বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জীবননগরে রেলের কোটি টাকার  জমি দখলের অভিযোগ

জীবননগরের উথলীতে রেলওয়ের জমি দখল করে অবৈধভাবে দালানকোঠা নির্মাণ

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় দু’টি রেলওয়ে স্টেশনের কোটি টাকা জমি দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উহেঠছে। বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রেলের মূল্যবান এসব জমি দখল করে তার উপর অবৈধভাবে গড়ে তুলছেন বহু দোকানপাট ও দালানকোঠা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট রেল বিভাগ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। 

সংশ্লিষ্ট রেল সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার উথলী ও আনছারবাড়িয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন রেল বিভাগের প্রায় ৭৬ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে উথলী মৌজার ৩ নং খতিয়ানের ৬৩ একর ৫৪ শতক, সেনেরহুদা মৌজার ৩ নং খতিয়ানে ৩ একর ৫৬ শতক, মৃগমারী মৌজার ২ নং খতিয়ানে ৬ একর ৭৬ শতক ও কুমারীডাঙ্গা মৌজার ২ নং খতিয়ানে ২ একর ১১ শতক। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, উথলী রেলওয়ে স্টেশনের এক কর্মচারী জানায়, সরকারি কঠোর বিধি নিষেধ থাকা সত্ত্বেও এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা স্টেশনের আশপাশের রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ এসব জমি অবৈধভাবে দখল করে অর্ধশতেরও বেশি পাকা দোকানঘরসহ প্রায় ৩ শতাধিক স্থাপনা গড়ে তুলেছে। স্থানীয় দালাল চক্র বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী ভূ-সম্পত্তি কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগ সাজসে উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে নামকাওয়াস্তে লীজ ও ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব জমি দখল করছে এবং পরবর্তীতে অবৈধ দখলদাররা তাদের দখলীয় রেলওয়ের জমি অন্যত্র বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। রেলওয়ের জমিতে গুদামঘর নির্মাণকারী নাম প্রকশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, সম্প্রতি তিনি এলাকার প্রভাবশালী এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ শতক জমি ৫ লক্ষ টাকায় কিনেছেন। তিনি আরো জানান, ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে রেলওয়ের ১ একর জমি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রেল বিভাগের কর্মকর্তারা অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব দোকানপাট ও দালানকোঠা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করছে না। এ কারণে দখলদাররা আইনের তোয়াক্কা না করে রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে নির্ভয়ে দোকানপাট ও দালানকোঠা তৈরি করার সাহস পাচ্ছে। এ ব্যাপারে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) মোঃ ইউনুস আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রেলওয়ের জমি অবৈধ দখলের সত্যতার প্রমাণ পেলে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

এদিকে রেলের জমি বিক্রি করা সহ দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করায় সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্নের দানা বেধেছে। এলাকাবাসী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ