বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিরোধী দলের জন্য সমস্ত গণতান্ত্রিক স্পেস রুদ্ধ

সচেতন জনগণের মনে হাজারো প্রশ্ন। খালেদা জিয়াকে তো সরকার ৫ বছরের জন্য কারাদ- দিয়েছে এবং তাকে জেলে ঢুকিয়েছে। তারপরেও সরকার ক্ষান্ত হচ্ছে না কেন? বেগম জিয়া তো জেলে যাওয়ার আগে একাধিকবার তার নেতা, কর্মী এবং তার কোটি কোটি সমর্থক ও অনুরাগীদের বলে গেছেন যে তার জেলে যাওয়ার পর জনগণ আন্দোলন করতে চাইলে করুন, কিন্তু সেটি হবে নিয়মতান্ত্রিক পথে। সেটি হতে হবে গণতন্ত্রের পথে। কোনোরূপ সহিংসতা সেখানে স্থান পাবে না। আন্দোলন হতে হবে সম্পূর্ণ অহিংস। আসলে এতদিন তাই হচ্ছিল। এখনও তাই হচ্ছে। কিন্তু সরকার এবং আওয়ামী লীগ এই শান্তিপূর্ণ এবং অহিংস আন্দোলনও সহ্য করতে পারছে না কেন? বিএনপি এপর্যন্ত যতগুলো কর্মসূচি দিয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মানব বন্ধন, অনশন, অবস্থান ধর্মঘট, কালো পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এবং খুলনা ও চট্টগ্রামে জনসভা। কিন্তু প্রত্যেকটি কর্মসূচিতেই সরকার শুধু বাধাই দিচ্ছে না, রীতিমত হামলা করছে কেন? অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে বিএনপি অফিসের সামনে কালো পতাকা নিয়ে বিএনপি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে চেয়েছিল। এমনকি রাস্তাতেও তারা নামার চেষ্টা করেনি। কয়েকশত নেতাকর্মী বিএনপির নয়া পল্টন অফিসের সামনে ছোট ছোট কালো পতাকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে চেয়েছিল। সরকার ও আওয়ামী লীগ সেটিও করতে দেয়নি। মশা মারতে কামান দাগা বলতে একটি কথা আছে। সরকার ঐদিন কালো পতাকাধারীদের ওপর সমানে টিয়ার গ্যাস মারতে থাকে এবং জল কামান থেকে গরম রঙ্গীন পানি ছিটিয়ে দেয়।
এরপর ৬ মার্চ থেকে ১২ মার্চ, এই কয় দিনে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে পন্ড করে দেয়ার জন্যও সরকার দক্ষ যজ্ঞকা- শুরু করে। একদিন প্রেস ক্লাবের মধ্যে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ৪ জন যুবক (হয়তো তারা ডিবি পুলিশ) প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে পিস্তল উঁচিয়ে বিএনপির কয়েকজন তরুণ যুবককে ধরে নিয়ে যায়। আরেকদিন আরেকটি যুবক একটি সমাবেশে হাজির ছিল। পুলিশ তাকে ধরতে গেলে সে মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে জড়িয়ে ধরে গ্রেফতার এড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু তার করুণ আকুতি কেউ শোনেনি। এভাবে যাদেরকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার নাম জাকির মিলন। তাদেরই একজনকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে হত্যা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, মৃত্যুর আগে তাকে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়েছে। তার হাত পায়ের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। এই ছেলেটির মৃত্যুর বিবরণ বড়ই করুণ।
এ সম্পর্কে জাকিরের আপন চাচা মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ সরাসরি অভিযোগ করেন যে, সুস্থ অবস্থায় তাকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়। যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ মৃত্যু অবশ্যই পুলিশ হেফাজতে হয়েছে। মিলনকে রিমান্ডে নেয়ার পর আমি নিজে শাহবাগ থানা ও ডিবি পুলিশের কাছে গিয়ে মিলনের অবস্থান জানার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পুলিশ কিছুই জানাতে চায়নি। এসআই অমল কৃষ্ণ দে’র কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এসআই অমল কৃষ্ণ দে আসামী জাকির হোসেন মিলনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এসআই অমল কৃষ্ণ দে বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক মিলনকে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার হেফাজতে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে ডিবি পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। জানা গেছে, রোববার রিমান্ড শেষে জাকিরকে পুলিশ আদালতে হাজির করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে সোমবার সকালে ঢামেক হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ সম্পর্কে ডেইলি স্টার করুণ এবং মর্মস্পর্শী বিবরণ ছাপিয়েছে। ডেইলি স্টারের বিবরণের অনুবাদ নি¤œরূপ: মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে জাকির হোসেনের চাচা তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, পুলিশ হেফাজতে তার ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে কিনা। এই প্রশ্ন শুনে জাকিরের মুখম-ল ম্লান ও বিবর্ণ হয়ে যায়। উত্তরে জাকির তার চাচাকে বলেন, আমার খারাপ লাগছে। আমার জন্য দোয়া করবেন। সম্ভবত আমি আর বাঁচবো না। এর কয়েক ঘন্টা পরই জাকির মারা যায়। জাকিরের চাচা বলেন  পুলিশ তাকে হত্যা করেছে। জাকিরের বোন সুলতানা রাজিয়াও বলেন যে পুলিশী জুলুমের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার বোন বলেন, গ্রেফতারের আগে আমার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। গ্রেফতারের পর এমন কি ঘটল যে তাকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হলো? তার পরিবার বলেন যে জাকিরের শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসব আঘাতের ছবিও তারা সাংবাদিকদের দেখিয়েছেন।
॥দুই॥
প্রতিদিন এধরনের অনেক ঘটনা ঘটছে। আমরা এখানে দুয়েকটি উল্লেখ করলাম। প্রশ্ন হলো, কেন এমন নগ্নভাবে গণতন্ত্রবিরোধী স্বৈরাচারী জুলুম চালানো হচ্ছে? এ সম্পর্কে আমরা কোনো মন্তব্য করবো না। কিন্তু তাই বলে সত্য কোনদিন চাপা থাকে না। সরকারের ভেতরের খবর ফাঁস করে দিয়েছে ঢাকার ‘বাংলা ট্রিবিউন’ নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। গত ১৪ মার্চ বুধবার পত্রিকাটি ফলাও করে যে সংবাদ ছেপেছে তার শিরোনাম হলো, “খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে বিএনপির কর্মসূচিতে সরকারের ‘না’”। খবরে বলা হয়েছে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে বিএনপিকে রাজপথে আর কোনও কর্মসূচি পালন করতে দেবে না সরকার। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিএনপি যেখানেই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি পালনের সুযোগ বা অনুমতি চাইবে, তা না দিতে ঢাকাসহ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সরকারের মৌখিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সরকারের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই খলেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো মনে করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আদালতের বাইরে গিয়ে রাজপথে আন্দোলন করা মানে বিচারকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা। এটা দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে বিএনপির চক্রান্ত। বিএনপিকে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়া মানে বিচার বিভাগের ওপরে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির সুযোগ তৈরি করে দেয়া। ফলে নৈতিকভাবে সরকার এই সুযোগ বিএনপিকে দিতে পারে না। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির বাইরে অন্য কোনও দাবিতে কর্মসূচি পালনের অনুমতি চাইলে সেক্ষেত্রে বিচার-বিবেচনা সাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্টদের এমন মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঐ নিউজ পোর্টালটির খবরে আরো প্রকাশ, আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক ও সরকারের দুজন মন্ত্রী জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি হলো, রায়ের বিরুদ্ধে কোনও কর্মসূচি পালন করতে দেয়া মানে প্রচলিত আইন বিরুদ্ধ কাজ। সরকার আইনের ধারক-বাহক হয়ে আইন বিরুদ্ধ কোনও কাজ করার সুযোগ কোনও রাজনৈতিক দলকে দিতে পারে না। এই যুক্তি তুলে ধরে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আয়োজিত আন্দোলন মোকাবিলা করবে সরকার।
রিপোর্টটিতে আরো বলা হয়, দু’জন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সরকারের এই অবস্থানের কথা নিশ্চিত করে আরও জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে রাজপথ ছাড়তে হবে বিএনপিকে। তার মুক্তির দাবিতে তাদের আদালতে যেতে হবে। আদালত খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়েছে, মুক্তিও আদালতই দেবে। তাই রাজপথ ছেড়ে আদালতে মামলা মোকাবিলা করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রচলিত আইন মেনে আদালত শাস্তি দিয়েছে। বিএনপির উচিত হবে আইনিভাবে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার পথে যাওয়া। এই দাবিতে রাজপথে আন্দোলন যুক্তিযুক্ত নয়।’
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ‘আদালতের বিরুদ্ধে কোনও কর্মসূচি রাজপথে পালন করার সুযোগ নাই। এটা আদালত অবমাননা ও আইন অমান্য করা। এক্ষত্রে সরকার নিশ্চয়ই ভূমিকা পালন করবে।’ আওয়ামী লীগের সভাপতি-লীর আরেক সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যদি কোনও প্রতিবাদ কেউ করতে চায়, সেটা নিয়ম মেনে আদালতেই করতে হবে। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নামা আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। সরকার এই সুযোগ কোনও রাজনৈতিক দলকে দিতে পারে না’।
॥তিন॥
সরকারে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ কথায় কথায় আইনের প্রশ্ন তোলে এবং সংবিধানের দোহাই পাড়ে। সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বললে অথবা নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিতে বললে তারা বলে যে এসব ব্যবস্থা সংবিধানে নাই। এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সেগুলি সংবিধানের পরিপন্থী হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ভুলে যায় যে ৯০ এর গণআন্দোলনে জেনারেল এরশাদের পতন হলে চীফ জাস্টিস সাহাবুদ্দিনকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট করা হয়। আবার নির্বাচনের পর সংসদ গঠিত হলে জাস্টিস সাহাবুদ্দিনকে প্রধান বিচারপতির পদে ফেরত পাঠানো নয়। আওয়ামী লীগ কি বলবে যে চীফ জাস্টিসকে প্রেসিডেন্ট করা, আবার প্রেসিডেন্টকে চীফ জাস্টিসের পদে ফেরত পাঠানো তৎকালীন সংবিধানের কোথাী লেখা ছিল? এমনকি জেনারেল এরশাদের পতনের পর নির্বাচনে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি যখন সরকার গঠন করে তখনও প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি থেকে সংসদীয় পদ্ধতিতে সরকারের রূপান্তর ঘটানোর পরেও চীফ জাস্টিসকে প্রেসিডেন্ট করা এবং প্রেসিডেন্টকে চীফ জাস্টিস করার কোনো বিধান ছিল না। তারপরেও সেটি করা হয় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতির ভিত্তিতে। এই সম্মতিটি সংবিধান সংশোধনী আকারে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বেগম জিয়ার সরকারের আমলেই আওয়ামী লীগ কেয়ার টেকার সরকারের দাবি তোলে। কেয়ার টেকার সরকারের এই বিধান সংবিধানের কোথাও ছিল না। তারপরেও দেশে নতুন করে নির্বাচন করে সেই বিধানটি অর্থাৎ কেয়ারটেকার সরকারের বিধানটি ত্রয়োদশ সংশোধনী আকারে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সুতরাং এই দুটি ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে সংবিধানে আগেভাগেই সব কথা লেখা থাকে না। সেজন্যই প্রতিটি দেশের সংবিধানে সংশোধনীর একটি ব্যবস্থা থাকে। আমাদের দেশেও বিগত ৪৭ বছরে ১৬ বার সংবিধানের সংশোধন করা হয়েছে। এখন প্রয়োজনের তাগিদে, রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির সম্মতিতে ১৭ নং সংশোধনী বা সপ্তদশ সংশোধনী পাশ করা যেতে পারে। তাহলেই সমস্ত সংকটের অবসান হতে পারে।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে আওয়ামী লীগ কোনো রকম যুক্তির কথা শুনতে রাজি নয়। এই ধরনের আচরণ করে থাকে সাধারণত স্বৈরাচারী সরকার বা ডিক্টেটর সরকার। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ঐসব সরকার কোনো রকম যুক্তির ধার ধারে না। ঐ ধরনের সরকার বিরোধী দলের মতামতকে স্তব্ধ করে দেয়, বিরোধী দলকে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় না। নিষ্ঠুর ও নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়।
এখন আওয়ামী লীগ সরকার যা করছে তাতে পরিষ্কার মনে হচ্ছে যে তারা দ্রুত একদলীয় সরকারের পথে ধাবিত হচ্ছে।
Email: asifarsalan15@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ