মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০
Online Edition

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক ফয়সালের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

শরীয়তপুর সংবাদদাতা: নেপালের কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বিমানের যাত্রী বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ ফয়সালের শরীয়তপুরের ডামুড্যায় গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় বাতাশ ভারী হয়ে উঠছে। ফয়সালের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকে শত শত লোকজন সোমবার গভীর রাত থেকেই তার বাড়ীতে ভিড় জমাচ্ছে। আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার লোকজন কোন ভাবেই ফয়সালের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না। এ শোক যেন সহ্য করার মত নয়। যারা ফয়সারের পরিবারের সদস্যদের সান্ত¦Íনা দিচ্ছেন তারাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।
সরেজমিনে জানা যায়, শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভার দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামের সামসুদ্দিন সরদার ও মোসাম্মৎ সামসুন্নাহার বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল আহমেদ (৩০)। পাঁচ ভাই বোনের মধ্য সে দ্বিতীয়। ২০০৪ সালে ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করার পর ঢাকা তিতুমির কলেজে এইচএসসি এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স সম্পন্ন করে ফয়সাল। ব্যক্তিজীবনে সে অবিবাহিত। ফয়সাল বৈশাখি টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিল। ঢাকার ধানমন্ডি ১৫ নম্বরে বড় বোন শিউলী আক্তারের বাসায় থাকতো সে। গ্রামের বাড়িতে খুব কম যেতো ফয়সাল। সর্বশেষ গত ৮/৯ মাস আগে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গ্রামে এসেছিল ফয়সাল। গত সোমবার তিনি অফিস থেকে ৫দিনের ছুটি নিয়ে নেপালে যান। যাওয়ার প্রাককালে সে তার বড় বোন শিউলি বেগম কে বলে যান ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন। এটাই পরিবারের কারো সাথে ফয়সালের শেষ কথা ছিল। তবে গ্রামের বাড়িতে থাকা তার মা সামসুন্নাহার বাবা সামসুদ্দিন সরদার ছোট ভাই রাকিব কাউকেই জানায়নি সে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। তিনি সোমবার দুপুরে বিমান দুর্ঘটনায় প্রথমে নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ আসে। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফয়সাল ঐ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ফয়সালের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকে শত শত লোকজন সোমবার গভীর রাত থেকেই তার বাড়ীতে ভিড় জমাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ