মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০
Online Edition

জমি জটিলতায় তেরখাদার কাজ আটকে গেছে

খুলনা অফিস : খুলনার দু’টি অর্থনৈতিক জোনের মধ্যে একটির কাজ এগিয়ে চললেও জমি জটিলতায় কার্যক্রম আটকে গেছে অপরটি। জমি অধিগ্রহণ কাজেই চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। দু’টির মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার নির্মাণাধীন অর্থনৈতিক জোনের জন্য জমি বুঝে নেয়ার কাজ চলতি মাসের শেষ নাগাদ শুরু হবে। অন্যদিকে তেরখাদা উপজেলায় সরকারি খাস এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ কাজে মামলার চক্রে পড়েছে প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত স্থানীয় প্রশাসনও।
খুলনা জেলা প্রশাসনের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় দু’টি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার লক্ষ্যে তেরখাদা এবং বটিয়াঘাটা উপজেলাকে বেছে নেয়া হয়। এরমধ্যে তেরখাদা উপজেলার কোলা পাটগাতি মৌজা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা মৌজার জমি সুবিধাজনক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ দুই উপজেলার সংশ্লিষ্ট জায়গা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিদর্শনও করা হয়। তবে অধিগ্রহণের পূর্বে যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয় প্রশাসন।
সূত্রটি জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ১২টি অর্থনৈতিক জোন অনুমোদিত হয়। শিল্পখাতের দ্রুত বিকাশ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রফতানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে উৎসাহ প্রদান, পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নেয়। মংলা অর্থনৈতিক জোনের ডেভেলপার নিয়োগ হয়েছে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে এসব অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, দেশীয় বিনিয়োগকারিদের পাশাপাশি জাপান, কোরিয়া, ভারত, পানামা, তুরস্ক, ইউক্রেন, ডেনমার্ক, সুইডেন, ইতালি, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন অর্থনৈতিক জোনে পুঁজি বিনিয়োগ করবে। অর্থনৈতিক জোনে সয়াবিন তেল, সুপারি, বাইসাইকেল, তাঁবু, ক্যামেরার লেন্স, কেমিক্যাল শিল্প, প্লাস্টিক দ্রব্য, এনার্জি সেভিং বাল্ব, গাড়ির যন্ত্রাংশ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, চশমা, ব্যাটারি, ধাতব শিল্প, গলফ শ্যাফট, জুতার এক্সেসরিজ ইত্যাদি উৎপাদন হবে।  অর্থনৈতিক জোন সম্পর্কে বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার জগন্নাথ ঘোষ জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের এলএ শাখায় একটি প্রাথমিক কার্যক্রমের নির্দেশ আসে। নির্দেশনা অনুযায়ী জমির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাইদ মো. মঞ্জুর আলম বলেন, তেরখাদা তেরখাদা কোলা পাটগাতি মৌজায় প্রস্তাবিত প্রায় পাঁচশ’ একর জমির মধ্যে সরকারি খাস জমি রয়েছে ২৫৬ একর। ব্যক্তি মালিকানাধীন বাকি প্রায় ২৬১ একর জমির মালিকানা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে ১২৮৩টি। ওই জমিটি ছিল মূলত জমিদারি সম্পত্তি। সেই জমি সরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ মামলা এখনই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে ওই জমি অধিগ্রহণে আপাতত কোন সম্ভাবনা নেই। জটিলতা কাটলে তেরখাদার ওই জমির প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।  অপরদিকে বটিয়াঘাটা উপজেলায় জোন গড়ে তুলতে জমির পরিমাণ প্রায় আটশ’ একর। এরমধ্যে সরকারি খাস জমি রয়েছে ২৮৩ একর। বাকি পাঁচশ’ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ওই জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।  সেটা অনুমোদন হয়ে আসলে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে জমি অধিগ্রহণ বিষয়ে অর্থ ছাড় দেয়া হবে। সেখান থেকে অর্থ ছাড় হলে তবেই জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এ সংক্রান্ত কাজ প্রায় শেষের পথে। জেলা প্রশাসনের এলএ শাখাকে সে মোতাবেক নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান বলেন, খুলনার দু’টি অর্থনৈতিক জোন স্থাপন প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রাথমিক অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ