বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কারাগারে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

গত ৬ মার্চ বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠান থেকে গ্রেফতার ছাত্রদল তেজগাঁও থানা সভাপতি জাকির হোসেন মিলন গতকাল সোমবার কারাগারে মারা যান (ইনসেটে জাকির) ও স্বজনদের আহাজারি -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : কারাগারে অসুস্থ হয়ে তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মিলন মারা গেছেন। বিএনপির অভিযোগ, নির্যাতন করে ছাত্রদল নেতাকে মেরে ফেলা হয়েছে। গত রোববার সকালে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কারারক্ষীরা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা জাকিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত ৬ মার্চ প্রেস ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ফেরার পথে শাহবাগ থানা পুলিশ জাকিরকে গ্রেফতার করে। তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। শনিবার (১০ মার্চ) রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৫ ডিসেম্বর সচিবালয় এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।
রিমান্ডে থাকা অবস্থায় পুলিশী নির্মম নির্যাতনে গুরুতর আহত জাকির হোসেন মিলনকে কারাগারে চিকিৎসা না দিয়ে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার অমানবিক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল এক শোকবাণীতে বলেন, পুলিশী নির্যাতনে গুরুতর আহতাবস্থায় চিকিৎসার অভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলন এর অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত হয়েছি। সরকার কর্তৃক ধারাবাহিকভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের, রিমান্ডে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন এবং কারান্তরীণের মাধ্যমে তাদেরকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ করে মৃত্যুপথের যাত্রী করা হচ্ছে।
বিএপি মহাসচিব বর্তমান শাসকগোষ্ঠী প্রতিহিংসার রাজনীতিতে এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, ন্যূনতম মানবিকবোধটুকুও তারা বিসর্জন দিয়ে দিয়েছে। বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা ও অসত্য মামলায় রিমান্ডে নিয়ে পুলিশের ব্যাপক নির্যাতন এবং কারাকর্তৃপক্ষ কর্তৃক কারান্তরীণ নেতাকর্মীদেরকে চিকিৎসা দিতে অবহেলার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। অব্যাহতভাবে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে গ্রেফতার করে কারান্তরীণ ও নির্যাতন না চালালে তাদের অবৈধ সরকার টিকে থাকবে না ভেবেই তারা উৎপীড়ণের পথ অবলম্বন করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এটি করার একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে বিরোধী দলগুলোর অস্তিত্ব মুছে ফেলে নিজেদের একচ্ছত্র স্বৈরাচারী শাসন টিকিয়ে রাখা। গণধিকৃত সরকারের চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যু বর্তমান নিষ্ঠুর শাসনের ধারাবাহিকতা। আমি মরহুম জাকির হোসেন মিলন এর রূহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ