শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গা সংকটে আইএস-এর উত্থানের আশঙ্কা মালয়েশিয়ার

একই মঞ্চে নাজিব রাজাক ও সু চি

১৮ মার্চ, ইন্টারনেট : মিয়ানমারের রাখাইনের অস্থিরতাকে এখন আর কেবলই একটি অভ্যন্তরীণ সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সম্মেলনে তিনি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চির সঙ্গে একমঞ্চে ছিলেন। সেখানে রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। রাজাক আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সহিংসতার শিকার হওয়া রোহিঙ্গারা ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর মতো বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। আইএস-এর এমন উত্থানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

গত বছর আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন-ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সরকার ধারাবাহিকভাবে ওই নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর পরিচিতি পেয়েছে রোহিঙ্গারা। নিজ দেশে এই সংকটের মধ্যে ১০ দেশের জোট আসিয়ানের সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া গেছেন মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচি।

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সু চির সঙ্গে মঞ্চ শেয়ার করে শনিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি এমন এক সংকট সৃষ্টি করেছে যাতে হাজার হাজার মানুষ আশাহীন হয়ে উঠছে। কোনও ভবিষ্যত দেখছে না তারা। আর এটা মৌলবাদীদের উর্বর ভূমি দায়েশ (জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসকে এই আরবি নামে ডাকে কেউ কেউ) বা এর সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

নাজিব বলেন, আমাদের অবশ্যই সতর্ক হয়ে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। কারণ সিরিয়া ও ইরাকের মূল এলাকাগুলোতে দায়েশের পতনের পর তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে ডেতে বাধ্য হয়েছে। যেকোনও স্থানে বিশেষ করে সংকটে থাকা এলাকা যেখানে তারা বেড়ে উঠে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেতে পারে সেখানেই তাদের পুনরুত্থান ঘটতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ