বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কাকে কোন মামলায় দিবে এ দায়িত্ব কি সরকারের?

খান মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী : যখন প্রাইমারী স্কুলে পড়তাম সে-সময় আমাদের বাংলা বইতে একটি গল্প ছিলো এমন, রাজা তার উজিরকে জিজ্ঞেস করলো “এ শহরে কতটা কাক আছে তা কি বলতে পারবেন?” উজির বললো “হুজুর এটা একেবারেই সহজ। এ শহরে নয় লক্ষ, নিরানব্বই হাজার, নয়শত নিরানব্বইটি কাক রয়েছে।” রাজা বললেন “ঠিক তো?” উজির বললো হুজুর বিশ্বাস না হয় গুণে দেখুন। আর গোনার পর যদি দেখেন এর চেয়ে কম হয় তাহলে মনে করবেন অন্য শহরে বেড়াতে গিয়েছে। যদি বেশি হয় তবে মনে করবেন অন্য শহর থেকে বেড়াতে এসেছে। এমন ফর্মুলা দেওয়া হলে আর কোন ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে না। আমাদের বর্তমান সরকার ঠিক এমন ফর্মুলায় বিশ্বাসী। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার সময় বললেন, “এটা আদালতের ব্যাপার এ বিষয়ে আমাদের কোন বক্তব্য নেই।” যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় বললেন “আইনের মধ্য দিয়েই সব হচ্ছে এখানে সরকারের কিছু করার নেই।” আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন “আমাকে জাতিসংঘের মহাসচিব ফোন করেছেন, জনকেরী ফোন করেছেন যেনো কাদের মোল্লার ফাঁসি না দেই। আমি কারো কথাই শুনি নাই। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলে এটা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে।” আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যদি নিরপেক্ষ হয়। বিচার ব্যবস্থায় যদি সরকারের কোন হাত না থাকে তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলা উচিত ছিলো “আমি তাদের বলেছি এটা আদালতের ব্যাপার। তা না বলে তিনি বললেন, “আমি কারো কথা শুনি নাই।” এর অর্থ কাদের মোল্লার ফাঁসি দিয়েছি। বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে মাহবুবুল আলম হানিফ কয়েক বছর আগে বলেছিলেন, “প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়া হবে।” সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় হওয়ার পূর্বেই এরশাদ সাহেব বললেন, “খালেদা জিয়ার সাঁজা হয়ে যাবে।” আর সরকার রায়ের পূর্বেই জেলখানা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখলো। এতে কি বুজা যায়? সব কিছু পরিকল্পিত নয়? অথচ সেতু মন্ত্রী বলেন, “রায় কি হবে সেটা আদালতের ব্যাপার। সরকার খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেয়া বা মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে কোন ভূমিকা পালন করে না”। ঐ যে কতগুলো কাক আছে? সে উত্তরের কোন ফাঁক ফোকর নেই। যদি কাক বেশি হয় তবে বেড়াতে এসেছে, আর যদি কম হয় তবে বেড়াতে গিয়েছে। আওয়ামী লীগ এর বক্তব্য শুনে বা আচরণ দেখে মানুষ হতভম্ব। জনগণের গান গাইতে ইচ্ছে হয় “আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়াও করিতে পারি না চিৎকার। বুকের ব্যথা বুকে চেপে রেখে নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার।” জনগণের হৃদয় আর বুক ফেটে গেলে তাদের কি আসে যায়? কিছু আসে যায় না বলেই আওয়ামী লীগ এর সুপার হিট নেতা। তিনি কথা বলার সময় অবশ্য কাউকেই ছেড়ে দেন না। মাননীয় অর্থমন্ত্রী বয়সের ভারে কখন কি বলে ফেলেন, তাই তিনি বলেছিলেন ব্যাংকে ‘এক লক্ষ টাকা থাকলেই সে বড় লোক’। ব্যাংকের টাকা আত্মসাত ও চুরির পর বলেছিলেন ঐ টাকা কোন টাকাই নয়। হলমার্ক দুর্নীতির সময় বলেছিলেন এটা সামান্য।” এ বিষয় জনাব শেখ সেলিম মহান সংসদে বলেছিলেন “অর্থমন্ত্রীকে এত মাতুববারী করতে কে বলেছেন? যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকে এক লক্ষ টাকার ট্যাক্স নিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সেখানে আপনি কেন মাতুব্বারী করছেন।” সাহসের বিভিন্ন দিক আছে যেমন মরহুম মেয়র আনিসুল হক তেজগাঁও এ ট্রাক মালিক আর ড্রাইভারদের দ্বারা বন্দি হওয়ার পরও মাথা নত করেননি সাহসিকতার সাথে বলে দিয়েছেন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ নিয়েই আমি নেমেছি।” আবার জনাব সোহেল তাজ কারো চাটুকারিতা বা মাথা নত করায় বিশ্বাসী ছিলেন না। বাপের বেটা বাপের সম্মানের কথা চিন্তা করেই বলে দিয়েছেন আমার মন্ত্রীত্বের দরকার নেই। আমি যার সন্তান এটাই আমার বড় গর্ব।” এ ব্যক্তি মন্ত্রীত্বের সময় সে সম্মানি পেয়েছেন তাও নেননি। এসব আমার মূল কথা নয় আমি যে বিষয়টি বলতে চাই। আমাদের সরকার সব সময় বলে থাকেন “কাকে অপরাধী বলে গণ্য করা হবে সেটা আদালতের বিষয়। সে নিয়মে জনাব শেখ সেলিম মহান সংসদে বলতে পারতেন খালেদা জিয়াকে কোথায় রাখা হবে ডিভিশন দেওয়া হবে কিনা এটা জেল কোড অনুযায়ী জেল সুপার করবেন এটা তার কাজ, সরকারের এখানে কিছু করার নেই। অথচ জনাব শেখ সেলিম বললেন, “খালেদা জিয়ার জন্য পুরা একটি জেলখানা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এখন কি তাকে ফাইভস্টার হোটেলে রাখা হবে? দুর্নীতি করে জেলে গেছেন। আমি বরং সরকারকে অনুরোধ করবো তাকে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার আসামী করা যায় কি না, ভেবে দেখবেন।” দেশের সচেতন সমাজ যদি একটু চিন্তা করে দেখেন তবেই বোঝা যাবে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার আসামী করা যায় কিনা? এ কথার অর্থ কি? তবে কি সরকার যখন যাকে যে মামলায় আসামী করতে চায় তাই করবে এমনটি নয়? জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে রামপুরায় গাড়ি ভাঙ্গা মামলার আসামী করা হয়েছিল, গাজীপুরের মেয়র মান্নান সাহেবকে জামিন দিয়ে জেল গেট থেকেই আবার গাড়ি ভাঙ্গা মামলার আসামী করে পুনরায় জেলে নেওয়া হয়েছে। মনে হয় তিনি জেলে বসেই গাড়ি ভাঙ্গার হুকুম দিয়েছেন, প্রকৃতপক্ষে এ সরকারের সমালোচনা বা সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ কোন দল করলেই মামলার কোন শেষ নেই। সেটার জন্য ক্ষেত্র তৈরিতে এ সরকারে জুড়ি নেই। এখন আবার ডিজিটাল মিডিয়া, ধর্মীয় চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কথা প্রমাণিত হলেই বিশাল শাস্তির ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। যাবে কোথায়? হয় আওয়ামী লীগ করো না হয় মামলার আসামী হওয়ার জন্য তৈরি হও। ক্ষেত্র তৈরি আছে ঐ যে বললাম কাক বেশি হলে বেড়াতে এসেছে আর কম হলে বেড়াতে গেছে। ঠিক হয় গাড়ি ভাঙ্গা না হয় ধর্মীয় চেতনা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী অথবা সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র কোন না কোন মামলার আসামী করা। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে আর কি করার আদালত অবমাননা কিছু একটা হবে কোন সমস্যা নেই মামলার জন্য জনগণকে তৈরি থাকতে হবে। যেহেতু মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শেখ সেলিম বলতে পারেন তাকে গ্রেনেড হামলা মামলার আসামী করা যায় কি না সরকারকে ভেবে দেখার জন্য বলবো। আমি জানি না এতে আইনের লোকের আইন বিরোধী বক্তব্য হলো কি না, এটা বিজ্ঞ লোকেরা ভেবে দেখতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ