মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

বন্দীদের পাশাপাশি কারা অধিদফতরের কিছু কর্মচারীও মাদকের সঙ্গে জড়িত -আইজি প্রিজন

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের ৬৮টি কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ৭৭ হাজার ১২৪ জন। তাদের মধ্যে ৩৬.৯৭ শতাংশ মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বন্দীদের পাশাপাশি কারা অধিদফতরের কিছু কর্মচারীও মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত এক বছরে এই সংখ্যা ২০ জনের বেশি। কর্মচারীদের প্রত্যেককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। গতকাল রোববার আসন্ন ‘কারা সপ্তাহ ২০১৮’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কারা অধিদফতরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারাগারে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে একটা পথ বন্ধ হলে জড়িতরা অন্যটা ব্যবহার করছে। মাদকের সঙ্গে কারা কর্মচারীদের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া গেছে। তবে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
গত এক বছরে কতজন কর্মচারীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে? এর উত্তরে এই আইজি প্রিজন বলেন, ‘২০ জনের বেশি কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন ২-৩ জন। সরকারি চাকরি থেকে চাইলেও বরখাস্ত করা যায় না। অভিযোগ আসার পর পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতেও ছয় মাস লেগে যায়।’
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের ভাষ্য, ‘আমাদের সক্ষমতার অভাব রয়েছে। আমাদের জনবল অনেক কম। এই কম জনবল দিয়ে আমাদের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। মূল কাজগুলো করতেই আমরা হিমশিম খাচ্ছি। জনবল ঘাটতির মধ্যেও মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য বডি স্ক্যানার বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে যন্ত্রটি নিয়ে আসা হয়েছে। এখন শুধু স্থাপন করা বাকি। দ্রুত সময়ে তা চালু করা সম্ভব হবে।’
বন্দীদের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে বলে জানান কারা অধিদফতরের মহাপরিদর্শক। তিনি বলেন, ‘ডাটাবেজ তৈরির কাজ চালু রয়েছে। তবে এখন কিছুটা ধীরগতিতে হচ্ছে। সারাদেশে ৪০টি কারাগারে আংশিক কাজ হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলছে। কিছু কারিগরি সমস্যার সমাধান হলেই এই পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির সুফল পাবো।’
বন্দীদের মধ্যে জঙ্গি ৫৭৭ জন। তবে তাদের ডিরেডিকেলাইজড (উগ্রপন্থা থেকে ফিরিয়ে আনা) প্রক্রিয়া শুরু করা এখনও সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক। তার ভাষ্য, ‘আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। জঙ্গিরা একটা আদর্শে বিশ্বাসী। তাদের এই বিশ্বাস থেকে সরিয়ে আনতে তাদের থেকেও বেশি জানতে হবে আমাদের। আমরা সেই জ্ঞান আহরণের পর্যায়ে আছি। ইতোমধ্যে আমাদের ২০ জন কর্মকর্তাকে আমেরিকান দূতাবাসের সহায়তায় ডিরেডিকেলাইজেশন (উগ্রপন্থা থেকে স্বাভাবিকীকরণ) বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি সংস্থার তত্ত্বাবধানে আরও ২০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো প্রয়োগ করতে সময় লাগবে। তবে বন্দী জঙ্গিকে ক্লাসিফাইড করার চেষ্টা চলছে। তুলনামূলকভাবে কম উগ্রপন্থীদের আলাদা করা হচ্ছে।’
কারা মহাপরিদর্শক ইফতেখার উদ্দিন জানিয়েছেন, কারাগারকে পুরোপুরি সংশোধনাগারে রূপান্তর সম্ভব হয়নি। তার ভাষ্য, ‘স্বল্প জনবল নিয়ে আমরা মূল দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। একজন বন্দীকে সংশোধনের জন্য তিনটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়েছে। প্রথমে রয়েছে শৃঙ্খলা। দ্বিতীয়, চারিত্রিক সংশোধন ও তৃতীয় দক্ষতা বৃদ্ধি। আমরা প্রথম দুটি করতে পারিনি। তবে তৃতীয়টি অর্থাৎ দক্ষতা বৃদ্ধির কাজ করছি। যাতে একজন বন্দী কারাগার থেকে বের হওয়ার পর দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে জীবন ধারণ করতে পারে। বাকিগুলো সময়ের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’
আগামী ২০ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ উদযাপন করা হবে ‘কারা সপ্তাহ ২০১৮’। এবারের শ্লোগান ‘সংশোধন ও প্রশিক্ষণ, বন্দীর হবে পুনর্বাসন’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ