বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

রংপুরে চাঞ্চল্যকর খাদেম হত্যা মামলায় ৭ জেএমবির মৃত্যুদণ্ড ॥ খালাশ ৬

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পল্লী চিকিৎসক স্থানীয় মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় ৭ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদ- রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রংপুরের বিশেষ জেলা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার গতকাল রোববার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদ- প্রাপ্ত জেএমবির সদস্যরা হচ্ছেন- নব্য জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মন্ত্রী, একই দলের সদস্য  বিজয় ওরফে আলী ওরফে দর্জি, এছাহাক আলী, লিটন মিয়া ওরফে রফিক, চান্দু মিয়া, সাখাওয়াত হোসেন (পলাতক) এবং সরওয়ার হোসেন ওরফে সাবু। মাননীয় আদালত অভিযুক্ত আসামীদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
এ ছাড়া এই মমলায় খালাশ প্রাপ্ত জেএমবির সদস্যরা হচ্ছেন- সাদাত ওরফে রতন, তৌফিকুল ইসলাম, আবু সাঈদ, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব, - নজিবুল ইসলাম (পলাতক) এবং বাবুল আখতার।     
এদের মধ্যে মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, লিটন মিয়া এবং সাখাওয়াত হোসেন, চাঞ্চল্যকর  জাপানী নাগরিক হোশিও কুনি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী। এই হত্যা মামলায় গত ৪ মার্চ যুক্তিতর্ক প্রদর্শন শেষে নব্য জেএমবির ১৩ সদস্যের বিরুদ্ধে মাননীয় আদালত এরায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। 
গতকাল রোববার সকালে নজিরবিহীন কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রহমত আলী হত্যা মামলার জেএমবি জঙ্গিসদস্য ১৩ জন আসামীর মধ্যে ১১ জন আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়। এর পর সকাল সোয়া ১০টায় মাননীয় বিশেষ জেলাজজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার মামলার ১৬৩ পৃষ্ঠার রায় সম্পূর্ণ পড়ে শোনান। বেলা সোয়া ১২টায় রায় পড়া শেষ হয়।
মামলায় সরকার পক্ষে পিপি এডভোকেট আব্দুল মালেক ও  এডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক এবং আাসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট আবুল হোসেন ও আফতাব হোসেন। মামলায় বাদী সহ ৪৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ই নবেম্বর রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর বাজারের চৈতার মোড়ের নিজ দোকান থেকে রাত সাড়ে ১১টায় বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা টেপামধুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, স্থানীয় মাজারের খাদেম ও পল্লী চিকিৎসক রহমত আলীকে নৃশংস ভাবে জবাই করে হত্যা করে। খাদেম রহমত আলী তার বাড়ির সীমানায় অবস্থিত পীর কেবলা শাহ্ আব্দুস সাত্তার সাহেবের মাজারের খাদেম ছিলেন। প্রতি বছর ২১ নবেম্বর ঐ মাজারে ওরশ মাহফিল অনুষ্ঠিত হতো।  এ ঘটনায় তার ছেলে এডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এই মামলার তদন্ত শেষে গত বছর ১১ জুলাই রংপুর চিফ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক কামরুজ্জামানের আদালতে ১৪ জন নব্য জেএমবির সদস্যকে অভিযুক্ত করে প্রথম চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কাউনিয়া থানার ওসি (তদন্ত ) মামুনুর রশিদ। এদের মধ্যে পরবর্তিতে জেএমবি সদস্য বাইক হাসান ও সাদ্দাম হোসেন পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন। পরে পুলিশ আরও একজন আসামীকে যুক্ত করে ১৩ জন নব্য জেএমবির সদস্যের  বিরুদ্ধে গত বছর ১৬ ই আগস্ট বিশেষ জেলাজজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এর পর একই বছর ২৩ শে আগস্ট মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। আসামীদের মধ্যে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। দুইজন আসামী  পলাতক রয়েছে। প্রকাশ, একই বছর ৩ রা অক্টোবর কাউনিয়া উপজেলার আলুটারী গ্রামে জাপানী নাগরিক হোশিও কুনিকে দুর্বৃত্তরা গুলী করে হত্যা করে।   
মাননীয় আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন- ইসলাম শান্তির ধর্ম। অভিযুক্ত আসামীরা বিভ্রান্ত এবং পথভ্রষ্ট হয়ে এই হত্যাকা- ঘটিয়ে তা স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ