বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ওরা যুদ্ধ শুরু করায় কিন্তু থামায় না আর

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে জাতিসংঘ তদন্ত কমিশন গত ১৫ মার্চ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ তদন্তকারী দল সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও অন্যান্য যৌথ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দেশটির বিরোধী পক্ষের নারী-পুরুষ ও শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ এনেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সিরিয়া যুদ্ধে সরকারবিরোধী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশুদের ওপর যে হারে নিপীড়ন চলছে তাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের এক নগ্নচিত্র বলা যেতে পারে। এদিকে ২০১৭ সালে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার প্রায় এক তৃতীয়াংশ আবাসস্থল এবং অর্ধেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। উপলব্ধি করা যায় যে, বিগত মাসগুলোতে এই ধ্বংসের হার আরো বেড়ে গেছে।
১৬ মার্চ ইউএসএ টুডে পরিবেশিত খবরে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সিরীয় গৃহযুদ্ধে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গৃহহীন হয়েছেন আরো কয়েক লাখ মানুষ। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এক সময় সংঘাতে রূপ নেয়। টানা সাত বছর ধরে এই সংঘাত চলছে। শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়েছে সিরিয়া সংঘাত। মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের কারণে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে সিরিয়ার বেশ কিছু অঞ্চল। জঙ্গিরা বিভিন্ন স্থান দখল করে বেসামরিক নাগরিকদের জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের নাজেহাল করেছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বহু মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বেশি শরণার্থী সংকট তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য যে, অর্থনৈতিক সমস্যা ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ জনগণ আন্দোলন শুরু করেছিল। নির্মম পরিহাস হলো, জনগণের আন্দোলন বৃহৎ শক্তিবর্গের হস্তক্ষেপের কারণে যৌক্তিক পরিণতি লাভ করতে পারেনি।
বাস্তবতা হলো, সিরিয়া সংকটের সুরাহার বদলে বৃহৎ শক্তিবর্গ আপন-আপন অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক স্বার্থে সংকটকে শুধু জটিলই করেনি, সুরাহার পথও বন্ধ করে রেখেছে। ফলে বিমান হামলা, অস্ত্রের ঝংকার ও নানামুখী আঘাতে সিরিয়া বসবাসের অনুপোযোগী একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাঁচার তাগিদে জনগণ অভিবাসী হয়েছে, সাগরে ডুবে মরেছে। তবুও সিরিয়া সংকটের সুরাহা হলো না। বর্তমান সভ্যতায় মুসলিম দেশগুলো এভাবেই ধ্বংস হচ্ছে। ওরা যুদ্ধ শুরু করায়, ইন্ধন দেয়, কিন্তু থামায় না আর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ