মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সিরিয়ায় হতাহতদের ৪০ শতাংশই শিশু-----ইউনিসেফ

১৩ মার্চ, আলজাজিরা, পার্সটুডে : সিরিয়ায় হতাহতদের ৪০ শতাংশই শিশু বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের পরিচালক গির্ট কাপলার বলেছেন, সিরিয়ার শিশুরা মারাত্মক বিপদের মধ্যে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে অবিস্ফোরিত বোমা ও মাইনগুলোও তাদের জীবন কেড়ে নিতে পারে অথবা চিরদিনের জন্য তাদেরকে পঙ্গু করে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেছেন, সিরিয়ায় বর্তমানে ৩০ লাখ শিশু অবিস্ফোরিত বোমা ও মাইনের বিপদের মধ্যে রয়েছে। এসব শিশু এমন সব এলাকায় বাস করে যেখানে সন্ত্রাসীরা বোমা ও মাইন পেতে রেখেছে। 

সিরিয়ার সরকারি বাহিনী যেসব এলাকা উদ্ধার করেছে সেখানে বোমা ও মাইন নিষ্ক্রীয় করার কাজ শুরু হলেও তাতে বিপদ পুরোপুরি কাটছে না। কারণ সন্ত্রাসীরা আবাসিক এলাকা, পার্ক, গাড়ি এমনকি শিশুদের খেলনার মধ্যেও বিস্ফোরক পেতে রেখেছে।

২০১১ সাল থেকে বিদেশি মদদে সিরিয়ায় সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের কারণে পাশ্চাত্য তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এদিকে সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ঘৌতার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে সেখানে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেবে বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এমন ঘোষণার পর নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর কাছে ঘৌতার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তার আহ্বান জানান গুতেরেস।

গত সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সিরিয়া ইস্যু নিয়ে কথা বলেন অ্যান্তনিও গুতেরেস। গত মাসের ১৮ তারিখ থেকে বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সেখানে দফায় দফায় বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। ২০১৩ সাল থেকে এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহীরা।

প্রায় এক মাস ধরে চলা দফায় দফায় বিমান হামলায় ১ হাজার ২২ জন বেসামরিক নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৪ হাজার ৩৭৮ জন। এদের মধ্যে ২২৭ জন শিশু এবং ১৪৫ জন নারী।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দেয়া এক ভাষণে গুতেরেস বলেন, আমি তাদের প্রতি খুবই হতাশ যারা সিরিয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে বা এতে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, এখন আমাদের একটি মাত্র এজেন্ডা থাকা দরকার। সেটা হচ্ছে সিরীয় জনগণের দুর্ভোগ বন্ধ করা এবং এই সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান বের করা।

সংঘাতের কারণে সিরিয়ার প্রায় ৪ লাখ বাসিন্দা খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সেখানে ত্রাণ সামগ্রীর গাড়িবহর ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। আর ত্রাণবাহী গাড়ি ঢুকলেও তাদের কার্যক্রম ব্যহত করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন গুতেরেস।

এদিকে সিরিয়ার সরকারি সৈন্যরা বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব গৌতা থেকে যেসব বেসামরিক নাগরিককে সেখানের উপকণ্ঠের একটি আশ্রয় শিবিরে সরিয়ে নিয়েছে তারা ছেড়ে আসা তাদের আপনজনের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তিন সপ্তাহের বেশি আগে সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের ওপর ব্যাপক হামলা শুরু করে। বর্তমানে সরকারি সৈন্যরা পূর্ব গৌতার ভিতরের দিকে ধীরস্থিরভাবে অগ্রসর হচ্ছে। সোমবার সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকা দাউইরে আশ্রয় নেয়া রিমা শেখ (৪০) বলেন, তার মেয়ে এখনো পূর্ব গৌতায় রয়ে গেছে। তিনি তার মেয়ের জন্য উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, ‘এক মাস ধরে আমি আমার মেয়েকে দেখিনা।’

সৈন্যরা তাকেসহ তার স্বামী ও অপর চার সন্তানকে গোলযোগপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে এনেছে।

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে যেখানে থাকত সেখানে গিয়ে আমরা তাকে খুঁজেছি। কিন্তু সে আগেই তার স্বামীর সঙ্গে স্থানটি ছেড়ে চলে গেছে।’ দাউইরে তার সঙ্গে আরো ১৬টি পরিবার বাস করতো। সেন্যরা ওই এলাকার পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর শনিবার থেকে ৭৬ ব্যক্তি মিসরাবা থেকে আশ্রয় শিবির কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

সাত বছর আগে এই কেন্দ্রটি একটি খেলার মাঠ ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ