বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আজ শ্রীলংকাকে হারিয়ে ফাইনালে খেলতে চায় বাংলাদেশ

 

স্পোর্টস রিপোর্টার : নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। টুর্নামেন্টের পঞ্চম ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারায় ভারত। ম্যাচে জিততে পারত বাংলাদেশও। কিন্তু জয়ের জন্য ১৭৭ রানের টার্গেট পেয়েও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ভারতকে হারাতে পারলে বাংলাদেশেরও ফাইনালে খেলার পথ অনেকটা সহজ হয়ে যেত। তবে ভারতের কাছে হেরে বাংলাদেশের ফাইনালের পথ বন্ধ হয়নি। তবে ফাইনালে খেলতে হলে আজ শ্রীলংকাকে হারাতে হবে। আর শ্রীলংকার কাছে বাংলাদেশ হারলে ফাইনালে খেলবে স্বাগতিক শ্রীলংকাই। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

 বাংলাদেশ-ষ্রীলংকা লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ হলেও এটি রুপ নিয়েছে অলিখিত সেমিফাইনালে। কারণ এ ম্যাচের বিজয়ী দল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার টিকিট পাবে। ডাবল লিগ পদ্ধতি টুর্নামেন্টের ৪ ম্যাচের ৩টিতে জিতে ফাইনালে উঠেছে  ভারত। তবে ৩টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ১টি করে জয়ের স্বাদ পেয়েছে শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ। তাই ফাইনালে উঠার জন্য লিগ পর্বের শেষ ম্যাচের লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে শ্রীলংকা ও বাংলাদেশকে। তবে ফাইনালের টিকিট পাবার আগে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। অবশ্যই প্রথম কারণ হলো- নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের স্কোয়াডে যোগদান। গেল জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আঙ্গুলের ইনজুরিতে পড়েন সাকিব। 

এরপর থেকেই মাঠের বাইরে তিনি। তার উপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের সাহস অনেকখানি বাড়িয়ে  দেবে। বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসী হবার আরও একটি কারণ আছে। চলমান টুর্নামেন্টে লিগের প্রথম পর্বে শ্রীলংকাকে ধরাশায়ী করে টাইগাররা। শ্রীলংকার ছুড়ে দেয়া ২১৫ রানের বিশাল টার্গেট দাপট দেখিয়েই স্পর্শ করে বাংলাদেশ। ভারতের কাছে হারলেও শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচে ঘুড়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘ বোলারদের আরও ভালো করার প্রয়োজন ছিলো, কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। শুরুতে উইকেট হারিয়ে আমরা ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ি। তবে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচে আমরা শক্তভাবে ফিরে আসবো।’  লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে  বাংলাদেশকে  সমীহ করেই মাঠে নামতে হচ্ছে শ্রীলংকাকে। তবে তাদের দু:সংবাদ নিষেধাজ্ঞার কারণে এ ম্যাচে খেরতে পারছেনা  দলটির নিয়মিত  অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল।  কলম্বোতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,‘ সে (সাকিব) যদি খেলার মত যথেষ্ঠ ফিট থাকে তবে তার মত বিশ্বমানের ও মেধাবী  খেলোয়াড়কে  অবশ্যই আমাদের বিচেনা করতে হবে।

 বুধবার ফাইনাল নিশ্চিতের ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করে ভারত ৩ উইকেটে করে ১৭৬ রান। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ছিল ১৭৭ রান। বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৫৯ রান করলে ভারত ১৭ রানে জয়ী হয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। ব্যাট করতে নেমে ভারতের দুই ওপেনার অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান প্রথম থেকেই দ্রুত রান নিতে চেস্টা করেন। আর  পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৪৯ রান যোগ করেন এ জুটি । দলীয় ৭০ রানে ধাওয়ানকে হারিয়ে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। ভারতের পতন হওয়া উইকেটটি নেন বাংলাদেশের ডান-হাতি পেসার রুবেল হোসেন। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২৭ বলে ৩৫ রান। তার ইনিংসে ৫টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। ধাওয়ানের বিদায়ে উইকেটে রোহিতের সঙ্গী হবার সুযোগ পান সুরেশ রায়না। 

এরই মধ্যে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন  রোহিত। তবে রান তোলা থেকে ভারতের দুই ব্যাটসম্যানকে বেশিক্ষণ দমিয়ে রাখতে পারেননি বাংলাদেশের  বোলাররা। জুটিতে মাত্র ৫৬ বলে ১০২ রান যোগ করেন রোহিত ও রায়না। তাদের জুটির কল্যানে ভালো স্কোর গড়ার পথ পেয়ে যায় ভারত। ১৯ ওভার শেষে এই জুটির কল্যাণে ১৭২ রানে পৌঁছে যায় ভারত। শেষ ওভারের প্রথম বলে রায়নাকে আউট করেন রুবেল। ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩০ বলে ৪৭ রান করেন রায়না। রায়না ফিরলেও সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ছিলেন রোহিত। কিন্তু রুবেল সেঞ্চুরি পেতে দেননি রোহিতকে। ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হবার আগে ৮৯ রান করেন রোহিত। ৬১ বল মোকাবেলায় ৫টি করে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি মারেন  রোহিত। আর ২ রানে অপরাজিত ছিলেন দিনেশ কার্তিক। ফলে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান করে ভারত। রুবেল নেন ২ উইকেট। জয়ের জন্য ১৭৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটাই ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১২ রানে ওয়াশিংটন সুন্দরকে অহেতুক উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে ৭ রানে আউট হন লিটন দাস। লিটনের বিদায়ে ব্যাট করতে নেমে মোটেও ভালো করতে পারেনি সৌম্য সরকার। ৩ বলে ১ রান করে বোল্ড হয় তিনি।   সৌম্যর বিদায়ের পর থামতে হয় ওপেনার তামিমকেও।

 সুন্দরের বলে বোল্ড হন তিনি। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৯ বলে ২৭ রান করে তামিম আউট হন।  ফলে ৪০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলকে এগিয়ে নিতে হাল ধরতে চেয়েছিলেন রিয়াদ। ২টি বাউন্ডারিতে নিজের ইনিংস শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে ৮ বলে ১১ রান করেন তিনি। তার বিদায়ে ১০ ওভার  শেষে ৪ উইকেটে ৬৪ রান করতে পারে বাংলাদেশ। রিয়াদ আউট হলেও হাল ছাড়েননি বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান আগের ম্যাচের হিরো মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান। 

ভারতীয় বোলারদের উপর চড়াও হন মুশফিক ও সাব্বির। ফলে ১৫ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১১৬ রানে পৌছে যায় বাংলাদেশ। এই জুটিতে ৪৮ বলে ৬৫ রান যোগ করেন মুশফিক ও সাব্বির। জয়ের জন্য  শেষ ৩০ বলে ৬১ রান দরকার পড়ে টাইগারদের। কিন্তু দলীয় ১২৬ রানে সাব্বিরের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২৩ বলে ২৭ রান করে ফিরেন তিনি। এতে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।  শেষদিকে বাংলাদেশকে আর জয়ের স্বাদ দিতে পারেননি মুশফিক। কারণ ৬ উইকেটে ১৫৯ রানে থামে বাংলাদেশের স্কোর।  ফলে ভারত জয় পায় ১৭ রানে।  ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৫৫ বলে ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর। তার ইনিংসে ৮টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন তিনি। ভারতের সুন্দর ২২ রানে ৩ উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : 

ভারত-----১৭৬/৩ (২০ ওভার)

বাংলাদেশ----১৫৯/৫ (২০ ওভার)

ভারত ১৭ রানে জয়ী। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ