মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা চালের দাম এখনো অস্বাভাবিক

স্টাফ রিপোর্টার: নিত্যপণ্যের বাজারে এখনো অস্থিরতা চলছেই। বাজারে চালের দাম এখনো অস্বাভাবিক। দফায় দফায় চালের দাম বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সরু চাল। আর মোটা চালও বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৭ টাকা কেজি দরে। নতুন ধান উঠার আগে চালের দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এদিকে শশা, পটল, লেবু ও বেগুনসহ কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে। এছাড়া পেয়াঁজসহ অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক বছরে সরু চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১৪ টাকা। ৬০ টাকার কমে বাজারে সরু চাল পাওয়া যাচ্ছে না। আর মোটা চাল বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ থেকে ৪৭ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি সকল প্রকার চালের দাম কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন ধান আসার আগ পর্যন্ত চালের দাম কমার কোন সম্ভাবনা দেখছে না ব্যবসায়ীরা।
ভোক্তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের মনিটরিং ও অভিযান জোরদার করার জন্য দাবি জানিয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে না। বাজার তদারকি জোরদার করা নিয়ে খোদ সরকারের বৈঠকেই উঠে এসেছে অভিযানের দুর্বলতার কথা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরুর আগে বাজারের নাম ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই সতর্ক হয়ে যায়। অভিযানের ফলে কোন লাভ হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালত যাওয়ার পরই বেশির ভাগ দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতিকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করে অভিযান জোরদার করার জন্য ভোক্তাদের দাবি।
ব্যবসায়ীরা জানান, সব ধরনের চালের সব ধরনের চালের দামই বাড়তি। চালের আমদানি মূল্যও বেড়েছে। বাড়তি মূল্যে আমদানি করা এ চাল স্থানীয় বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া দেশে মজুদ ধানের সংকট রয়েছে। তাই চালের দাম কমতে এবার বোরো মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান তারা। রাজধানীর বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ভালো মানের নাজির ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। আর মধ্যম মানে নাজির ও মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকা কেজি। মধ্যম মানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫৬ টাকা। মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৬ টাকা কেজি।
এদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) দৈনিক বাজার দরের তালিকায় চালের দাম বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে। এতে দেখা গেছে, সরু চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যা এক মাস আগে ৫৮ থেকে ৬৮ টাকা ছিল। মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৩.১৭ শতাংশ। অন্যদিকে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৬ টাকা কেজি। এ ছাড়া গত এক বছরে সরু চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৪ টাকা। মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৫ ও নাজিরশাইল ১৫-১৬ টাকা।
এদিকে কাচাঁবাজারে দেখা যায়, শশা, লেবু, পটলসহ কয়েকটি সবজির দাম বাড়তি। শশা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। লেবুর হালি ৪০ টাকা আর পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা। টমেটোর দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে কাঁচামরিচের পাশাপাশি বেগুন, শিম, গাজর, ফুলকপি, পাতাকপি, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, করলা, মটরশুটি, লাল শাক, পালং শাক, লাউ শাকসহ অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাজার ভেদে এসব সবজির দাম কম বেশী হয়ে থাকে। দাম অপরিবর্তীত রয়েছে বয়লার মুরগি, গরু ও খাসির গোশতের। তবে কমেছে ডিমের দাম। খুচরা বাজারে প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা দরে। কিন্তু খামারীরা বিক্রি করছে ১৮ থেকে ২০ টাকা হালি।
ডিমের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের কবলে পড়েছেন ডিম উৎপাদনকারী খামারিরা। শীতের মৌসুম শেষ হওয়ায় ডিমের চাহিদা কমেছে। অন্যদিকে একই সময়ে ডিমের উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ডিমের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে ডিমের দাম কমছে। একইসঙ্গে কমেছে মুরগির গোশতের দামও। তবে মুরগির বাচ্চার দাম কমেনি। আগের মতোই উচ্চ দামে কিনতে হচ্ছে মুরগির খাবার ও ওষুধ। মুরগির খামারে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। আর সে কারণেই লোকসান গুণতে হচ্ছে ডিম উৎপাদনকারী খামারিদের।
খামারিরা বলছেন, এই মুহূর্তে মুরগি পালনের আনুষাঙ্গিক ব্যয় কমাতে না পারলে লোকসান ঠেকাতে খামার বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা থাকবে না তাদের সামনে। ডিম ও মুরগীর গোশতের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাচ্চা ও ওষুধের দাম কমলে ক্ষতি হতো না বলে মনে করছেন তারা। কিন্তু ডিম উৎপাদনকারী মুরগির একদিনের বাচ্চা উৎপাদনকারী হ্যাচারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে বেশি দামে বাচ্চা বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করছেন তারা।
এদিকে বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, ফুলকপি আকারভেদে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, শসা প্রতিকেজি ৫০-৬০ টাকা, পেপে ২৫ টাকা, সিম ৪০ টাকা, বেগুন (কালো) ৪০, বেগুন (সাদা) ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা এবং মটরশুটি ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। আদা ও রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি।
মাছের বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি রুই মাছ ২৩০-২৮০, কাতল ২২০-২৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১২০ থেকে ১৫০, সিলভারকার্প ১৫০, তেলাপিয়া ১৮০, শিং ও মাগুর মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে। প্রতি কেজি টেংরা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, বাটা মাছ কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়া সাগরের মাছের মধ্যে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম সাইজের প্রতি কেজি ইলিশ ৮০০ টাকা, কোরাল প্রতি কেজি ৪০০-৫০০, রূপচান্দা আকারভেদে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে গরুর গোশত ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, খাসি ৭০০-৭৫০, ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা, দেশি মুরগি ২৫০-৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ