বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

বিশেষ বিমানে করে কাঠমান্ডু থেকে ২১ যাত্রীর লাশ ঢাকায় আসছে আজ

স্টাফ রিপোর্টার : নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা ফ্লাইটের শনাক্তকৃত ২১ যাত্রীর লাশ দেশে আসছে কাল। নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘একটি বিশেষ বিমানে করে ওই ২১ যাত্রীর লাশ আজ সোমবার  ঢাকায় আনা হবে।’
জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১৭টি মৃতদেহ সনাক্ত করা হয়েছে এবং আরো ৪টি মৃতদেহ প্রায় সনাক্ত হবার পথে রয়েছে। সনাক্ত হওয়া মৃতদেহগুলোর কফিন প্রস্তুত করার কাজ শেষে নেপালি কর্তৃপক্ষ সেগুলো বাংলাদেশ দূতাবাসের হাতে তুলে দেয়। দূতাবাস সেগুলো বিশেষ বিমানে করে ঢাকায় পাঠাবে। ঢাকায় আত্মীয় স্বজনদের কাছে মৃতদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে।
 নেপাল থেকে বাংলাদেশী চিকিৎসক দলের সদস্য সোহেল মাহমুদ বলেন, যে সতেরটি মৃতদেহ ইতোমধ্যেই সনাক্ত করা হয়েছে সেগুলো আত্মীয় স্বজনকে দেখানো হয়েছে এবং তারাও সনাক্ত করতে পেরেছেন। তবে যেগুলো এভাবে সনাক্ত করা যাবেনা সেগুলো ডিএনএ নমুনা নিয়ে সনাক্ত করা হবে। সেক্ষেত্রে পাঁচজনকে ডিএনএ পরীক্ষা করতে হতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে গতকাল রোববার আরো ৪ জনের মরদেহ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়েছে। নেপালের ফরেনসিক বিভাগের কাছে নিহতদের স্বজনদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহগুলো শনাক্ত করা হয়। এছাড়া আঙুলের ছাপ মিলিয়ে বাকি ৫ বাংলাদেশির মরদেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। 
 বিমান দুর্ঘটনার পর পেরিয়ে গেছে ৭ দিন। এখনও নেপালে মর্গের সামনে স্বজন হারাদের অপেক্ষা। দুঃসহ এই অপেক্ষার যেন শেষ নেই। একজন নিহতের বাবা বলেন, চেহারা বিকৃত হলে তো চিনতে পাওরবো না, কিন্তু হাত-পায়ের গঠন দেখে চিনতে পারবো। আরেকজন বলেন, আশা করা হচ্ছে মঙ্গলবার তারা আমাদের কাছে মরদেহ স্থানান্তর করা হবে।
এদিকে আহত ইয়াকুব আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ দিল্লী পাঠানোর কথা রয়েছে। বিমান দুর্ঘটনায় আহত ৫ বাংলাদেশী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। আহতরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
 ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসিরউদ্দিন বলেন, আমরা রোগী সবগুলোকে দেখেছি। আজকে আরো দুজন আশার সম্ভাবনা আছে। তাদের জন্য প্রস্তুতি রেখেছি যেন তারা আসলে তাদের সেবা দেয়া যায়। আমরা আশা করি তাদের রোগীর সেবায় কোনো অসুবিধা হবে না। এছাড়া এই সকল রোগীর চিকিৎসার খরচ বহন করছে হাসপাতাল। তাই তাদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে কোন সমস্যা হবে না।
 ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুরো দেশবাসীকে বলতে চাই, যারা এখানে এসেছেন তাদের যতটুকু দরকার ছিল, ততটুকু যত্ন করে রোগীদের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন থেকে স্থিতিশীল অবস্থার দিকে নেয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে তারা সব কিছু কাটিয়ে উঠতে পারবে।
বিমান দুর্ঘটনার কারণ জানতে বাংলাদেশ এবং নেপাল যৌথভাবে তদন্ত করছে। ইউএস বাংলার বিধ্বস্ত হওয়া বিমানে কারিগরি কোন ত্রুটি ছিলো না বলে জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশনের তদন্ত কমিটির প্রধান ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ।
 রহমতউল্লাহ  বলেন, যত পুরনোই হোক না কেন বিমান কোনোদিন পুরনো হয় না। যখনই মেরামত করা হয় তখন হয়ত কোনো যন্ত্রাংশ ফেলে দিতে হয়। এই বিমানের কোনো সমস্যা ছিল না। বিমানটি যাওয়ার সময় আমরা এতে কোনো সমস্যা পাইনি। কোনো পাইলটই সমস্যা নিয়ে যান না।
এদিকে নেপালে বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ইউএস-বাংলার পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন। রোববার সকালে রাজধানীর উত্তরার বাসায় তিনি স্ট্রোক করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নিউরো সাইন্স হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করেন। আফসানা খানমের ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তার চাচী পরিচয় দিয়ে এক নারী এ তথ্য জানান। তবে ওই নারী নিজের নাম বলতে চাননি।
আফসানা খানমের চাচী আরো জানান, সকাল নয়টার উত্তরার নিজ বাসাতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে আফসানা। এরপর তাকে নিউরো সাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল থেকে ক্যাপ্টেন ওয়াহেদ উদ জামান বলেন, নিহত আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানমের হার্টে একাধিক ব্লক ধরা পড়েছে। তাকে ক্যাপ্টেন আবিদের আপন বড় ভাই নিউরো বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে ৭১ আরোহী নিয়ে গত ১২ মার্চ দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার সময় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১ রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এতে বিমানের ৫১ আরোহী নিহত হন। উড়োজাহাজে চার ক্রুসহ ৩৬ বাংলাদেশি ছিলেন। এদের ২৬ জনই নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ২৮ লাশ সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ১০ জন নেপালি ও একজন চীনের নাগরিক।
ওই দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট আবিদ সুলতান নিহত হন। জানা গেছে, পরপর চারটি ল্যান্ডিংয়ের পরেও তাকে নেপালে ওই ফ্লাইট নিয়ে যেতে হয়েছিল। এ নিয়ে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ক্যাপ্টেন আবিদ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ছাড়ার জন্য তোড়জোড় করেছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ