শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেননি চেম্বার আদালত

# কুমিল্লার মামলায় জামিন ছাড়া মুক্তি পাবেন না -এটর্নি জেনারেল
# জামিন ঠেকাতে সরকার ও দুদক একাকার হয়ে গেছে -জয়নুল আবেদীন
স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেননি চেম্বার বিচারপতির আদালত। গতকাল জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্র ও দুদকের করা পৃথক আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকার এক ও দুই নাম্বারে রাখা হয়েছে। সকাল নয়টায় এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার বিএনপি চেয়ারপার্সনকে চার মাসের অন্তর্র্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী চার মাসের মধ্যে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন আদালত। হাইকোর্টের এই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার চেম্বার আদালতে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ।
এ মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। কারান্তরীণ হওয়ার ৩৫ তম দিনে তার জামিনের বিষয়টি চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য আপিল বিভাগে উপস্থাপন হচ্ছে আজ। মঙ্গলবার চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। এদিকে গতকাল বিকেলে খালেদা জিয়াকে দেয়া জামিন আদেশে সই করেছেন সংশ্লিষ্ট বিচারপতিরা। পরে আদেশের কপি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাইকোর্ট বিভাগের আদান প্রদান সেকশনের অফিস সহায়ক তাইজুদ্দিন এ আদেশ নিয়ে যান। এদিকে আজ আপিল শুনানির আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়েও গতকাল চেম্বার বিচারপতির কাছে আবেদন করেছিলেন এটর্নি জেনারেল। তবে আদালত তা মঞ্জুর করেননি বলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান সংগ্রামকে জানিয়েছেন।
এ মামলায় আপিলে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল থাকলে তিনি কারামুক্ত হতে পারবেন কি না জানতে চাইলে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লায় গাড়ি  পোড়ানোর মামলায় কাস্টডি ওয়ারেন্ট দেয়া আছে। সেই মামলায় তিনি জেলে আছেন ধরতে হবে। কাজেই ওই মামলাতে জামিন না নিয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
আদালতের শুনানিতে কি বলেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতে আমি বলেছি খালেদা জিয়ার ১০ বছর সাজা হওয়া মর্মে নিম্ন আদালত মত দিয়েছেন। কিন্তু পাঁচ বছর করা হয়েছে তার বয়সের কথা বিবেচনা করে। আমি বলেছি যেহেতু এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিম্ন আদালত দ- কমিয়ে দিয়েছেন, সাজা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং জামিন শুনানির ক্ষেত্রে একই বিষয় পুনরায় বিবেচনা করার কোনো সুযোগ  নেই। এখন আপিল শুনানি হবে। আপিল শুনানিতে যদি দেখা যায় ওনার বিরুদ্ধে মামলা টিকে না তাহলে ওনি খালাস পাবেন। আর যদি দেখা যায় ঠিক মতোই বিচার করা হয়েছে। তাহলে উনি জেলেই থাকবেন।
অন্যদিকে চেম্বার আদালতে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল যা বলেছেন তার সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী এডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, জামিন ঠেকাতে সরকার এবং দুদক একাকার হয়ে গেছে। চেম্বার জজে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ একইরকম শুনানি করেছে। আদালত হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত না করে তাদের আপিল দু’টি শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন। খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ দিন কারাগারে রাখার জন্যই আপিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানিতে এটর্নি জেনারেল যা বলেছেন, সেসব কথা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল হিসেবে যেভাবে তার শুনানি করার কথা তেমন শুনানি তিনি করেননি। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে খালেদা জিয়াকে আরো দীর্ঘদিন কারাগারে রাখার মতো করে শুনানি করেছেন এটর্নি জেনারেল। আমাদের পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়েছে, তিনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। আমরা আদালতকে বলেছি, খালেদা জিয়া একটি টাকাও আত্মসাৎ করেননি। ছয় কোটি টাকা এখনো ব্যাংকে জমা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সত্য নয়।
শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট আব্দুর রেজাক খান, সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, ব্যারিস্টার বদরোদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান, এডভোকেট সগির হোসেন লিওনসহ বিপুল সংখ্যক আইনজীবী।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত সোমবার বিএনপি চেয়ারপার্সন  বেগম খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন  দেন হাইকোর্ট। ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার বয়স, শারীরিক অসুস্থতা, সাজার মেয়াদ, নিয়মিত বিচারিক আদালতে হাজিরা, মামলার পেপারবুক এখনো প্রস্তুত না হওয়াসহ বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে এই জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় ৩২টি আইনগত যুক্তি তুলে ধরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার জামিন  চেয়ে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারিক আদালতের দ-ও স্থগিত চাওয়া হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেয়া জরিমানার আদেশও স্থগিত করা হয়। এদিন আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য রাখেন আদালত। আদেশে এ মামলায় বিচারিক আদালতের নথি তলব করে ১৫ দিনের মধ্যে তা হাইকোর্টে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়। এদিন শুনানি শেষে আদালত বলেন বিচারিক আদালতের নথি আসার পর আদেশ দেয়া হবে। ১১ মার্চ খালেদা জিয়ার মামলার নথি বিচারিক আদালত থেকে হাইকোর্টে  পৌঁছায়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেন। একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় জনের সবাইকে মোট দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদ-ে দ-িত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ