শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনা মহানগরীর শামসুর রহমান রোডে নির্মিত হবে এডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার

খুলনা: নগরীর শামসুর রহমান রোডে নির্মিত হবে এডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার -সংগ্রাম

খুলনা অফিস : বহু কাক্সিক্ষত আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশন সেন্টার নির্মিত হলে প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ খুলনা নগরবাসীর সুযোগ সুবিধা বাড়বে। গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একনেক’র সভায় ‘খুলনা শহরে এডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হয়। গত ৩ মার্চ খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। খুলনার সদ্য সাবেক বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ এ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শহরের প্রাণকেন্দ্র টুটপাড়া মৌজার শামসুর রহমান রোডের সনাতন ধর্মীদের মন্দিরের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৬০৯৬ একর জমির উপর এই কনভেনশন সেন্টার নির্মিত হবে। ১৩ তলা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিকমানের এ কনভেনশন সেন্টারের জন্যে ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে ১২৮ কোটি ৯০ লাখ ৯২ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কনভেনশন সেন্টারটিতে প্রশিক্ষণ ও গবেষণ কেন্দ্র, লাইব্রেরি, দেশি-বিদেশি অতিথিদের আবাসিক থাকা-খাওয়ার সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এছাড়া কনভেনশন সেন্টারে থাকবে আন্তর্জাতিকমানের সম্মেলন, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম আয়োজনের সুব্যবস্থ। দৃষ্টি নন্দন ও শৈল্পিক নিদর্শনে স্থাপনাটি হবে খুলনা অঞ্চলের অদ্বিতীয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও খুলনার সাবেক বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ বলেন, ‘খুলনায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিজের খুব কষ্ট হতো, যে এতো বড় এলাকাতে আন্তর্জাতিকমানের কোন কনভেনশন সেন্টার নেই! আন্তর্জাতিক খেলা হচ্ছে, বিশ্ব ঐতিহ্যের সুন্দরবন ও পর্যটনের শিল্পে খ্যাতি আছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিপুল ক্ষেত্র রয়েছে, তবুও খুলনাতে কোন আন্তর্জাতিক সেমিনার করার স্থান নাই। সে জন্য চেষ্টা করেছি, খুলনা অঞ্চলের মানুষের জন্য কিছু করার। কিছু করতে পেরে নিজেকে খুব ধন্য মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী গত ৩ মার্চ শনিবার জনসভায় ভিক্ষুকমুক্ত খুলনা বিনির্মাণেও ভুয়সী প্রশংসা করেছেন, সে জন্যেও নিরসল কাজ করেছি। খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুকমুক্ত ধরে রাখতে বর্তমান বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে মনিটরিংয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, নগরীর শামসুর রহমান রোডস্থ সনাতন ধর্মীদের মন্দিরের বিপরীতে এই কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের জন্য জায়গাটি নির্ধারণ করেছিলাম। জায়গাটি নিয়ে নানা সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে। খুলনায় যোগদানের পর দুই বছর চেষ্টা করেছি। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে খুলনায় একটি আন্তর্জাতিকমানের কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের জন্য নিজেই প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করেছিলাম। এর মধ্যে পদোন্নতি পাওয়ায় খুলনা ছেড়ে চলে আসতে হয়, বর্তমান বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া প্রকল্পটি সফলভাবে মন্ত্রণালয়ের সভায় উপস্থাপন করেছিলেন। গত ৯ জানুয়ারি একনেক সভায় বাংলাদেশ এডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়, দিনটি ছিল আমার জীবনের বড় আনন্দের। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, এই কনভেনশন সেন্টারটি খুলনার নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এর জন্য সাবেক বিভাগীয় কমিশনার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় অনেক কাজ করেছেন। এছাড়া কনভেনশন সেন্টারের জন্য নির্ধারিত জায়গা নিয়ে অনেক মামলা- মোকাদ্দমাও হয়েছে। তারপরেও তিনি কঠোরভাবে সেগুলো মোকাবেলা করেন। এই কনভেনশন সেন্টার খুলনার নাগরিকদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। তবে সেন্টারের সামনের সড়কটি প্রশস্তকরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, এই কনভেনশন সেন্টারটি অনুমোদিত হওয়ায় খুলনাবাসী আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করছেন, এটা তার প্রমাণ পেল খুলনাবাসী। এছাড়া সেন্টারটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও আশা করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ