যাহার করতে হবে। বামপন্থী শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার দাবি জানান তারা।
বিচ্ছিন্নতাবাদী ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসন দিবস পালন করছে এমন মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলকে তারা (ইউপিডিএফ) দক্ষিণ সুদানে পরিণত করতে চায়। অবিলম্বে রাষ্ট্রদ্রোহী আইনে তাদের গ্রেফতার করতে হবে ও হাজার হাজার বাঙ্গালি হত্যার নায়ক সন্তু লারমা কর্তৃক পার্বত্য জেলায় বাঙ্গালিদের নামজারি স্থগিতের নির্দেশ বাতিলের করতে হবে এবং সন্তু লারমাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে বহিষ্কার করার দাবিও জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ