বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কারণ ছাড়াই বাড়ছে সিমেন্ট রডসহ নির্মাণ সামগ্রীর দাম

খুলনা অফিস : খুলনায় হঠাৎ করে বেড়ে গেছে রড, সিমেন্ট, ইটসহ সকল ধরনের নির্মাণ সামগ্রীর দাম। গত দুই মাসের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্যের দাম ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহ থেকে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে রডের বাজার। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে নির্মাণের অন্যতম এই উপকরণের দাম। পিছিয়ে নেই সিমেন্টও। ইটের দাম নাগালের বাইরে গেছে আরও আগে। হঠাৎ করে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়তে থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। অস্বাভাবিক দরের কারণে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন কাজ থমকে গেছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনের কাজও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করে রডের দাম বাড়াচ্ছে। দাম বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্রাপ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বিদেশে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেলে সেটি আমদানি করে পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করতে তিন থেকে চার মাস সময় প্রয়োজন। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে বাংলাদেশে দাম বাড়ার কথা আরও তিন মাস পর। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাস ধরে রড ও সিমেন্টের দাম দফায় দফায় বেড়েছে।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত উন্নয়ন কাজের মওসুম। সারা বছরের ৭৫ ভাগ উন্নয়ন কাজ এই ৬ মাসে হয়ে থাকে। এ সময়কে টার্গেট করে অতিমুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ী ও কোম্পানি পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। সরকারের কোনো নজরদারি না থাকায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন ব্রান্ডের রড গড়ে ৫৫ হাজার টাকা টন কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। দুই মাসের ব্যবধানে গতকাল রড বিক্রি হয়েছে গড়ে ৬৮ হাজার টাকা টন দরে। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসের প্রতি টন রডের দাম বেড়েছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। গতকাল খুলনার খুচরা বাজারে প্রতি টন একেএস রড সাড়ে ৬৮ হাজার, বিএসআরএম ৬৮ হাজার টাকা কেএসআরএম ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 

অন্যদিকে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন ব্রান্ডের সিমেন্ট ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ দেড় মাসের ব্যবধানে প্রতিবস্তায় পণ্যের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গতকাল খুলনার খুচরা বাজারে এলিফ্যান্ড ব্রান্ডের সিমেন্ট ৪০০, সেভেন রিং সিমেন্ট ৪০৫, ফাইভ রিং ৩৯৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কোম্পানি থেকে সিমেন্ট আনলে আরও কিছু কম করে আনা যাচ্ছে। 

ইটের ভাটাগুলো খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত নবেম্বর মাস থেকে ইটের দাম ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারি মাসে এই দাম আকাশ ছুঁয়েছে। বর্তমানে মেশিনে তৈরি ইট প্রতি হাজার সাড়ে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি পিস ইটের দাম পড়ছে ১০ টাকা। তিন মাস আগেও সাড়ে ৭ থেকে ৮ টাকা মূল্যে এসব ইট পাওয়া যেত। দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে খুলনার রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ীরা কোম্পানিগুলোকে দায়ী করেছেন।

রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কেএসআরএমের ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং ও বিক্রয়) আবদুল্লাহ আল মামুনুর রশিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্রাপের দাম বেড়েছে। দেশীয় কারখানায় গ্যাসের দাম বেড়েছে। এসব কারণে রডের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

কেসিসির ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহমেদ আশা বলেন, নির্মাণ সামগ্রীর ঊর্ধ্বগতির কারণে উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। ছোট ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি বলেন, পণ্যের নির্ধারিত দরে ঠিকাদারদের কাজ করতে হয়। বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে গেলে সবাই লোকসানের মুখে পড়ে। এখন হয় বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারকে তৎপর হতে হবে, অন্যথায় সিডিউল রেট পরিবর্তন করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ